× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অমর একুশে বইমেলা

প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞে সরব সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সোহরাব হোসেন

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:৫৪ পিএম

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:৫৭ পিএম

সপ্তাহ ঘুরলেই অমর একুশে বইমেলা। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জোরেশোরে চলছে স্টল তৈরির কাজ। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু

সপ্তাহ ঘুরলেই অমর একুশে বইমেলা। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জোরেশোরে চলছে স্টল তৈরির কাজ। ছবি: আলী হোসেন মিন্টু

হাতুড়ি দিয়ে তক্তায় পেরেক ঠুকছিলেন ছুতোর কারিগর সফিকুল ইসলাম। তার মতোই ব্যস্ত আরও অনেক শ্রমিক। কেউ কাঠে রঙ করছেন, কেউ মাটি খুঁড়ছেন, কেউবা বাঁশ কাটায় ব্যস্ত। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এখন বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে অমর একুশে বইমেলা সামনে রেখে।

গত মঙ্গল ও বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার স্টল নির্মাণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই। এর ফাঁকেই কথা হয় কাঠমিস্ত্রি সফিকুলের সঙ্গে। বড় ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে আদর্শ প্রকাশনীর স্টল নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। সফিকুল জানান, ১০-১২ বছর ধরে বইমেলায় স্টল তৈরির কাজ করে আসছেন। এ কাজটি করতে গিয়ে তার মধ্যে বাড়তি ভালো লাগা কাজ করে। এবার কয়েকটি গ্রুপে তার মতো ৩০ জন কাজ করছেন মেলা প্রাঙ্গণে স্টল নির্মাণে। নিজেদের সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় প্রাণের বইমেলাকে নান্দনিক রূপ দিতে তাদের চেষ্টায় কোনো কমতি নেই। দিন-রাত এক করে কাজ করছেন বলে জানান সফিকুল।

আরেকটি স্টল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত তারেক হোসেন জানান, তারা একসঙ্গে ১২ জন মিলে এই কাজটি করছেন। রাত-দিন কাজ করার পর যখন মেলা শুরু হয়, তখন বেশ আনন্দ লাগে। গর্ব হয় এমন আয়োজনের অংশ হতে পেরে। তরিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক বলেন, এটা অনেক বড় মেলা। মজুরির বিনিময়ে কাজ করলেও এই কাজটায় আলাদা একটা আনন্দ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, স্টল তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। আগাম বৃষ্টির আশঙ্কায় এবার প্রতিটি স্টলের চালায় টিন ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইটিংয়ের জন্য পিলার বসানো হয়েছে। বাংলা একাডেমি সূত্র জানায়, এবার ৬০০টির মতো প্রকাশনী সংস্থা মেলায় অংশ নেবে। প্যাভিলিয়নে এবার কিছুটা পরিবর্তন আসছে। প্যাভিলিয়ন হবে দুই ধরনের। প্রতিবছর যেসব প্রকাশনী প্যাভিলিয়ন পেত, তারা এবার নাও পেতে পারে। বইমেলার থিম নির্ধারণ করা হয়েছেÑ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’ মেলা উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ৪৭৬টি প্রকাশনীর আবেদনের ওপর লটারি হয়। এতে ২৪ বাই ২৪ বর্গফুটের প্যাভিলিয়ন দেওয়া হয় ১৬টি প্রকাশনীকে। ২০ বাই ২০ বর্গফুটের প্যাভিলিয়ন দেওয়া হয় ১৮টি প্রকাশনীকে। ৪ ইউনিটের স্টল ২১টি, ৩ ইউনিটের স্টল ৪৯টি, ২ ইউনিটের স্টল ১৪১টি ও ১ ইউনিটের স্টল ১৬০টি প্রকাশনীকে দেওয়া হয়।

অপরদিকে শিশু বিভাগে ৩ ইউনিটের স্টল ৮টি, ২ ইউনিটের স্টল ২৭টি ও ১ ইউনিটের স্টল ৩৬টি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিশু বিভাগের বিক্রয়কেন্দ্র। বাংলা একাডেমির একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে একাডেমির বইসমূহ বিক্রি হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও থাকবে বাংলা একাডেমির দুটি প্যাভিলিয়ন।

প্রস্তুতির বিষয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন বলেন, এবারের বইমেলা আয়োজনের কাজ দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন। আমরা দারুণ একটা মেলা উপহার দিতে চাই। প্রথমদিকে কারও কারও কিছু অভিযোগ ছিল, যা নিজেরাই চমৎকারভাবে মিটমাট করে নিয়েছে।

ঘাসফুল প্রকাশনীর সম্পাদক মেহেদী হাসান জানান, প্রতিবছর কিছু জটিলতা, প্রতিবন্ধকতা থাকত। এবারে তা থাকছে না। আমাদের প্রকাশনী থেকে নতুন-পুরাতন লেখকদের দেড় শতাধিক বই প্রকাশ পাবে।

বইমেলার যত আয়োজন

বাংলা একাডেমি সূত্র জানায়, বইমেলা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বইমেলা প্রাঙ্গণে ‘আমি লেখক বলছি’ মঞ্চ থাকবে। যেখানে নতুন বই সম্পর্কে লেখক, পাঠক ও দর্শকদের মধ্যে মতবিনিময়, আলোচনা-সমালোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। তা ছাড়া মোড়ক উন্মোচনের জন্য ‘নতুন বই উন্মোচন মঞ্চ’ নামে একটি নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা থাকবে।

এবারের বইমেলার নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমি প্রচলিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। অন্যান্য প্রকাশনীকে ২৫ শতাংশ কমে বই বিক্রি করতে হবে। জননিরাপত্তা কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে কিংবা অন্য কোনো কারণে বইমেলা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রকাশিত বই বিক্রি বন্ধ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রকাশক বা লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস ডিএমপি কমিশনারের

এদিকে অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। গতকাল বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মেলার ভেতরে ও চারপাশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থাকবে ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার টেন্ডার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মোতায়েন, বিলবোর্ড, ব্যানার ও মাইকিং করে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি, মেলা প্রাঙ্গণ ড্রোন দ্বারা নজরদারি করা এবং সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে সার্বক্ষণিকভাবে হাজির রাখা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা