কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ২১:০৫ পিএম
এআইপি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন মতিন সৈকত। প্রবা ফটো
কৃষিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিআইপির সমমর্যাদায় (এগ্রিকালচারাল ইম্পর্টেন্ট পারসন) এআইপি প্রবর্তন করে সরকার। এআইপিরা সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এবার ২০২১ সালের এআইপি খেতাবে ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি, পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন সংগঠক এমএ মতিন (মতিন সৈকত)। তিনি চার দশক ধরে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে বৈপ্লবিক অবদান রাখছেন। কৃষি উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি বিভাগে মতিন সৈকতকে এআইপি সম্মাননা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৭ জুলাই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মতিন সৈকতসহ অনান্য এআইপিকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
মতিন সৈকত একজন বহুমুখী সৃজনশীল উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যবহার এবং সম্প্রসারণে অবদানের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী মতিন সৈকতকে দুবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মতিন সৈকত ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মতিন সৈকত নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মতিন সৈকত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তোলেন আপুসি, আপুবি, বিসমিল্লাহ, আদমপুর আদর্শ মৎস্য চাষ প্রকল্প।
প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষে দাউদকান্দি মডেল এবং নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম অংশীজন তিনি। সারা দেশে বোরো ধান উৎপাদন করতে সেচের পানির জন্য কৃষককে যখন ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ খরচ দিতে হয়, সেখানে মতিন সৈকত বিঘাপ্রতি এককালীন মৌসুমব্যাপী মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ত্রিশ বছর যাবৎ বোরো ধান লাগানো থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত যার যতবার সেচের পানির প্রয়োজন ততবারই সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
বোরো জমিতে ধান উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে বিঘাপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা মুনাফা পাচ্ছেন কৃষক। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার কালাডুমুর নদী পুনঃখনন করে। মতিন সৈকত খাল-নদী পুনঃখনন, জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্য প্রাণী, পাখি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘তিনি নিজ এলাকা দাউদকান্দি কুমিল্লায় ২০০৬ সালে ১০ হাজার কৃষক নিয়ে আইপিএম-আইসিএম ক্লাব গঠন করেন। তার এ উদ্যোগের ফলে ২০১৭ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।’
এআইপি খেতাব প্রাপ্তির বিষয়ে মতিন সৈকত বলেন, ‘কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। এই প্রাপ্তি আমাকে আরও দায়বদ্ধ করেছে।’