× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাজেটেও চ্যালেঞ্জ

রেদওয়ানুল হক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৪ ০১:২০ এএম

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪ ১০:৫৮ এএম

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বাজেটেও চ্যালেঞ্জ

দেশের অর্থনীতিকে সংকট থেকে পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফেরত আনার প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার। ঊর্ধ্ব মূল্যস্ফীতির রাশ টানার চ্যালেঞ্জকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে এই আঁটসাঁট বাজেট। এতে ব্যয়বৃদ্ধির গতানুগতিক প্রবণতাকে পাশ কাটিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরও উচ্চাভিলাষবিহীন সংযমী নীতির এ বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আয়ের সংস্থান। কারণ গতানুগতিক ধারায় রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট মানুষের আয়ের সংস্থান অনেকটাই কমে গেছে। প্রবৃদ্ধির গতি থমকে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটে কমেছে কর্মসংস্থান। 

এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সবচেয়ে বেশি ভরসার স্থল ব্যাংক খাত। কিন্তু তীব্র তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা রুগ্‌ণ ব্যাংক খাত এ অর্থের জোগান দিতে পারবে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। টানা দুই অর্থবছর ঋণ দিতে ব্যর্থ খাত সঞ্চয়পত্রেও ঘাটতির অর্থ জোগানের লক্ষ্য রাখা হয়েছে; যা অবাস্তব আশা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিদেশি ঋণ এবং অনুদানের গতিও মন্থর। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আয় খাত। খরচের চাপে যদি টাকা ছাপাতে হয়, তাহলে ভেস্তে যাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপও। তাই আঁটসাঁট বাজেট বাস্তবায়নেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে সরকার।

সংকোচনমুখী বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যও কম

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেটে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে প্রস্তাবিত এই বাজেট অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বিশেষ বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এ বাজেটের প্রতিপাদ্য ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার।’ গতকাল দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। অনুমোদিত এ বাজেট দেশের ৫৪তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২৫তম এবং এ অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

প্রস্থাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ইতোমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে। 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্মার্ট বাংলাদেশ : উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’’ Ñএ দর্শনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে পঞ্চমবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। সরকারের বিগত মেয়াদসমূহে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে শক্ত ভিত রচিত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মার্ট, সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়া এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে উল্লেখিত ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা এ বিষয়গুলো বিশেষ বিবেচনায় নিয়েছি।’

২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বাজেটগুলোতে উন্নয়ন খাত বরাবরই বেশি গুরুত্ব পেয়ে পেয়ে আসছে। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারির ধাক্কায় সেই ধারায় খানিকটা ছেদ পড়ে। তারপরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা বজায় ছিল বিগত বাজেটগুলোতে। যদিও কোনো বছরই বাজেট সে অর্থে বাস্তবায়ন হয়নি। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এবার উচ্চাভিলাষকে পাশ কাটিয়ে সংকোচনমুখী বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আওয়ামী লীগের উন্নত দেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় ‘আনুষ্ঠানিক ধাক্কা’ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সংকোচনমুখী বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানো হয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার স্বপ্নে এ উদ্যোগ বড় বাধা তৈরি করল।

আয় বাড়াতে করছাড় প্রতাহারের উদ্যোগ

কর দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে যেসব খাত ছাড় বা অব্যাহতি পাচ্ছে, সেগুলো থেকে তা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয় কমিয়ে রাখা হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়াতে চায় সরকার। এজন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং সীমিত কলেবরে হলেও বাজেট কৃচ্ছ্রসাধন অব্যাহত থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ পন্থা অবলম্বন করলে প্রবৃদ্ধির গতি স্লথ হয়ে যেতে পারে। সে কারণে আমাদের লক্ষ্য থাকবে, আগামী অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ানো। এটি সম্ভব হবে যদি রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো যায়। সে লক্ষ্যে আমরা কর অব্যাহতি ক্রমান্বয়ে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর দিকে নজর দেব।’

লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা

বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সরকারের নানা পদক্ষেপের ফলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটি বাংলাদেশে এ উচ্চ মূল্যস্ফীতির একটি প্রধান কারণ। তবে আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবচিতি (মান কমে যাওয়া)। ২০২১-২২ অর্থবছরে করোনা অতিমারির প্রকোপ কমে এলে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ওই বছর বাণিজ্য ঘাটতি ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি হয়।’

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই মাসের শেষে ছিল ৩৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছরের মে মাসের শেষে কমে হয়েছে ২৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছাড়তে হয়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। ২০২২ সালের জুলাই থেকে চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ মান কমেছে, যার ফলে আমদানি করা পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে এবং এভাবে আমদানিজনিত মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর।’

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি আমাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই এটি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চাহিদার রাশ টেনে ধরা এবং সরবরাহ বাড়ানোর দিকে আমরা গত দুটি বাজেটে সর্বাত্মক মনোযোগ দিয়েছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণের পাশাপাশি সহায়ক রাজস্বনীতি, অর্থাৎ ব্যয় হ্রাস ও কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নীতি সুদহার সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে এবং নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১০ শতাংশে ও নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭ শতাংশে উন্নীত করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণের ব্যবস্থা (স্মার্ট) বিলোপ করে সুদের হার বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। তারপরও মূলত আমদানিজনিত মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি অনমনীয়ভাবে ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে ঋণের চাহিদা ও ঋণযোগ্য তহবিলের জোগান সাপেক্ষে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির আওতায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য এর পাশাপাশি রাজস্ব নীতিতেও সহায়ক নীতিকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমাদের গৃহীত এসব নীতি-কৌশলের ফলে আশা করছি, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নেমে আসবে।’

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

বাজেট প্রস্তাবে আগামী জুলাই থেকে এক বছরের জন্য কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকায় ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে তা বৈধ বা সাদা করা যাবে। একইভাবে জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিনেও এলাকাভেদে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে টাকা সাদা করা যাবে। একেক এলাকার জন্য বর্গফুট অনুসারে নির্দিষ্ট কর দিতে হবে। দুই বছর আগে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেমন সাড়া না পাওয়ায় পরে এ সুযোগ বাতিল করা হয়।

এরপরের বছর দেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগ দেওয়া হলেও কেউ ওই সুযোগ নেননি। এক বছর বিরতির পর আগামী অর্থবছরে আবারও ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলো। এনবিআরের সূত্রগুলো বলছে, এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে অপ্রদর্শিত প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঘোষণায় এসেছে, অর্থাৎ এই পরিমাণ অর্থ বৈধ করা হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি

দেশে যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান, তখন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি। আগের মতোই বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বরং ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে ৩০ শতাংশ হারে নতুন একটি করস্তর তৈরি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদে বাজেট পেশ করে তিনি করস্তর পুনর্বিন্যাস করারও প্রস্তাব করছেন। এখন ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ করহারের পর উচ্চস্তরে আরেকটি করহার এসেছে। 

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম সাড়ে ৩ লাখ টাকার পর প্রথম ১ লাখ টাকার জন্য ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকা আয়ের জন্য ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। বাকি অর্থের ওপর কর বসবে নতুন ৩০ শতাংশ হারে। এ ছাড়া নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা হবে পৌনে ৫ লাখ টাকা। গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা হবে। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে।

জীবনযাত্রায় আরও চাপ বাড়াবে বাজেট

মূল্যস্ফীতির কশাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জন্য বাজেট একাধিক দুঃসংবাদও নিয়ে এসেছে। এবারের বাজেটে নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপ অনেক পণ্যের দাম বাড়ানোর রসদ জোগাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিকস খাতে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাটহার বাড়ানোর প্রস্তাব। এ প্রস্তাব অনুযায়ী রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনসহ ইলেকট্রনিকস পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাটের হার পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। রেফ্রিজারেটরের ভ্যাটহার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। এয়ারকন্ডিশনে নতুন করে বসছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। একইভাবে রাইড শেয়ারে আরোপিত সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে এবার ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। এতে রাইডে চড়ার খরচ বাড়তে পারে।

তাছাড়া বাড়বে মোবাইল ফোনের কল খরচ। বর্তমানে গ্রাহকরা ১০০ টাকা দিয়ে মোবাইল রিচার্জ করলে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ কেটে নেওয়ার পর ৭৩ টাকার কথা বলতে পারেন। আবারও সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ানো হলে গ্রাহকরা ১০০ টাকার মধ্যে ৬৯ টাকা ৩৫ পয়সার কথা বলতে পারবেন।

মুখরোচক কিছু খাদ্যেও খরচ বাড়ছে। ম্যাঙ্গো বার ও জুস, তেঁতুলের জুস, পেয়ারার জুস, আনারসের জুস ইত্যাদি উৎপাদনে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে নিরাপত্তাসেবা প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এখন এ ধরনের নিরাপত্তাসেবা নিলে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হয়। আগামী বাজেটে এই ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

মোবাইল কোর্টসহ যেসব খাতে সরকার জরিমানা ও দণ্ড আরোপ করে, সেগুলোর পরিমাণও বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তাছাড়া উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন সেতু পারাপারের টোল, সেবা ও প্রশাসনিক মাশুল বাড়ানো হতে পারে।

অন্যদিকে শূন্য শুল্কের অর্ধশতাধিক পণ্যে আগামী অর্থবছর থেকে ১ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ হতে পারে। বর্তমানে আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই, এমন পণ্যের সংখ্যা ৩২৯টি। এ তালিকায় আছে খাদ্যপণ্য, সার, গ্যাস, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি। যেসব পণ্যে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ গম, ভুট্টা, সরিষা বীজ, তুলা বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ, কয়লা, জিপসাম, ভিটামিন, পেনিসিলিন, ইনসুলিন, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, প্লাস্টিক কয়েল, পেপার বোর্ড, স্টিল জাতীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। শুল্ক আরোপের ফলে এসব পণ্যের জন্য মানুষকে বর্তমানের চেয়ে বাড়তি খরচ করতে হতে পারে।

এ বাজেটের ফলে স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা খাতেও মানুষের ব্যয় বাড়বে। কারণ হাসপাতালের সরঞ্জাম আমদানির ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে রেফারেল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল শুল্কছাড় সুবিধায় ১ শতাংশ শুল্কে মেডিকেল যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ রয়েছে। আগামী বাজেটে ২০০টিরও বেশি মেডিকেল যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। 

তবে শুধু সাধারণ মানুষই নন, এ বাজেটে চাপ আছে ধনীদের জন্যও। এবার গাড়ি আমদানিতে শুল্ক দিতে হবে সংসদ সদস্যদের। বর্তমানে সংসদ সদস্যরা বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি করতে পারেন; কিন্তু বৈষম্য কমাতে এ সুবিধা বাতিল করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাইটেক পার্কের জন্য আমদানি করা যেসব গাড়ি আগে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, সেসব গাড়ির ওপরও শুল্ক আরোপ করা হবে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিত্তবানদের ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা করছে এনবিআর। ১৬ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিপর্যায়ের করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে কর অব্যাহতি হ্রাস এবং শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ থেকে মূলধনি আয়ের ওপর কর ছাড় প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বস্তির খবরও আছে

অবশ্য শুধু ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধিই নয়, কিছু স্বস্তির খবরও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এতে পেঁয়াজ, রসুন, মোটর, ছোলা, চাল, গম, আলু, মসুর, ভোজ্য তেল, চিনি, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, ময়দা, আটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা, পাট, তুলা, সুতা, সব ধরনের ফলসহ ৩০টি পণ্যে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমবে, যা খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হবে। 

এর পাশাপাশি শিশুখাদ্যেও কমছে করভার। বর্তমানে আড়াই কেজি ওজন পর্যন্ত গুঁড়া দুধের ওপর করভার ৮৯.৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৮.৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে। বর্তমানে গুঁড়া দুধের বাল্ক আমদানিকারকদের জন্য মোট করভার ৩৭ শতাংশ।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে ২০২৩-২৪ বাজেটে ল্যাপটপ-কম্পিউটার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। ফলে আমদানিকারকদের বর্তমানে ল্যাপটপ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কসহ মোট ৩১ শতাংশ শুল্ককর দিতে হয়। তবে নতুন ২০২৪-২৫ বাজেটে এ পণ্যটিতে শুল্ককর ১০ শতাংশ কমিয়ে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

কৃষিজাত পণ্য বিশেষ করে পোল্ট্রি, গবাদিপশু ও মাছের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ককর ও ভ্যাট ছাড় দেওয়া হবে।

ব্যয় হবে যেসব খাতে 

বাজেটে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি এবং মূলধনি ব্যয় ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি, বিদেশি ঋণ পরিশোধে ২০ হাজার ৫০০ কোটি, অভ্যন্তরীণ ঋণ শোধে ৯৩ হাজার কোটি, ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি, বিশেষ প্রকল্পে ৭ হাজার ৬২৭ কোটি, কাবিখাতে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি এবং স্কিমে বরাদ্দ আছে ৫ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা।

আয়ের উৎস

মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৪৬ হাজার এবং বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মোট করের মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি এবং নন এনবিআর ১৫ হাজার কোটি টাকা।

রুগ্‌ণ ব্যাংক খাতে ঘাটতির চাপ

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে ব্যাংক খাত। বাজেট ঘোষণার দিনই এ খাতের ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত খেলাপি ঋণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই বিপুল ঋণ খেলাপি হয়েছে। মার্চ শেষে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ানো খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বর শেষে ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আর সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যদিও এখন সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ ঋণাত্মক রয়েছে। গত দুই অর্থবছর ধরে এ খাত থেকে ঋণ পাচ্ছে না সরকার। ফলে এ খাতের চাপও এসে পড়ছে ব্যাংকের ওপর। 

এবারের বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বৈদেশিক উৎস থেকে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে এক লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাস পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ করছিল বেশি। তবে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ পাওয়া, আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এখন ঋণ দ্রুত বাড়ছে। গত ২৯ মে পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিয়েছে ৬১ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। আবার চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল সরকার। তবে ঋণ বৃদ্ধি দূরে থাক, উল্টো গত মার্চ পর্যন্ত কমেছে ১২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। এরপরও সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ৭ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

সুদ পরিশোধে বড় বরাদ্দ

সুদ পরিশোধের জন্য আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বড় আকারের অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় মেটানোÑ এসব ধরে নিয়েই সরকার বড় আকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই ঋণের বিপরীতেই গুনতে হবে বড় অঙ্কের সুদ। বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশি ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি এবং বিদেশি ঋণের সুদ ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সুদ খরচ বাবদ ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

নতুন অর্থবছরের জিডিপি

আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা হয়। অবশ্য বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড়জোর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

জিডিপির পরিধি ধরা হচ্ছে ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এটি ছিল ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি বাধ্যতামূলক

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিজীবীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির (স্কিম) আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এখন যারা সরকারি চাকরিতে আছেন, তারা বিদ্যমান নিয়মেই পেনশন পাবেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের পর যারা সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগ পাবেন, তারা সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘পেনশন সুবিধা পান, এমন সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আমরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসব। স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। শিগগির অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও এ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চালু করব।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমেছে

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়। এতে বলা হয়, উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ বিদ্যুৎ। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমেছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। চলমান জ্বালানি-সংকটের মধ্যেও এবার জ্বালানি খাতে এবার ১ হাজার ৮৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা