× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৪ ০৯:৫৬ এএম

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪ ০৯:৫৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহার পর আরও তেতে উঠেছে সবজির বাজার। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম একপ্রকার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে বলা যায়। শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজিরই দাম কিছু না কিছু বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজিতে। কোরবানির ঈদ গেলেও বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহজাদপুর ও মিরপুর-১ নম্বরের বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। 

ঈদের পর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। ঈদের আগে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ২৪০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া নিয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের পর কাঁচা মরিচের আমদানি কম। বুধবার পাইকারি বাজারে যে মরিচ ১৫০ টাকা কেজিতে কিনেছি বৃহস্পতিবার তা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে। তবে হাইব্রিড ও মানে কিছুটা খারাপÑ এ ধরনের মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়।

কোনো সবজিতেই নেই স্বস্তি

কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, ঈদের আগে ছিল ৪০ টাকা। গোল বেগুনের কেজি ১০০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ এবং পটোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঢেঁড়স ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ও বরবটি ৬০ টাকা ও করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আলু ৬০ ও দেশি আদা ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। 

শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদভাঙা বাজার, তারপরও প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। এখন মানুষ কোরবানির মাংসের পাশাপাশি সবজি খেতে চায়; কিন্তু দাম বেশি। 

কমেছে যেসব পণ্যের দাম

সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি মুরগি ছিল ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকায়। কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও। ঈদের আগে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজিতে। ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে ফার্মের সাদা ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা ডজন। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকায়। ফার্মের লাল ডিম ছিল ১৬৫ টাকা ডজন, গতকাল তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে ৯০ টাকাতেই। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ ও দেশি রসুন ২০০ টাকা কেজিতে। 

পাড়া-মহল্লায় ভ্যানগাড়িতে বিক্রি হওয়া সবজির দামও বেশি। গতকাল জুমার নামাজ শেষে তেজগাঁও নাখালপাড়া এলাকায় বিভিন্ন ভ্যানগাড়িতে করে সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজি কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

শাহজাদপুর বাজারে দেখা গেছে, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজিতে। প্রতি পিস লাউ ও চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। পটোল ৬০ থেকে ৮০, ঢেঁড়স ৫০, কাঁকরোল ১২০, বরবটি ও করল্লা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও শসা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

মিরপুর-১ নম্বরের বাজারে গতকাল টমেটো ও গাজরের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। শসার কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখির কেজি ১০০ টাকা, কাঁকরোল ও বেগুন মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।

বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সাপ্লাই কম। অনেক কৃষক ঈদের পর এখনেও কাজে ফেরেননি, সবজি তোলেননি। এ ছাড়া বন্যা ও বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সবজির ক্ষতি হয়েছে। দাম কিছুটা বেড়েছে এ কারণেও। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই দাম কমে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। 

তবে ক্রেতা মোশাররফ হোসেনের অভিযোগ, এটা তাদের (ব্যবসায়ীদের) অজুহাত, ঈদের আগে-পরে কাঁচা মরিচ, শসা ও টমেটোর বেশি চাহিদা থাকায় তারা দাম বাড়িয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির উচ্চ দামের কারণে অনেক মানুষ পরিমাণে কম করে কিনছেন। তাদের মধ্যে একজন রিকশাচালক মোহাম্মদ ইউসুফ আলি বলেন, গরিবের কোনো কথা নাই, বাজার খারাপ। প্রতিদিন রিকশা চালায়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা যা পাই তা দিয়া সংসার চলে না। সারা বাজার ঘুরে একটু খারাপ মানের সবজি কিনি। মাঝে মাঝে পচা ঢেঁড়স, কুমড়া বা পেঁপে নিয়ে যাই। 

সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ কুদ্দুস বলেন, কাঁচামালের দাম এত বাড়ছে, যার কারণে বিক্রি কমে গেছে। এক কেজি শসা দেড়শ টাকায় খাওয়া সম্ভব না, সাধারণ মানুষ কিনতে পারে না। 

শাক বিক্রেতা আব্দুস সত্তার বলেন, এখন ঈদভাঙা বাজার, তেমন ক্রেতা নাই। দামও একটু বেশি। লাউশাক ও পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাটাশাক ৩০ টাকা, লালশাক, পালংশাক ও পাটশাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা।

গরুর মাংসের দামও কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির পরপরই গরুর মাংসের দাম কেন বাড়ল এ সম্পর্কে জালাল গোস্ত বিতানের মাংস ব্যবসায়ী বলেন, কোরবানির পর পর্যাপ্ত গরু পাওয়া যায় না। একটা গরু জবাই করে ২ থেকে ৩ দোকানে ভাগ করে মাংস নিতে হয়। এ ছাড়া ক্রেতাও কম, সারাদিনে বিক্রি হয় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কেজি। এই অল্প বিক্রিতেই কর্মচারীদের মজুরি দিতে হয়, তাই দাম কিছুটা বাড়তি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা