× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোরবানির ঈদে চড়া মসলার বাজার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ১৫:৪৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ অন্যান্য উৎসবে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে গরম মসলার দামও। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় মসলার ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। কোরবানি উপলক্ষে ঘরে ঘরে মাংস থাকায় রান্নাও হয় বেশি। যাতে গরম মসলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক। মাংস রান্নায় জিরা, ধনিয়া, এলাচ, দারুচিনি, আদা ইত্যাদি না দিলে তা স্বাদ তৈরি করে না বা সেই মাংস খাওয়ার উপযুক্ত হয় না। ফলে এসময় সবাই গরম মসলার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এই সুযোগে গরম মসলার দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। তাতে করে দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা এ দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের রেটকে দায়ী করছেন।

ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও এসব গরম মসলার দাম বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো মসলার দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। 

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারচিত্র

ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গত ১৮ মে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। গতকাল শুক্রবার তা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। দারুচিনি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। এলাচ ছিল ২৮০০ টাকা ৪৫০০ টাকা, ৫০০ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকায়। গোলমরিচ ছিল ৮৫০ টাকা, ১০০ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯৫০-১০০০ টাকা। লবঙ্গ ছিল ১৬০০ টাকা, ৩০০ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি জয়ত্রি গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩৮০০ থেকে ৪০০০ টাকায়, জায়ফল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, কাজুবাদাম ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। 

শুধু যে গরম মসলার দাম বেড়েছে বিষয়টি এমন নয়। বেড়েছে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, হলুদ, মরিচের দামও। প্রতি কেজি চায়না আদা ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। ভারতীয় আদা ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা ও দেশীয় আদা ৩৩০ টাকা। দেশীয় রসুন ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে। 

এদিকে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামেও খুচরা এবং পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে গরম মসলার দাম। গত ১৮ মে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। সেই এলাচ গতকাল শুক্রবার বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। জিরা ছিল ৭৫০-৮০০ টাকা ও গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকায়। লবঙ্গ ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। কালো গোলমরিচ ছিল ৭৪০-৭৫০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকায়। দারুচিনি ছিল ৩৯০-৪০০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকায়। 

চাহিদা মতো মসলা কিনতে পারছেন না ক্রেতারা

কারওয়ান বাজারে গরম মসলা কিনতে এলে কথা হয় মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি এক দোকান থেকে আধা কেজি জিরা, ১০০ গ্রাম এলাচ, ১০০ গ্রাম দারুচিনি ও ৫০ গ্রাম লবঙ্গ কেনেন। তিনি বলেন, আমি সাধারণত একসঙ্গে বেশি পরিমাণ কিনে থাকি। এতে দাম কিছুটা কম পড়ে। তবে এখন ঈদের কারণে দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। যে পরিমাণ কেনার চিন্তা ছিল তা থেকে কম কিনলাম। 

কিশোরগঞ্জের সামছুল হক কারওয়ান বাজারে ব্যবসা করেন। তিনি বাজারটি থেকে প্রয়োজনীয় গরম মসলা কেনেন। তিনি জানান, ঈদের আগের দিন বাড়িতে যাবেন। এজন্য ঢাকা থেকেই গরম মসলা কিনে নিচ্ছেন। কেননা গ্রামে এর চেয়েও দাম বেশি। আর মানেও ভালো না। বহন করা কষ্ট হলেও ঢাকা থেকেই তিনি কিনে নিয়ে যান। তিনি বলেন, এবার তো দাম বেশি। অল্প অল্প করে কিনলাম। তা না হলে বাড়ির অন্যদের জন্যও নিয়ে যাই। 

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের হালিশহর ব্যবসায়ী মো. হাসনাত আইমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে এখন মসলার বাজার একটু বাড়তি। গত দুই সপ্তাহ ধরেই দাম বাড়ছে। বিশেষ করে এলাচ, দারুচিনি, জিরা, লং, আদার দাম বেড়েছে। পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন খুচরাতে দাম বাড়ছে।

গরম মসলার বাজার এতটা চড়া কেনÑ জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিশ্ববাজার পরিস্থিতির কারণে কিছু কিছু মসলার দাম বেড়েছে। তবে জিরার দাম এক বছরের তুলনায় কমেছে। কেননা আগে ১২০০ টাকা কেজির জিরা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর আমরা তো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি করি। সরকার সেখানে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করিয়ে দিতে পারে বছরে ২ হাজার টন এলাচ, কয়েক হাজার টন জিরা, দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলা আমদানির ব্যাপারে। তারা সারা বছরই আমাদের ন্যায্যমূল্যে তা সরবরাহ করবে। 

তিনি বলেন, ডলারের রেটের কারণেও পণ্যের দাম বাড়ছে। আগে যেখানে ৮০ টাকায় ডলার কিনতাম তা এখন ১২০ টাকা দিতে হচ্ছে। দুই মাস আগে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। যাতায়াত খরচ বাড়ে। এসব কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। 

চাহিদা ও জোগান কত

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলাচের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টন। এর পুরোটাই আমদানিনির্ভর। গত দুই-তিন বছর ধরেই চাহিদার চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ কম আমদানি হচ্ছে এলাচ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে পর্যন্ত চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছে ৮৯৭ টন। একই সময়ে জিরা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫২৯ টন। গোল মরিচ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৬ টন। লবঙ্গ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫০৫ টন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা