পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশিষ্টজন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৩০ এএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১৬ এএম
প্রবা ফটো
‘গ্লানিময় অতীত, অযাচিত ভুল আর ত্রুটিময় পথচলায় বিদীর্ণ হৃদয় স্নাত হবে মাঙ্গলিক গানে। শিকড়সন্ধানী কিশোর নাগরিক উৎসবে খুঁজে বেড়াবেন গৌরবান্বিত অতীত। জীবনের বর্ণ খুঁজে পেতে চপলা কিশোরী দিনমান ঘুরবেন বৈশাখের মেলায়। আনন্দগীত ও বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় পহেলা বৈশাখে বাঙালি মেতে উঠবে প্রাণের জোয়ারে।’ নববর্ষের প্রাক্কালে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা গুণীজন।
এ প্রসঙ্গে ছায়ানটের সহসভাপতি ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে সম্মিলন, রমনার অশ্বত্থমূলে আমরা সেটিই ঘটানোর চেষ্টা করেছি। প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে সবাই আনন্দ প্রকাশ করি, হতাশাকে বিসর্জন দেওয়ার চেষ্টা করি।’
পহেলা বৈশাখের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই উৎসবের অর্থনীতি নতুন মাত্রা পাচ্ছে। একটি জরিপ থেকে আমরা জেনেছিলাম, ২০১৯ সালে ১৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য এই উৎসবকে ঘিরে বিক্রি হয়েছিল। জরিপে দেখা গিয়েছিল, প্রতিবছর ২০ শতাংশ করে এটা বাড়বে।’
অর্থনৈতিক-সামাজিক কার্যক্রমে মানুষ আন্তর্জাতিক সময়সূচিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও বাঙালিকে বাংলা বর্ষপঞ্জি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের দিনটি একই সঙ্গে আমাদের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমানব হিসেবে আন্তর্জাতিক সংযুক্তির জন্য আমরা ইংরেজি তারিখ, দিনক্ষণের সঙ্গে মিল রেখে চলাচল করি। আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে নিজেদের তো আর বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। কিন্তু দেশের অর্থনীতিকে আরও কার্যকর করে তুলতে আমরা যেন ছেলেমেয়েদের বাংলা পঞ্জিকার সঙ্গেও পরিচিত করাই। তাহলেই বাংলা নববর্ষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে।’
বাঙালির প্রাণের এ উৎসবকে থামিয়ে দিয়ে প্রতিবছরই আসে নানা বিপত্তি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সরকারকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধ করতে বলেছেন। এ নিয়ে তুমুল শোরগোলের মধ্যেই গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদে এক উড়ো চিঠিতে হুমকি দেয়া হয়েছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধ না করলে তাতে হামলা করা হবে।
তবে এসব উড়ো চিঠিতে ভড়কে না গিয়ে বাঙালি নববর্ষের আনন্দে বিভোর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করেন প্রবীণ চিত্রশিল্পী হাশেম খান। তিনি বলেন, ‘বাংলা নববর্ষের মধ্য দিয়ে আগামী একটি বছর মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে, সুন্দরভাবে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। এই উৎসব আমাদের আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই স্কুল-কলেজ থেকে যে যেভাবে পারুন, নববর্ষকে পালন করুন।’
প্রবীণ চিত্রশিল্পী ফরিদা জামান বলেন, ‘অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বটে। কিন্তু যাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ, এখনও যাদের অন্তরে শেকড়ের টান, তারা সচেতন থাকলে এরা কিছুই করতে পারবে না।’
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায় ধর্মীয় অনুভূতির কোনো ব্যাপার নেই। বরং এতে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনা, আত্মসচেতনতা বেড়েছে। সুতরাং এসব কিছু আমলে নেব না। যে সংস্কৃতি সর্বজনীন, সেই সংস্কৃতির অধিকারে আনন্দ উৎসবে বাঙালি মেতে উঠবেই।’
ছায়ানট সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘সমাজে অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে বিরাজ করছে সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন। সেই বাস্তবতায় এবার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বারতা দেওয়া হবে নববর্ষ উদযাপনে শামিল হওয়া সাধারণ মানুষকে।’