× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফলন কমে আমের দাম দ্বিগুণ

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১০:৪৬ এএম

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১৬:২৯ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে জমে উঠেছে দেশের বৃহত্তম আমবাজার। প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ আম কেনাবেচা হচ্ছে এই বাজারে। রবিবার তোলা। প্রবা ফটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে জমে উঠেছে দেশের বৃহত্তম আমবাজার। প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ আম কেনাবেচা হচ্ছে এই বাজারে। রবিবার তোলা। প্রবা ফটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গতবারের তুলনায় এবার আমের ফলন খুবই কম। ফলে বাজারগুলোয় দ্বিগুণ দরে বিক্রি হচ্ছে ফলটি। আরও দাম বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন কম বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারগুলোয় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আম নামতে শুরু করে। প্রথমে গুটি আম দিয়ে শুরু হয় বেচাকেনা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের গুটি, ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ ও লক্ষণভোগ আম। গতবারের তুলনায় এবার এসব আমের দাম অনেক বেশি।

দেশের সবচেয়ে বড় আমবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে গুটিজাতের আম বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৭০০ টাকা মণ, ক্ষীরশাপাতি ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গোলভোগ ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, লক্ষণভোগ ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা, ল্যাংড়া ৩৩০০ থেকে ৪০০০ টাকা মণ। কানসাট বাজারে আম বিক্রি করতে এসেছেন মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ মণ আম এনেছি বাজারে। দাম বেশি হওয়ায় আম কিনতে গড়িমসি করছেন ক্রেতারা। তারপরও বাজারে আম বিক্রি হচ্ছে।

জাকারিয়া হোসেন নামে আরেক বিক্রেতা জানান, গতবারের তুলনায় এবার আম খুবই কম। যার কারণে দাম অনেক বেশি। বাজারে এখন গুটিসহ কয়েক রকমের আম নেমেছে। পরে আমের দাম আরও বাড়তে পারে।

দাম বাড়াতে সক্রিয় সিন্ডিকেট

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফলন কম হওয়ার অজুহাতে আমের দাম বাড়াচ্ছে একটি সিন্ডিকেটÑ এমনই অভিযোগ খুচরা ক্রেতাদের। ওই চক্রের সদস্যরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম ধার্য করে বাজারে বিক্রি করছেন আম। ফলে ক্রেতারা আম কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে গোপালভোগ আম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বেচাকেনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এবার গোপালভোগ আম বিক্রি শুরু হয়েছে ২ হাজার টাকারও বেশি দামে। বাকি সব আমের দামও চড়া। শিবগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ঢাকার এক আত্মীয়র কাছে গোপালভোগ আম পাঠানের জন্য দাম জিজ্ঞেস করেছিলাম এক ব্যবসায়ীকে। তখন তিনি বলেছিলেন, প্রতি মণ গোপালভোগ ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পরের দিন ভোরের দিকে বাজারে গিয়ে শুনি গোপালভোগ সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। 

শুধু আব্দুর রহমানের নয়, অনেক ক্রেতাদেরই এই অভিযোগ। রাতের ব্যবধানে দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে বাজার মনিটরিং নিয়ে প্রশ্ন তাদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, এবার আমের ফলন খুবই মণ। প্রতিনিয়তই দাম বাড়াচ্ছেন অনলাইন ব্যবসায়ীরা। তারা বেশি দামে বাগান থেকে আম কিনছেন। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

ওজনে কারসাজি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের কানসাট, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ও ভোলাহাট বাজারে বেশি বেচাকেনা হয় আম। এসব বাজারের আড়তগুলো থেকে অন্য জেলার ব্যাপারীরা আসেন ও আম কেনেন। কিন্তু এসব বাজারে আমের ওজনে চলে অনিয়ম। আমচাষিদের জিম্মি করে প্রতি মণে ১০-১২ কেজি পর্যন্ত বেশি নিয়ে থাকেন। জেলার চাষি ও কৃষি সংগঠনগুলো কৃষিমন্ত্রীসহ একাধিক জায়গায় বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এ নিয়েও আছে কৃষি সংগঠনগুলোর ক্ষোভ।

ইমরান হোসেন বলেন, চাষিরা কষ্ট করে আম উৎপাদন করেন। কিন্তু কষ্টের ফসল আড়তদাররা জিম্মি করে প্রতি মণে ১০-১২ কেজি পর্যন্ত বেশি নেন। এটা খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসনসহ ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা যারা আছেন, তারা যদি এই বিষয়ে নজর দেন তাহলে চাষিরা উপকৃত হবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, সারা দেশে আমের ওজন একই রাখতে গত বছর সাবেক কৃষিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গত মাসে আবারও বর্তমান কৃষিমন্ত্রীকে একই বিষয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও কোনো সমাধান হয়নি।

তিনি আরও বলেন, চাষিরা প্রতি মণে ৪০-৪৫ কেজিতে আম দিতে রাজি আছে। তারা রাজি থাকলেও জেলার বিভিন্ন বাজার থেকে আড়তদার, ব্যাপারী ও ফড়িয়া সিন্ডিকেট ৪৮-৫২ কেজি মণ হিসেবে আম নিচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে এবার আমের অফ ইয়ার বা কম ফলনের বছর। যার কারণে দাম বেশি। ওজনে কারসাজি বিষয়ে জানতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণনের বাজার কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, এবার আমের ফলন কম হওয়ায় দাম দ্বিগুণ। পরে দাম আরও বাড়বে। বাজারে একটি সিন্ডিকেট আছে। ওই চক্রটি দাম বাড়াচ্ছেÑ এটা সত্য। প্রতি বছরই আম ব্যবসায়ীরা এই কাজটি করে থাকেন।

চালু হলো ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন

রাজধানীতে আম পরিবহনের জন্য চালু হয়েছে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’। সোমবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। এ বছর যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে রাজধানীতে পৌঁছবে ট্রেনটি। এ নিয়ে আম পরিবহনের জন্য পঞ্চমবারের মতো ট্রেনটি চালু করল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার তিনটি রেলওয়ে স্টেশনে এই আমগুলো রাজধানীতে পাঠানোর জন্য বুকিং করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এদিন ম্যাংগো ট্রেন থেকে রাজস্ব আয় হয় ২ হাজার ৭৫৬ টাকা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এই ট্রেন। যাত্রাপথে রাজশাহী, আব্দুলপুর, ঈশ্বরদী, পোড়াদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গাসহ মোট ১৫টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি নেবে বিশেষ এই ট্রেন। আম ও পশু পরিবহনকারী ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছবে রাত ২টা ১৫ মিনিটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি আম পরিবহনে ভাড়া লাগবে ১ টাকা ৪৭ পয়সা, রাজশাহী থেকে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, পোড়াদহ থেকে ১ টাকা ১৯ পয়সা, রাজবাড়ী থেকে ১ টাকা ৭ পয়সা, ফরিদপুর থেকে ১ টাকা ১ পয়সা এবং ভাঙ্গা থেকে ৯৮ পয়সা।

ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে এবার কোরবানি পশু পরিবহন করা হবে। আগামী ১২ জুন থেকে ১৪ জুন মোট ৩ দিন এই ট্রেনে পশু পরিবহন করতে পারবেন খামারিরা। এবারের ওয়াগন ভাড়া বেড়েছে ২ হাজার ৯১০ টাকা। প্রতিটি ওয়াগনে পশু পরিবহন করতে ভাড়া গুনতে হবে ১৪ হাজার ৭৩০ টাকা। গতবার ছিল ১১ হাজার ৮২০ টাকা।

কম খরচে আম পাঠাতে পেরে খুশি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম পরিবহন করতে খরচ হয় প্রতি কেজিতে ১২ থেকে ১৬ টাকা। ম্যাংগো ট্রেনে তারা নামমাত্র ভাড়ায় আম পাঠাতে পেরে খুশি। তবে সেবা নিয়ে অভিযোগও কম নয়। স্টেশনে আম বুকিং করতে গেলে হয়রানি আর কুলিদের অতিরিক্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেল কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা