প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৩৪ এএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:৪৮ পিএম
চারুকলার বকুলতলায় ছায়ানটের শিল্পীদের গান ও নৃত্যে শরৎবন্দনা। প্রবা ফটো
শরতে উৎসবের ধুম লেগেছে চারদিকে। ঢাকে পড়েছে কাঠি, কোথাও বাজছে মঙ্গলশাঁখ। দুর্গোৎসবের ঠিক আগে পাড়ায় পাড়ায় এখন মহাব্যস্ততা। মণ্ডপে-মণ্ডপে প্রতিমা আসছে, তাই হই হই কাণ্ডে মেতেছে ছেলে-বুড়ো সবাই।
ওদিকে শরতের আকাশও জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের। ভ্যাপসা গরম আর ঝরোঝরো বাদল দিন পেরিয়ে বঙ্গে শীত আসছে ঘনিয়ে।
করোনা মহামারী কাটিয়ে দুই বছর পর আবারও উৎসবের মৌসুম আর ঋতু বদলের এই বেলায় নগরে শরৎবন্দনার আয়োজন করল সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রত্যুষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় কবিতা, গান ও নৃত্যে তারা বন্দনা করল শরৎকে।
শুক্রবার সকাল ঠিক ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় সম্মেলক নৃত্যে। ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ গানের সঙ্গে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে ছায়ানটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা।
শরৎ উৎসবে একক গান পর্বে দীপ্র নিশান্ত শোনান ‘শরত আলোর কমলবনে’; নাঈমা ইসলাম নাজ শোনান ‘আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে’; অসীম দত্ত শোনান ‘তুমি ঊষার সোনার বিন্দু’; অভয়া দত্ত শোনান ‘তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ’।
একক গানের ফাঁকে চলতে থাকে সম্মেলক নৃত্য ও আবৃত্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিচিত্র’ প্রবন্ধ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন জাহিদ রেজা নূর। সুমনা বিশ্বাস শোনান রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘শরৎ’।

পরে একক গান পর্বে সেমন্তী মঞ্জরী শোনান ‘আজি মেঘ কেটে গেছে’; এ টি এম জাহাঙ্গীর শোনান ‘আমি চাহিতে এসেছি শুধু একখানি’। তাহমিদ ওয়াসীফ ঋভু পরিবেশন করেন ‘কেন যে মন ভোলে আমার’; সুতপা সাহা শোনান ‘কার বাঁশি নিশিভোরে’; সেঁজুতি বড়ুয়া শোনান ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’; মাকসুরা আখতার শোনান ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’।
সম্মেলক সংগীত পর্বে ‘আমরা বেঁধেছি কাঁশের গুচ্ছ’ পরিবেশন করে ছায়ানটের বড়দের দল। তারা পরে শোনান ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’।
‘তোমরা যা বল তাই বল’ শিরোনামে মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দার রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করে সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ।
ছায়ানটের বড়দের দলের ‘দেখো দেখো শুকতারা আঁখি মেলে চায়’ গানের সঙ্গে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে বড়দের দল।
ছায়ানটের ছোটদের দলের ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়’ গানের সঙ্গে ছোটদের দল আসে সম্মেলক নৃত্য নিয়ে।
ছোটদের গানের দল যখন ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ ও ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ গান দুটি পরিবেশন করল তখন তার সঙ্গে নাচ নিয়ে মঞ্চে এলো ছোটদের দলটি।

সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয় ।
পুরো অনুষ্ঠানে যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন তবলায় এনামুল হক ওমর, মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার, এসরাজে অসিত বিশ্বাস, মন্দিরায় প্রদীপ রায়।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, করোনাকালীন কারাবন্দি সময় পার হয়ে আমরা আবারও মিলতে শুরু করেছি। সবাই জানেন, ছায়ানট পয়লা বৈশাখের পাশাপাশি বর্ষামঙ্গল, শরতের অনুষ্ঠানও আয়োজন করি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করার মঞ্চ হচ্ছে এই প্রকৃতি পর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলো। আজকের বাংলাদেশে এই ঋতু উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব আছে।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমাদের ধর্ম যাই হোক, আমরা সবাই প্রকৃতির সন্তান। বাঙালি সংস্কৃতির সাধনার ভেতর দিয়ে একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই, প্রকৃতি উৎসবের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে এ বার্তা দিতে চাই।
প্রবা/রাই/ এসআর