প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৩ ২০:১৯ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩ ২০:৫১ পিএম
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের নামে নামকরণ করা সড়কের উদ্বোধনকালে বক্তব্য দেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। ছবি : প্রবা
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ফকির আলমগীরের গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
রবিবার (২৩ জুলাই) সকালে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের নামে নামকরণ করা সড়কের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএনসিসির মেয়র খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে ফকির আলমগীরের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া শেষে খিলগাঁও বি-ব্লক, ৬ নং রোড (মুক্তি ক্লিনিকসংলগ্ন) শিল্পী ফকির আলমগীর সড়ক নামে উদ্বোধন করেন।
ফকির আলমগীরের ছোটভাই শিল্পী ফকির সিরাজের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ফকির আলমগীরের স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ’পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে দেশের শিল্পীরা গান গেয়ে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছেন। গান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ ছিল, এটা পৃথিবীতে বিরল ঘটনা। গান হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে দেশকে লালন করা যায়। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে ফকির আলমগীরের মতো শিল্পীরা গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।’
মেয়র বলেন, ’গণসংগীতশিল্পীরা যে গান গেয়েছেন, সেগুলো মানুষকে উজ্জীবিত করে। ফকির আলমগীর, আজম খান, ফিরোজ সাঁই, পিলু মমতাজ, ফেরদৌস ওয়াহিদ, আব্দুল আলীমেরা যে গানগুলো গেয়েছেন, সেগুলো শুনলে কেউ বাবা-মাকে ভুলতে পারবে না, দেশকে ভুলতে পারবে না। আমি নিজে গান শুনি। এসব গান প্রাণের সঞ্চার করে। প্রখ্যাত এই গুণী শিল্পীদের গান হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। এই সড়কটি শিল্পী ফকির আলমগীরের নামে নামকরণের মাধ্যমে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গুণী শিল্পীকে সম্মানিত করা হলো। অন্য শিল্পীদের নামেও সড়কের নামকরণ করা হবে।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ’সিটি করপোরেশন থেকে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। কিন্তু সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে—জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিসের লার্ভা জন্মায়। নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের খোলা প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের খোলা পাত্র, ছাদ কিংবা অন্য কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জমে থাকা স্বচ্ছ পানি ফেলে দিন।’ এ সময় তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্কুল, কলেজ, ক্লাবসহ বিভিন্ন সোসাইটিকে কাজ করার অনুরোধ জানান।
নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘কোথাও পানি জমছে এমনটা আপনাদের নজরে আসলে সেটা আমাদের জানান। পানি জমে আছে কিন্তু মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি বা সিটি করপোরেশনের সেবা পাচ্ছেন না, এমন তথ্যও আমাদের জানান।’