প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:২৬ এএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৪৬ এএম
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে বাংলা একাডেমি ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী বইমেলা উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রবা ফটো
গত বছর করোনা মহামারির কারণে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন ছিল ফেব্রুয়ারির অর্ধেক মাস। এবার আর সেই সংকট নেই, যথারীতি ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আজ বুধবার বাংলা একাডেমি ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী প্রাণের বইমেলার দুয়ার খুলবে। বিকাল ৩টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গ্রন্থমেলা উদ্বোধন শেষে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করবেন।
মেলার প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত সাতটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘শেখ মুজিবুর রহমান রচনাবলি’, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-পাঠ বিশ্লেষণ’, ‘আমার দেখা নয়াচীন-পাঠ বিশ্লেষণ’, ‘কারাগারের রোজনামচা-পাঠ বিশ্লেষণ’, হাসান আজিজুল হকের ‘সাবিত্রী উপাখ্যান’-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘দ্য লেটার অব সাবিত্রী’।
এ ছাড়া বাংলা একাডেমি থেকে এবার রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের আত্মজীবনী ‘আমার জীবন, আমার রাজনীতি’ প্রকাশিত হবে, যার প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা একাডেমি বিভিন্ন জেলায় যে মেলাগুলোর আয়োজন করেছে গত বছর, সেসব সংকলন সাত খণ্ডে প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি। এ সংকলনের প্রথম খণ্ডটির মোড়ক উন্মোচন হবে বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চে।
এবার প্রকাশনী থাকছে ৬০১টি
এ বছর বইমেলার পরিসর ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর ৬০১টি নবীন-প্রবীণ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৯০১টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৬৭টি।
এবার বইমেলার আয়তন সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৬৫টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৩৬টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই অংশে ৩৮টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এ বছর লিটলম্যাগ চত্বরে ঠাঁই পাবে ১৫৩টি স্টল।
‘উস্কানিমূলক’ বইয়ে নজর রাখবে পুলিশ
বইমেলায় কোনো প্রকাশক ‘উস্কানিমূলক’ বই এনেছে কি না, তা নজরে রাখবে পুলিশ। মঙ্গলবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২৩ নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, কেউ যাতে উস্কানিমূলক বই প্রকাশ না করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না লেখে সেটি নজরদারিতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এবার মেলায় প্রকাশিত বই পর্যবেক্ষণ করবে। কেউ ধর্মীয় উস্কানি, নারী ও দেশকে অবজ্ঞা করে কিছু লেখা প্রকাশ করলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে বাংলা একাডেমি।
খন্দকার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, অমর একুশে বইমেলার নিরাপত্তায় কোনো হুমকি নেই। মেলাপ্রাঙ্গণে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বইমেলায় আগত লেখক-প্রকাশকরা কোনো ধরনের হুমকি মনে করলে আমাদের অবহিত করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
মানের দিকে নজর আয়োজকদের
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর বইমেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা কমছে।
বইমেলার সহ-আয়োজক বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির উপদেষ্টা ওসমান গণি এ বিষয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম থাকবে। তবে আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে বইয়ের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সাল বা তার আগে মুদ্রিত বইয়ের দাম বাড়ানো যাবে না।
প্রতি বছর মেলা শেষে বাংলা একাডেমি মানসম্মত বই কতগুলো, সেই সংখ্যা প্রকাশ করে। দেখা যায়, বইমেলার দুই-তৃতীয়াংশ বই মানহীন। এবার প্রকাশকদের সেই দিকটির দিকে নজর রাখতে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেছেন, ‘বইমেলা থেকে যেন আমরা পাঠককে মানসম্মত বই দিতে পারি, মানে বইটি যেন সুসম্পাদিত হয়, পাইরেটেড কিছু না হয়। আশা করব, প্রকাশকরা সেদিকে নজর দেবেন।’