× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলবায়ুবান্ধব বাজেট চান ড. আতিউর

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৪ ২১:০৮ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪ ২১:২৯ পিএম

রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত উন্নয়ন সমন্বয়ের কার্যালয়ে ‘গণমাধ্যমের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো

রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত উন্নয়ন সমন্বয়ের কার্যালয়ে ‘গণমাধ্যমের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো

আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটটি জলবায়ুবান্ধব বাজেট হতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত উন্নয়ন সমন্বয়ের কার্যালয়ে ‘গণমাধ্যমের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রবিবার বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছিল প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে উপকূলের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেত যদি সুন্দরবন ঢাল হিসেবে রুখে না দিত। অথচ আমরা সুন্দরবন রক্ষায় কত টাকা বিনিয়োগ করি? এবারের বাজেটে সুন্দরবনের জন্য অর্থায়ন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত-দুর্গতদের জন্য অর্থায়ন বাড়াতে হবে।’ 

উন্নয়ন সমন্বয় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান ও ব্যাংক এশিয়া পিএলসির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সিদ্দিক ইসলাম। সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন অংশীজনকে বাজেট বিষয়ে তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতা দিতে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ও উন্নয়ন সমন্বয় যৌথভাবে ‘আমাদের সংসদ’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তারই অংশ হিসেবে এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের সংসদকে ব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মীরা কীভাবে উপকৃত হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘লস অ্যান্ড ডেমেজের আলোকে আন্তর্জাতিক মহল অর্থ দিতে রাজি আছে। এসব অর্থ আনতে হবে। সেজন্য যে ধরনের সক্ষমতা দরকার তা অর্জন করতে হবে। আমরা সঠিকভাবে দাবিগুলো তুলে ধরলে আন্তর্জাতিক মহল থেকে জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আনতে পারব।’ 

তিনি বলেন, ‘আসন্ন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব বিশ্লেষণের সময় অবশ্যই অর্থনীতিতে বিদ্যমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখতে হবে। বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর প্রেক্ষাপটে বাজেটের প্রস্তাবগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক হচ্ছে, তা জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে যদি প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ছাড় দিতে হয়, তাতে দুর্ভাবনার কারণ নেই। কেননা এই মুহূর্তে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর চেয়ে মুদ্রাস্ফীতির হার কমানো বেশি জরুরি।’ 

অন্য আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আরএমজি রপ্তানিকারকদের দেওয়া প্রণোদনা এই মুহূর্তে উঠিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। অস্থির বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য আরএমজি রপ্তানিকারকদের এই প্রণোদনা চালু রাখা দরকার।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয় না। এর কারণ হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলো তা ব্যয় করতে পারে না। যারা বরাদ্দের অর্থব্যয় করতে পারে না তাদের শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিতে হবে।’

শব্দচয়ণে সমাজে আতঙ্ক তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিবিদরা অর্থনীতির বাইরের শব্দ ব্যবহার করছেন। এমন শব্দচয়ণে সমাজে আতঙ্ক তৈরি হয়। তাই অর্থনীতির শব্দ ব্যবহার করতে হবে। সমাজে আতঙ্ক তৈরি হয় এমন শব্দ এড়িয়ে যেতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘অবশ্য বাজেটের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনা হতে হবে।’ 

আমদানি পণ্যের দাম কেন বাড়ছে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাজারে পণ্য আছে। তারপরও কেন দাম বাড়ছে? তার কারণ হচ্ছে- ডলারের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, তেলের দাম বৃদ্ধি, সাগরে নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি অন্যতম কারণ। বাজার ঠিক রাখতে হলে প্রতিযোগিতার স্থানটি সঠিকভাবে রাখতে হবে। সবাইকে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক কাজ করতে দিতে হবে। এজন্য তদারকি বাড়াতে হবে।’ 

আইসিটি সেক্টরকে এখনি বাড়তি ট্যাক্স দেওয়ার দরকার নেই বলে উল্লেখ করেন এ অর্থনীতিবিদ। ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘রেমিট্যান্সে ট্যাক্স না বসিয়ে বরং আরও প্রণোদনা দিতে হবে। ভারতে রেমিট্যান্সের ভিত্তিতে হাউজিং লোন দেওয়া হয়। আমাদের দেশে তা দিতে হবে। যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তারা আমাদের জাতীয় বীর। তাদের চিকিৎসাসেবা, পরিবারকে শিক্ষাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। প্রবাসীদের সঠিক সেবা ও মমতা নিয়ে তাদের মধ্যে কাজ করলে ম্যাক্রো ইকোনমিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা