প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩ ২১:১০ পিএম
শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে করে সংগীতানুষ্ঠান। প্রবা ফটো
কেবল রাজদরবারে, ধর্মসভায় বা অভিজাত এলাকার পানশালায় সংগীত পরিবেশন হবে এমনটি মানতে পারেননি ফরাসি সংগীতপ্রেমীরা। যে সংগীত প্রতিদিন হৃদয়ের কথা বলে, প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের সংযোগের কথা বলে যে গান; সে গানকে দেশের প্রতিটি আনাচকানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিলেন তারা।
সময়টি ১৯৮২ সাল, ফরাসিরা সারা দেশব্যাপী সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। ‘ফেত দো লা মিউজিক’ শিরোনামের আয়োজনটি পরে পায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বের শতাধিক দেশে বিশ্ব সংগীত দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে।
নানারকম সংগীত সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া, এর মাধ্যমে মানববন্ধন সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্মুক্ত পরিবেশে একের পর এক সংগীত পরিবেশনই হচ্ছে ‘ফেত দো লা মিউজিক’র মূল ধারনা। সংগীত উৎসবে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে নতুন আর দক্ষ শিল্পীদের মধ্যে। প্রীতি-বন্ধনের বাণী নিয়ে গান ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।
বুধবার (২১ জুন) নানা আয়োজনে ঢাকায় বিশ্ব সংগীত দিবস উদযাপিত হয়েছে। এদিন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শিল্পকলা একাডেমি ও সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে সংগীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
এদিন সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের শুরুতে বিশ্ব সংগীতের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক সাইম রানা, নকিব খান, ফরাসি বংশোদ্ভূত বাউল গবেষক দেবরাহ্ জান্নাত। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন লিয়াকত আলী লাকী।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে মো. মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় সমবেত যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রশিল্পী দল। পরে ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল। এই অনুষ্ঠানে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নর্তনালয়। এদিন একক সংগীত পরিবেশন করেন নকিব খান, খুরশিদ আলম, এলিজা পুতুল, শরীফ সাধু, জাপানের শিল্পী মাএ ওয়াতানাবে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী বব। পথিক নবী, শাহনাজ বেলী, অনুপমা মুক্তি, রাজিব, সন্দীপন, মেহরীন, লিজা, বিউটিসহ এ প্রজন্মের একঝাঁক শিল্পীর কণ্ঠে পরিবেশিত হয় আধুনিক গান। ‘গীতবাদ্যে লোক দর্শন’ শিরোনামে সমবেত লোকসংগীত পরিবেশনার পর শিল্পকলা একাডেমির শিশু শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে দুটি গান- ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য’ এবং ‘আমার সবাই মঞ্চকুড়ি’। ‘বিশ্ব মায়ের সুর, ছন্দ, বাণী’ শিরোনামের ঢাকা সাংস্কৃতিক দলের সমবেত সংগীতের সঙ্গে নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসে ভঙ্গিমা ড্যান্স থিয়েটার। প্রায় ৪০ মিনিট ব্যাপ্তিকালে এই প্রযোজনায় বিশ্বের বেশকয়েকটি দেশের ভাষায় রচিত সংগীতের খণ্ডাংশও পরিবেশিত হয়।
সংগীত পরিবেশনার ফাঁকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১লা আগস্টে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন গার্ডেন স্কয়ারে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’র নানা পর্ব উপস্থাপিত হয়। পরে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের পরিবেশনার পাশাপাশি পণ্ডিত উদয়শঙ্কর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও শচীনদেব বর্মণের সংগীত জীবনের নানা পর্বের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় মঞ্চপর্দায়।
সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা মেলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের দুই দিনের আয়োজন শুরু হয় বুধবার বিকালে। এদিন বিকালে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা মেলা মিলনায়তনের সামনে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় এই আয়োজন। একক ও দলীয় সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি গান নিয়ে আলোচনা ও নৃত্যানুষ্ঠানের পর্বও ছিলো এই আয়োজনে।
প্রথম দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান। বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সহ সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। এদিন দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সুরের ধারা, বাঁশুরিয়া, গীত শতদল, সারগাম ললিতকলা একাডেমি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, অভ্যুদয়, নির্ঝরণী একাডেমি ও নিবেদন। একক সংগীত পরিবেশন করেন সরদার রহমতউল্লাহ, অঞ্জলি চৌধুরী, চম্পা বণিক, মায়েশা সুলতানা উর্বি, রোকাইয়া হাসিনা, তাসলিমা বেগম নীতা, রজত দত্ত। অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন বাফার শিল্পীরা।