প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৪০ পিএম
নববর্ষকে বরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মেতে উঠেছিলেন বিজু, বিহু, বৈসুক, বিষু ও সাংগ্রাই উৎসবে। ধর্মীয় রীতিনীতির পাশাপাশি বর্ষবরণের ওই উৎসবগুলো এখন দেশীয় সংস্কৃতির অনন্য উপাদান।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় পার্বত্যবাসীর আয়োজনে এসে রাজধানীবাসী উপভোগ করলেন সেই উৎসবের নানা আঙ্গিক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ’অপার সম্ভাবনা ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য তিন জেলা। আমার কষ্ট লাগে, যখন দেখি এ তিন জেলার মানুষ পিছিয়ে রয়েছেন বা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন। আমি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে কাজ করছি, যেন তাদের মুখে হাসি ফুটাতে পারি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বলেন, ’আপনারা নিজেদের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে থাকবেন। আপনাদের মধ্যে যারা শহরে রয়েছেন, তারা গ্রামে যাবেন। আপনারা সরকার ও পার্বত্যবাসীর সেতুবন্ধন রচনা করবেন। আপনারা বুক উঁচিয়ে বলবেন, আমরা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা।’
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ও সাংক্রানের প্রীতি সম্মিলনী উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এক আয়োজনে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাসন্তী চাকমা, শিল্পকলা একাডেমির সচিব সালাউদ্দিন আহম্মদ।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ও সাংক্রান পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির সভাপতি শৈলজ বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্যুরিস্ট পুলিশ) বিধান ত্রিপুরা, ঢাকা ওয়াসার সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ক্যসাচিং মারমা।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পর্বে আরশি ত্রিপুরা শোনান ‘পাইদি পাইদি বৈসুক’, চথুই ফ্রু শোনান দুটি সাংগ্রাই সংগীত ‘সাংগ্রাই ছোচ রো’ ও ‘হুসুই কোয়ারে সাংগ্রাই পোয়ে’, মৈত্রী চাকমা শোনান ‘বিজু তুই খুশি লনে’ ও ‘আজ মন চেয়েছে হারিয়ে যাব’। মাওয়াং সিং শোনান ‘হুসই পোয়ো রিলংবোয়ে’ ও ‘আপ্যাছুং সাংগ্রাই পোয়ে’; ‘ফ্রু ফ্রু ওয়া ওয়া অরং’, সমান্তর চাকমা শোনান ‘ফাগুনো বুয়েরত’, ‘জুন গাবুরী’, আরশী ত্রিপুরা শোনান ‘স্বপন পারত ফুল ফুদেবং’। চাকমাদের ‘গেংথুলি উবগীত’ পরিবেশন করেন শিল্পী অনন্ত রঞ্জন চাকমা। পল্টু চাকমা শোনান ‘রেত্তদ ফুরে এলো’, ‘লোগাং ছড়া কুলে কুলে’, ‘রাঙ্গা চাঙ্গা দোলে মিলেবো’।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ফুটে ওঠে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা নৃত্যে।
প্রথমে অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় চাকমা ঝিঝু নাচ নিয়ে মঞ্চে আসে কালার অব হিল নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা। পরে এই সংগঠনের শিশুশিল্পীরা মঞ্চে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে। শেষে তারা পরিবেশন করে মারমা নৃত্য। ফিফা চাকমার পরিচালনায় তপস্যার শিশুদল পরিবেশন করে সম্মেলক নৃত্য। তপস্যার বড়দের দল পরে পরিবেশন করে তঞ্চঙ্গ্যা নৃত্য, চাকমা ঝিঝু নাচ।