চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ২২:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এলাচের ভেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ বিক্রি করে ৭০ থেকে ৭৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে খাতুনগঞ্জের এক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ওই বাজারের সোনামিয়া মার্কেটের নূর ট্রেডিংয়ের মালিক নাজিম উদ্দিন এলাচ ডেলিভারি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে মশলা আমদানিকারক খাতুনগঞ্জের ইউনির্ভাসেল এগ্রো করপোরেশনের মালিক টিপু সুলতান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নুর ট্রেডিং তেল, গম, চিনি বেচাকেনা করতো। চার/পাঁচ মাস আগে তারা এলাচের ডিও বিক্রি শুরু করে। এখন শুনতেছি এলাচের ডিও বিক্রি করে এলাচ সরবরাহ না করে গা ঢাকা দিয়েছেন। কতজন ব্যবসায়ী তাদের কাছ থেকে এলাচের ডিও কিনেছেন সেটি জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ থেকে ২০০ টন এলাচের ডিও বিক্রি করে থাকতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা এলাচ আমদানি করতেন না। অন্যদের কাছ থেকে এলাচ কিনে বিক্রি করতেন। তাই এখন এই এলাচগুলো আসলে কার কাছে আসে সেটিই আসল প্রশ্ন।’
খাতুনগঞ্জে পণ্য বিক্রি হয় ডিও স্লিপের মাধ্যমে। মিল মালিক ও আমদানিকারকদের হয়ে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো ডিও স্লিপের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা করেন। আবার অনেক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্য কিনে সেগুলো নিজেরা ডিও স্লিপ বিক্রির মাধ্যমে বিক্রি করেন।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নূর ট্রেডিং চলতি মাসের শুরু থেকে ৫ জুন পর্যন্ত চার পাঁচ দিন ব্যবসায়ীদের কাছে এলাচের ডিও বিক্রি করলেও এর বিপরীতে ব্যবসায়ীদের পণ্য অথবা টাকা কোনটি পরিশোধ করেননি। সর্বশেষ বুধবার (৫ জুন) ব্যবসায়ীর কাছে এলাচের ডিও বিক্রি করে টাকা নগদায়ন করে হঠাৎ মোবাইল বন্ধ করে দেন নূর ট্রেডিংয়ের নাজিম উদ্দিন। ওইদিন ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার এলাচের ডিও বিক্রি করলেও তার বিপরীতে ক্রেতাদের পণ্য কিংবা টাকা কোনোটাই দেননি এই ব্যবসায়ী। পরে বিষয়টি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পাওনাদার ব্যবসায়ীরা নাজিমকে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে নিয়ে যান। ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় ওই দিন রাতে তাকে সমিতির কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পরদিন তার ভগ্নিপতি এসে সমিতির নামে ১০ কোটি টাকার চেক দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে নাজিম উদ্দিন এবং তার ভগ্নিপতির আর কোনো হদিস মিলছে না। এই অবস্থায় নুর ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে কেনা এলাচের টাকা আদায়ে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে শুধু নুর ট্রেডিং নয়, এ রকম আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এলাচের ডিও বিক্রি করে পণ্য সরবরাহ না করে গা ঢাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এজাজ মার্কেটের এস কে ট্রেডিং, বাদশা মার্কেটের এনআর ট্রেডিং ও সোনামিয়া মার্কেটের সওদাগর ট্রেডিং।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ, এস কে ট্রেডিং ১৪ থেকে ১৫টন এলাচের ডিও বিক্রি করে পণ্য সরবরাহ না করে গা ঢাকা দিয়েছেন। এস কে ট্রেডিং ১০ টনের মতো এলাচের ডিও বিক্রি করেছেন। অপর ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সওদাগর ট্রেডিং ৫০ থেকে ৬০টন এলাচের ডিও বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমেদকে কল করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি আগামীকাল অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলা পরামর্শ দেন।
গা ঢাকা দেয়ায় নুর ট্রেডিংয়ের মালিক নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।