প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ২২:৪২ পিএম
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
আমদানি করা গুড়োদুধ মেয়াদোত্তীর্ণ। বস্তায় ভরে আমদানি করে গুড়ো দুধ দেশে এনে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এসব দুধ খেয়ে আগামী প্রজন্ম মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে। নানা রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এ অবস্থায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে গুড়ো দুধ আমদানি কমানোর দাবি জানিয়েছেন ৫৫ হাজার খামারিদের সমন্বয়ে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। শনিবার (১ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি আলী আজম শিবলী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ ইমরান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম নাজীব উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক জাফর আহমেদ পাটোয়ারী প্রমুখ।
ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেবে দেশে বছরে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন দুধের প্রয়োজন। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার টন। দেশের দুগ্ধ খামারের মাধ্যমেই পুষ্টির চাহিদা সম্ভব। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও বেশ কিছু বাধার কারণে দুধের উৎপাদন বাড়ছে না। এসব বাধা দূর করতে পারলে দেশ দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।’
তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে দুধ উৎপাদনের প্রধান বাধা আমদানিকৃত দুধ। আমদানি করা গুঁড়ো দুধ আমাদের সাংঘাতিকভাবে ক্ষতি করছে। এসব দুধের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণের কাছাকাছি বস্তা আকারে বাল্ক ফিল্ড মিল্ক নামক গুড়ো দুধ এনে নতুন মোড়কে বাজারজাত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।’
ইমরান হোসেন বলেন, ‘গুঁড়ো দুধ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কঠোরতা আরোপ করে সঠিক ও কার্যকর উদ্যোগ নিলে দুই বছরের মধ্যে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে দেশ। আমদানিতে অধিক হারে শুষ্কারোপ করে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করে তুলতে হবে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খামারিদের উৎপাদিত তরল দুধ সংগ্রহ করে দেশেই গুড়ো দুধ তৈরি করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় হবে, দেশীয় শিল্প রক্ষা হবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিশুখাদ্যের নামে বাল্ক ফিন্ড মিল্ক নামক গুড়া দুধ আমদানি কখনই পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করতে পারে না। শিশুখাদ্য সেরেলেক বাংলাদেশে তৈরি হয় না। শিশুখাদ্য হিসেবে ফরমুলা দুধ শুল্কমুক্ত করে দেওয়া হোক। বাল্ক ফিল্ড মিল্কে কোনো ফ্যাট থাকে না। সেখানে ভেজিটেবল ফ্যাট দেওয়া হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক খামারিবান্ধব নন। তিনি খামারিদের কোনো সহযোগিতা করছেন না। তার কার্যক্রমে বোঝাচ্ছেন দেশের দুধ উৎপাদনে তাদের ডাক্তার ও মিল্ক প্রসেসিং কোম্পানিগুলোই সব কাজ করছে। ডাক্তাররা চিকিৎসা দিতে যাওয়ার আগে তারা কন্ট্রাক্ট করছে তাদেরকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে।’
এ ব্যাপারে জামাল হোসেন নামের মোহাম্মদপুরের এক খামারি জানান, কয়েকদিনের মধ্যে তার তিনটি গরু মারা গেছে। এমন করে দেশের অনেক জায়গায় রোগবালাইয়ে গবাদিপশুর মৃত্যু হচ্ছে, যা আগে ছিল না। এ বিষয়সহ অন্যান্য ব্যাপারে কথা বলতে তিনি ডিজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনদিন পরে দেখা করতে বলেন। অথচ আগের ডিজিরা সহজেই এসব ব্যাপারে কথা বলতেন।
তিনি জানান, তার খামারে কয়েকশ গরু রয়েছে। তিনি সেবা পাচ্ছেন না। এই ডিজি কোন খামারিকেই সময় দেন না। এমনকি সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেও তিনি তোয়াক্কা করছেন না। আর গরু-ছাগল অসুস্থ হলে ডাক্তারদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।’