× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কবিগুরুর স্মৃতিময় জমিদারবাড়ি

আব্দুল মালেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:১৩ এএম

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:০৫ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত আঠারবাড়ী জমিদারবাড়ি। প্রবা ফটো

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত আঠারবাড়ী জমিদারবাড়ি। প্রবা ফটো

১৯২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী জমিদারবাড়িতে এসেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার স্মৃতিবিজড়িত সেই জমিদারবাড়িটি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে আড়াইশ বছরের ইতিহাস ও স্মৃতি। আঠারবাড়ী রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকাগুলো এখন আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একটি সমৃদ্ধ এলাকা আঠারবাড়ী। ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্যে ও যোগাযোগব্যবস্থায় অগ্রসর ছিল। এমন একটি সমৃদ্ধ এলাকায় জমিদার প্রমোদ চন্দ্র রায়ের পরিত্যক্ত দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল জমিদারবাড়িটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে। চমৎকার কারুকার্যময় এ রাজবাড়িটির বয়স প্রায় আড়াইশ বছর বলে ধারণা করা হয়। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বাড়িটির অবস্থান। মূলত এই জমিদারবাড়ি থেকেই এই গ্রামের নাম আঠারবাড়ী হয়েছে। বর্তমানে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম আঠারবাড়ী।

১৯২৬ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আঠারবাড়ী জমিদারবাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে একবার এসেছিলেন। আঠারবাড়ীর তৎকালীন জমিদার প্রমোদ চন্দ্র রায় চৌধুরীর আমন্ত্রণে কবিগুরু ট্রেনে করে বেড়াতে এলে তাকে ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিবাদন জানানো হয়। আঠারবাড়ী রেলস্টেশন থেকে কবিকে হাতির পিঠে বসিয়ে জমিদারবাড়ির মূল ফটক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। মূল ফটকে পৌঁছার পর তাকে সোনার চাবি উপহার দেন জমিদার প্রমোদ চন্দ্র রায় চৌধুরী। ওই চাবি দিয়ে রবীন্দ্রনাথ কাচারিঘরের মূল ফটক খোলেন। সেখানে তার সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। ছাড়া বাউল, জারি-সারি গানের আসর বসানো হয়েছিল।

জানা গেছে, প্রমোদ চন্দ্র রায় শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী ছিলেন। কবিগুরু মূলত প্রমোদ চন্দ্র রায় চৌধুরীর নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে আঠারবাড়ি এসেছিলেন। কবির এ সফরটি সে সময় ভারত বিচিত্রা সাময়িকীতে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছিল। কথিত আছে ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে’ কবিগুরুর বিখ্যাত এ লেখাটি আঠারবাড়ীর জমিদারের শানবাঁধানো পুকুরঘাটে বসে লিখেছিলেন। 

এই জমিদারবাড়িকে ঘিরে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজ। এর পাশে আছে আঠারবাড়ী এম সি উচ্চ বিদ্যালয়। কলেজের প্রধান ফটক পার হয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে বিশাল খেলার মাঠ এবং তার বিপরীতে জমিদারবাড়ির অন্দরমহল। অন্দরমহলে নাচের জায়গা, চাকরবাকরদের থাকার ঘর, সুবিশাল একটি অট্টালিকা চোখে পড়বে, যার প্রতিটি কাজ সুন্দর কারুকার্যময়।

কলেজ ক্যাম্পাস অংশে রয়েছে কাচারিবাড়ি ও দরবার হল। ভবনের ওপরে রয়েছে সুবিশাল এক টিনের গম্বুজ। পেছনে সারি সারি বৃক্ষ-বনানী। রয়েছে রানীপুকুর। এই পুকুরে আসা যাওযার জন্য অন্দরমহল থেকে গোপন সুড়ঙ্গপথ ছিল বলে জানা যায়। দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল জমিদারবাড়িটি এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। এই জমিদারবাড়িটির নান্দনিক কারুকার্য ও সবুজে ঘেরা কোলাহলমুক্ত পরিবেশ সবার দৃষ্টি কাড়ে নিঃসন্দেহে। চমৎকার কারুকার্যময় স্থাপনাগুলো বর্তমানে পুরোনো হয়ে শ্যাওলা ও আগাছা পড়ে দিন দিন অযত্নে খসে পড়ছে।

আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে প্রতিবছর কবিকে স্মরণ করা হয়। আয়োজন করা হয় আলোচনাসভা, কবিতাপাঠের আসরসহ নানান কর্মসূচি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল কবির নিয়োগী বলেন, ‘কবিগুরু এক মহাসমুদ্রের নাম। তিনি বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কাÑ এই তিন দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। তার স্মৃতিকে আমরা বরাবরই সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই। ইতোমধ্যে জমিদারবাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঐতিহ্য সংরক্ষণের তালিকায় স্থান পেয়েছে।’

অপরদিকে স্থানীয়রা জানান, দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের অনন্য শৈল্পিক নির্মাণশৈলীসমৃদ্ধ এই জমিদারবাড়ি। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অবহেলায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই জমিদারবাড়িটি বিলুপ্তির পথে। অথচ আঠারবাড়ী জমিদারবাড়ি ময়মনসিংহ বিভাগের একটি সমৃদ্ধ এলাকা, যেখানে ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই এলাকাটি ব্যবসা-ব্যাণিজ্যে ও যোগাযোগব্যবস্থায় অগ্রসর। মনোমুগ্ধকর এ এলাকাটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সরকারের কাছে দাবি জানান।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃতী সন্তান, বরেণ্য কথাসাহিত্যিক, জনপ্রিয় লেখক হ‍ুমায়ূন আহমেদেরও স্মৃতিবিজড়িত এই জমিদারবাড়িটি। হ‍ুমায়ূন আহমেদ তার ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চন্দ্রকথা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ধারণ করেছিলেন এখানে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা