প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ২১:৪১ পিএম
সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৬০১ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ১৮৭ টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুরের গানভর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার (৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন সার এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ছয় হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহেদা পারভীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধনী ২০২১)-এর আওতায় মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির প্রত্যাশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের গানভর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো (২০২৪ সালের ২১তম) এলএনজি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬০১ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ১৮৭ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১২ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার, যা আগে ছিল ১০ দশমিক ৩০ ডলার।
অন্য এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউয়ের মূল্য ধরা হয় ১০ দশমিক ৪৬২২ মার্কিন ডলার। এতে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৪৫২ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৭০ টাকা।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ দশমিক ৩০ মার্কিট ডলার হিসাবে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৪৫ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৯৭ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার, ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার রয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের কাতার কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রো কেমিক্যাল মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (মুনাজাত) থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ২৮০ ডলার; যা আগে ছিল ২৭৯ দশমিক ৬৭ ডলার।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ওসিপি এস এ মরক্কো এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ওসিপি এস এ মরক্কোর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান জাহেদা পারভীন।
তা ছাড়া টিসিবির জন্য ৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বগুড়ার রায় অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এই মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
অতিরিক্ত সচিব জানান, টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে বগুড়ার রায় অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬০ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ১০০ টাকা ৭৯ পয়সা, যা আগে ছিল ১০১ টাকা ৩৩ পয়সা।