বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৪ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪ ২০:৩২ পিএম
বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি এলাকায় তুলা চাষী গসিং অং মারমার তুলা ক্ষেতের ছবি। প্রবা ফটো
বান্দরবান জেলায় ৭টি উপজেলায় আপল্যান্ড তামাক চাষের পরিবর্তে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে আট দশমিক ৪৮ হেক্টর জমিতে ২৩ দশমিক ২৪ মেট্রিকটন তুলা উৎপাদন হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে দিন দিন তুলা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে চাষীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও চাষীরা।
শুক্রবার (৭ জুন) পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তুলাচাষ সম্প্রসারন শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন তুলা চাষী ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক পরিচালক ও কৃষিবিদ নাসির উদ্দিন। তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে জুম চাষের সময় সাথী ফসল হিসেবে তুলা চাষ করা হত। বর্তমান সময়ে আধুনিক পদ্ধতিতে তুলা চাষ করা হচ্ছে। যেমন পোকা দমন, আগাছা পরিস্কার, সার প্রয়োগ, এমনকি পরিপক্ক তুলা সংগ্রহে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্র। এখন সমতল ভূমিতে তুলাচাষে সাথীফসল হিসেবে বিভিন্ন শাকসবজী চাষ করা হচ্ছে পরিবেশ সম্মতভাবে।
বান্দরবান সদর উপজেলা লেমুঝিড়ি এলাকার নারী তুলাচাষী মেরী ত্রিপুরা বলেন, ২০১৯ সাল থেকে তুলা চাষ করছি। চলতি বছর এক একর (একশ শতক) জমিতে তুলা চাষ করে ১৬ মণ তুলা পেয়েছি। প্রতিমণ ৩ হাজার ৯ শত টাকা হিসেবে ৬ মণ তুলা বিক্রি করে পেয়েছি ৬২ হাজার টাকারও বেশি। সাথীফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টাও ছিল। ভুট্টাও ৩ হাজার টাকা আর মিস্টি কুমড়া ২ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে। তুলা বীজ, ঔষুধ দেয় তুলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে। পাহাড়ী তুলা গবেষণা কেন্দ্র ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করে। এছাড়াও তুলা উৎপাদনে কোনো সমস্যা না হওয়ায় দিন দিন চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা জামছড়ি ইউনিয়নের জামছড়ি পাড়ার আরেক তুলাচাষী গসিং অং মারমা জানান, আখের সঙ্গে সাথীফসল হিসেবে মাত্র ৩০ শতক জায়গায় তুলা চাষ করে ১৫ মণ তুলা পেয়েছেন। যা বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ষাট হাজার টাকা। আগামীতে আরো ৫০ শতক বেশি জায়গায় তুলা চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।
বান্দরবান বালাঘাটায় অবস্থিত পাহাড়ী তুলা গবেষণা কেন্দ্র, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে কর্মশালায় সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মং সানু মারমার সঞ্চালনায় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. ফখরে আলম ইবনে তাবিবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের আহবায়ক সি অং খুমী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এম এম শাহ নেয়াজ। অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের কৃষিবিদ কর্মকর্তাগণ ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলাচাষীরা কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন।