নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২২ ১৬:০৯ পিএম
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২ ১৭:১৫ পিএম
বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনারে অতিথিরা। ছবি : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনারে এ দাবি জানান তিনি।
মো. জসীম উদ্দিন বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশের দিকে লক্ষ রেখে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তোলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, 'বাংলাদেশ নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার গত ১০ বছরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখালেও বাংলাদেশ তার কিছুই পারেনি। এতেই গ্যাস সংকটের বৃত্তটা দিনকে দিন আরও বড় হচ্ছে। এ সংকট উত্তরণের একমাত্র সমাধান হতে পারে সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।'
আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হলো গ্যাস। শিল্প খাতে ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হলে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা যাবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সাশ্রয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের আওতায় আনারও আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি।
এ সময় এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড ইউটিলিটিসের সভাপতি বলেন, 'গ্যাস সরবরাহে ২০ শতাংশ সিস্টেম লস থাকে। এ সিস্টেম লস কমিয়ে আনা গেলে সব দিক থেকেই উপকৃত হবে দেশ। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসারে এ খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কহার কমানোর বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।'
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, 'গ্যাস-বিদ্যুৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। একটা শ্রেণি মানুষকে ভুল ব্যাখা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জ্বালানি সংকট সমাধানে আমরা কাজ করছি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। শত সমস্যার মাঝেও সরকার কারখানা চালু রাখার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। ব্যবসায়ীদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।'
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আরও বলেন, কিছু কারখানা আবাসিক এলাকায় হওয়ার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। শিগগিরই এটা সমন্বয় করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, 'কৃষি ও শিল্পকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার রেশনিং করছে। এতে আমাদের সাময়িক অসুবিধা হলেও দেশের স্বার্থে মেনে নিতে হবে। সমস্যা সমাধানে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।'
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ড. ইজাজ হোসেন।
/এইচকে/সাদিক