প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৩ ২১:১৬ পিএম
বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমিতে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও সম্মাননা-২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রবা ফটো
মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে সাহিত্য ও সংস্কৃতির নতুন গতিপথ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে যে ছোটকাগজ বা লিটলম্যাগের যাত্রা শুরু করেছিলেন সাহিত্যিক-প্রকাশকরা, কালান্তরে তা হয়ে ওঠে সৃজনশীল গোষ্ঠীর মুখপত্র। গল্প, কবিতা ও সাহিত্যের গণ্ডি ছাপিয়ে ছোটকাগজ বলতে শুরু করে দেশ ও সমাজের চলমান প্রেক্ষাপটের কথা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের নানা ঘটনাবলি, প্রবন্ধ ও গল্প উঠে আসে এসব ছোটকাগজে। আর এভাবেই সাহিত্যের ছোটকাগজ পাঠকমনে খোরাক জোগায়, নতুন সাহিত্যভাবনায় উদ্বেলিত করে তোলে।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও সম্মাননা-২০২৩ অনুষ্ঠানে লিটলম্যাগ চর্চার নানা দিক নিয়ে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের ছোটকাগজ চর্চা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও সাময়িকপত্র গবেষক ড. ইসরাইল খান, প্রধান আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক মফিদুল হক।
অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ’আর্থিক লাভের সুযোগ হয়তো নেই, কিন্তু লিটলম্যাগ প্রকাশকরা সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছেন। লিটলম্যাগ নামে হলেও এই ছোটকাগজ লিটারেচার ম্যাগাজিন, যা সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ। এই লিটল ম্যাগাজিনগুলো সংগ্রহ করতে হবে যেন পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে সাহিত্যের সংযোগ হয়।’
প্রাবন্ধিক মফিদুল হক বলেন, ’একবিংশ শতাব্দীতে এসে লিটল ম্যাগাজিন নতুন সময়, নতুন দেশ ও নতুন সমাজ গঠনের কথা বলছে। মানুষের মুক্তির স্বপ্ন প্রতিফলিত হচ্ছে ছোটকাগজে। নানা রকম গোষ্ঠীবদ্ধতা, দশককেন্দ্রিকতা থাকলেও এখন ছোটকাগজে বিষয় বৈচিত্র্য ও বৈভবে সমাজের নানা অবহেলিত দিকগুলো তারা তুলে ধরেছেন নতুন প্রকরণে। তবে ছোটকাগজ প্রকাশনায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।‘
‘বাংলাদেশের ছোটকাগজ চর্চা’ শীর্ষক লিখিত প্রবন্ধে সাময়িকপত্র গবেষক ড. ইসরাইল খান বলেন, ’সাহিত্য ও সংস্কৃতি ভাবনার নতুন ধারা ও নতুন গতিপথ নির্ণয়ের লক্ষ্যে সাহিত্য সম্পাদকরা নতুন লেখক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু নব্বই দশকে এনজিও তৎপরতায় অসংখ্য দৈনিক পত্রিকা ও সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হলো। তখন বিশ্ব রাজনীতিতে বিশ্বায়নের ধোয়া তুলে যে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হলো, প্রশ্ন জাগল, এসব লিটল ম্যাগাজিন বা গোটা বাংলা সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি কী হবে? কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ‘নান্দীপাঠ’, ‘বোধ’, ‘শালুক’, ‘অনিন্দ্য’, ‘চর্যাপদ’, ‘অমিত্রাক্ষর’ ছাড়াও আরও যে সতেরোশ ছোটকাগজ বের হলো, তারা সব সংশয় থেকে উদ্ধার করে গভীর চিন্তা ও সাহিত্যভাবনার প্রতীক হয়ে উঠল।’
সভাপতির বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ’অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশকরা অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের বিকাশের জন্য, অনুপ্রেরণার জন্য শিল্পকলা একাডেমিতে তাদের লিটল ম্যাগাজিনগুলো সংরক্ষণ করা হবে। তাদের নিয়ে তিন মাস অন্তর একটি লিটল ম্যাগাজিন আড্ডার আয়োজন করা হবে, যেখানে সাহিত্যের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে।’
অনুষ্ঠানে ছয়টি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদককে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। তারা হলেন, ‘নিসর্গ’ সম্পাদক সরকার আশরাফ, ‘অনিন্দ্য’ সম্পাদক হাবিব ওয়াহিদ, ‘অরণিকা’ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, ‘নান্দীপাঠ’ সম্পাদক সাজ্জাদ আরেফিন, ‘পুষ্পকরথ’ সম্পাদক হাফিজ রশিদ খান ও ‘গৌড়লিপি’ সম্পাদক ফারুকুর রহমান ফয়সাল। প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে অতিথিরা শিল্পকলা একাডেমির ৫ নং গ্যালারিতে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় চিত্রশালার ৫ নং গ্যালারিতে ৬ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে লিটলম্যাগ প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।