জয়ন্ত সাহা, ঢাকা
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম
প্রাণের মেলায় ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের। ছবি: প্রবা
একাত্তরে হাতের কলমকেই অস্ত্রে পরিণত করে দামাল যোদ্ধাদের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হতো ‘অগ্রদূত’ নামের পত্রিকাতে। রৌমারী থেকে প্রকাশিত এই হাতে লেখা সাপ্তাহিক পত্রিকাটি মুক্তিযোদ্ধা পাঠকদের জোগাত অনুপ্রেরণা। ১৫টি সংখ্যা প্রকাশের পর এটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন লোকগবেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি বা শখের জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছিল পত্রিকাটির একেকটি সংখ্যা। ৫২ বছর আগের সেই পত্রিকার কপি সংগ্রহ করতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়েছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক সুনীল কুমার দে।
অমর একুশে বইমেলার নবম দিনে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষাচিত্রের প্যাভিলিয়নের সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে কুড়িগ্রামের রৌমারী ছিল মুক্তাঞ্চল। সেখান থেকে হাতে লেখা পত্রিকাটি বের হতো। এই পত্রিকার লেখাগুলোর সংকলন নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে এবারের বইমেলায়। বইটি আনবে পাঠক সমাবেশ।’ কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নতুন তথ্য জানার জন্য তরুণরা মুখিয়ে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার স্বার্থেই এর অনুদ্ঘাটিত দিকগুলো দ্রুত তুলে আনতে হবে।
নতুন-পুরোনো লেখক, কার কী বই কেনা হলো, তা নিয়ে গতকাল আড্ডা দিতে দেখা গেছে মেলায় আগত সাদিয়া-মাহজাবীনদের। বিভিন্ন প্রকাশনীর সামনে আড্ডা দিতে দেখা গেছে তরুণ লেখকদের।
তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল ও লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার শানারেই দেবী শানু। এবার অনন্যা থেকে এসেছে শানুর উপন্যাস ‘লিপস্টিক’, কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসার এপাড় ওপাড়’ এসেছে আজব প্রকাশনী থেকে। তাম্রলিপি থেকে এসেছে সাজিয়া সুলতানা পুতুলের উপন্যাস ‘প্রেমতান্ত্রিক পৃথিবীর স্বপ্ন থেকে বিচ্যুত হওয়ার আগে’। কার কত পাঠক, এ নিয়ে দুজন বেশ খুনসুটিতেও মেতে উঠলেন। তারপর ফ্যান-ফলোয়ারদের কেনা বইয়ে অটোগ্রাফ দিলেন বেশ সময় নিয়ে।
এদিন অনিন্দ্য প্রকাশ প্যাভিলিয়নে কথা হয় বাংলা একাডেমি পুরস্কারজয়ী বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখক মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর তার সায়েন্স ফিকশন ‘নিতিনা’, প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস ‘স্বপ্ন খুনি’ ও ভৌতিক থ্রিলার ‘ছায়া আত্মা’Ñএই তিনটি বই এনেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি পড়তে ভালোবাসেন, এমন কজন তরুণ পাঠকের বিবিধ প্রশ্নের উত্তর আর অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন তিনি। এক ফাঁকে জানালেন, ‘মেলায় এ নিয়ে চার দিন এলাম। যা অবস্থা, মনে হচ্ছে, বই বিক্রি প্রথম থেকেই জমজমাট। বইয়ের দাম যদিও কিছুটা বেড়েছে, পড়ুয়া পাঠক কিন্তু ঠিকই তার পছন্দের বইটি কিনছে।’
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের সামনে কথা হলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি সঙ্গীতা ইমামের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস রোডের টাইনি টটস স্কুলের প্রাঙ্গণে এক শরণার্থীর শিশুর দুঃসহ দিনযাপন ও চোখভরা স্বাধীনতার স্বপ্নকে উপজীব্য করে তিনি লিখেছেন কিশোর উপন্যাস ‘পতাকায় দিদিভায়ের মুখ’। বইমেলার সন্ধ্যায় স্কুলপড়ুয়া কজন পাঠকের সঙ্গে তার আড্ডা ছিল বেশ জমজমাট।
মূলমঞ্চের আলোচনা
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি : কবীর চৌধুরী’ এবং ‘জন্মশতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলি : সাংবাদিক-সাহিত্যিক জহুর হোসেন চৌধুরী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। কবীর চৌধুরীকে নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবদুস সেলিম। জহুর হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহীদ রেজা নূর। আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক খায়রুল আলম সবুজ, মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শফি আহমেদ।
নতুন বই
বইমেলার নবম দিনে মেলায় এসেছে ১২৩টি নতুন বই। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আবদুল মান্নান সৈয়দের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যে মুসলমান’ (অবসর), মোনায়েম সরকার সম্পাদিত ‘আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’ (আগামী), ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতি’ (আগামী), আনোয়ারা সৈয়দ হকের ভ্রমণবিষয়ক বই ‘দেখে এলাম মিশর ও মরক্কো’ (ঐতিহ্য), হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘নদীপথে, সঙ্গে ইউলিসিস’ (অন্যপ্রকাশ), মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস ‘নকশা-কাটা কবজ’ (কাকলী প্রকাশনী), হরিপদ দত্তের উপন্যাস ‘চার পৃথিবীর মানুষ’ (প্রসিদ্ধ পাবলিশার্স), মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘প্রথম পাঁচ’ (অন্যধারা), মহিউদ্দিন আহমদের নিবন্ধগ্রন্থ ‘এই সমাজ এই সময়’ (প্রথমা), লুৎফর রহমান রিটনের ‘ফেল্টুস! চড় খাবি’ (কিন্ডার বুকস), রফিকুর রশীদের ‘মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমগ্র’ (আগামী), রায়হান রাইনের সমাজতত্ত্ববিষয়ক গ্রন্থ ‘বাংলার সুফিয়ানা ও সহজিয়ানা’ (বাতিঘর), পিয়াস মজিদের কবিতাগ্রন্থ ‘মারবেল ফলের মওসুম’ (ঐতিহ্য), শামীমা চৌধুরীর ছোটগল্প ‘ভেসে যায় বেহুলার ভেলা’ (শিল্পতরু প্রকাশনা), বাবুল আনোয়ারের ‘ভালোবাসার কবিতা’ (পুঁথিনিলয়), নম্রতা সাহার গল্পগ্রন্থ ‘অপরাজিতা’ (অন্যধারা) ইত্যাদি।