সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:০৩ এএম
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা করে মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে আগামী ১৬ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩৩তম লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা করে মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
সভায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের নবনিবার্চিত সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম ভূইয়া, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপন দেবনাথ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইব্রাহীম, উপজেলা আওয়ামী লীগের জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুম, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সি প্রমুখ।
এ জাদুঘরে রয়েছে গ্রামীণ লোকজীবনের নানান উপাদান যেমন কৃষক পরিবারের ঢেঁকিতে ধান ভানার দৃশ্য, লাঙ্গল কাঁধে মাঠে যাওয়া ও পালকিতে নববধূর আগমনের দৃশ্য, পটচিত্র ও মুখোশ গ্যালারি, নদীমাতৃক বাংলাদেশের সাম্পান আর বজরাসহ বৈচিত্র্যময় নৌকার মডেল। কাঠ খোদাইয়ের বিভিন্ন উপাদান পালকিতে জমিদারসহ গ্রামবাংলার কারিগরদের নানা দৃষ্টিনন্দন কাজ, লোকসংঙ্গীত, লোকজ অলংকার, ভাওয়াইয়া গানের ভাইয়ের সেই গাড়ির চিত্র। ফাউন্ডেশনের ভেতরে শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর এবং লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর। এ দুটি যাদুঘরে স্থান পেয়েছে প্রায় পাচঁ হাজার প্রাচীন লোক ও কারুশিল্প।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তর কারুশিল্প যাদুঘর। গ্রাম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রতি বছরের মতো আগামী ১৬ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার এ মেলার উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবারের উৎসব ও মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কারুশিল্পীদের প্রদর্শনী, লোকজীবন প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলা প্রদর্শন করা হবে। এ বছর কর্মরত কারুশিল্পীদের প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ ১০০টি স্টল রয়েছে। এ বছর দেশের ১৭টি জেলার কারুশিল্পীরা অংশ নেবেন। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শীতল পাটি, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মুখোশ। চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁয়ের জামদানি, বগুড়ার লোকজ খেলনা, প্রতিদিন সন্ধ্যায় লোকজ মঞ্চে পালাগান, বাউল গান, জারিসারি গান, হাছন রাজার গান, গ্রামীণ খেলা হা-ডু-ডু, কানামাছি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলা উপলক্ষে পুরো ফাউন্ডেশন চত্বর সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।