× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কবি হেলাল হাফিজের শারীরিক অবস্থার অবনতি, চিকিৎসার দাবি

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২০ পিএম

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:২৮ পিএম

হেলাল হাফিজ। ছবি : সংগৃহীত

হেলাল হাফিজ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজের শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি হচ্ছে। কিডনি, ডায়াবেটিস ও স্নায়ু জটিলতার মতো নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি কবি দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় ভুগছেন।

নিঃসঙ্গতাপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজ তার জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন হোটেলে হোটেলে। বার্ধক্যে এসে চিকিৎসার জন্য তাকে থাকতে হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে।

হাসপাতালে কবির অসহায়-নিঃসঙ্গ অবস্থায় শোকাতুর হয়ে আয়কর আইনজীবী ও লেখক ইসমত শিল্পী তাকে নিয়ে গেছেন তার বাসভবনে। সেখানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তার দেখভাল করছেন।

ইসমত শিল্পী সোমবার দুপুরে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে ক্রমেই। কখনও প্রেসার কমে, বাড়ে। মাথা ঘুরায়। ঘুমের ভেতরে চিৎকার করে ওঠেন। সব থেকে বড় কথা মানসিকভাবে তিনি দিশাহারা। কারণ তিনি নিজে চলতে পারেন না। এই অবস্থায় কোথায় যাবেন! খাওয়ার সময় কখনও কখনও চোখ ভিজে ওঠে। তার কবিতা পড়ে শোনালেও এভাবে আড়ালে চোখ মোছেন। আমি দেখি, কিছুই বলার থাকে না।’

শিল্পী তার ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি কবিতা পড়ে শোনাচ্ছেন কবি হেলাল হাফিজকে। শয্যাশায়ী কবি হেলাল হাফিজ সেই কবিতা শুনে আবেগ্লাপুত হয়েছেন।

গত ২০ অক্টোবর বারডেম হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর কবি হেলাল হাফিজকে নিজের বাসায় নিয়ে এসেছেন ইসমত শিল্পী ।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রিলিজের পর আমার কাছে রাখা হয়েছে কবি হেলাল হাফিজকে। আমি একা তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি । উনার জন্য কোনোভাবেই একা সবকিছু পারা সম্ভব না। চারবার ব্লাড টেস্ট, ইনসুলিন দেওয়া, ঔষধ খাওয়ানো ও খাবার। এমনকি মানসিকভাবে ভালো রাখার চেষ্টাও। কতদিন সম্ভব? কী মর্মান্তিক ঘটনা! হাসপাতাল থেকে কবি হেলাল হাফিজকে আমার বাসায় আমি নিজের সিদ্ধান্তে এনেছিএটা যৌক্তিক ধারণা নয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আমার বাসায় থাকার কথা।’

কবি হেলাল হাফিজকে হাসপাতালে যারা দেখভাল করতেন বা চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছিলেন, তারা এখন কবির সুচিকিৎসার বিষয়ে তেমন সায় দিচ্ছেন না বলে অভিযোগও করেছেন শিল্পী।

তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাসায় আনতে হলে আমার দুটো শর্ত ছিল। এক, একজন লোক দিতে হবে। দুই, তাদের পক্ষ থেকে যে ফেসবুক গ্রুপ সেগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ আমি ওই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত নই। আর গ্রুপ সম্পর্কে খারাপ মনোভাব জন্ম নেয় অনেকের মাঝে। গ্রুপের লোকজন আমার এখানে রেখে যাওয়ার পর থেকে এলোমেলো আচরণ শুরু করে। প্রধানত তারা গ্রুপ বন্ধ করতে রাজি না । এটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বলেছিলাম, গ্রুপ যদি বন্ধ না করলে আপনারা কবিকে নিয়ে যাবেন। সমস্ত দায়িত্ব আপনাদের, আমি এর মধ্যে নেই। কবির ব্যক্তিগত শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আমি বিপদের সময় রেখেছি। গ্রুপের কর্মকাণ্ড বরাবরই আমার কাছে পরিষ্কার মনে হয়নি। কথাবার্তার পর তারা গ্রুপ বন্ধ করেছে এবং আমার ওপর বিরক্ত হয়। এর কারণ বুঝতে পারলেও আমার বোঝার দরকার নেই, ওসব আমার চিন্তার বিষয় নয় বলে মনে করেছি।’

শিল্পী লিখেছেন, ‘আমার কাছে কবি যতদিন আছে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি দেখব, এটা আমার কথা। কিন্তু একটি ফাইনাল ব্যবস্থা হওয়া জরুরি। আমি একা উনার সামগ্রিক দেখাশোনা করতে পারব না, তাই কবির জন্য একজন লোক চেয়েছিলাম। যারা হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে উনার দেখাশোনা করার দায়িত্বে ছিলেন তাদের কাছে। এতদিনে কবির জন্য একজন লোকও দেয়নি। কবির জন্য পারমানেন্ট জায়গা করার কথা ছিল এক সপ্তাহের মধ্যে। তাদের পক্ষ থেকে আর কোনো উদ্যোগ নেই।’

১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন কবি হেলাল হাফিজ। ১৯৮৬ সালে তার প্রথম কবিতার বই ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয়। কবিতার জন্য ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা