× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্বসাহিত্যের দিকপালদের নিয়ে শুরু হলো দশম ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৮ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪২ পিএম

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমিতে ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: প্রবা

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমিতে ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: প্রবা

কথাসাহিত্য, কবিতা বা ছোটগল্প-সাহিত্যের নানা মাধ্যমের দিকপালরা এসেছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে; তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন পদার্থ-অনুজীব বিজ্ঞানের গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও অভিনয়শিল্পীরা। বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবিলায় উত্তরণ-উদ্ভাবন, বিজ্ঞানের অজানা তথ্য ও উদীয়মান তারকাদের স্বপ্নগাঁথার গল্পগুলো নিয়ে ঢাকায় দশমবারের মতো শুরু হলো ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’।

বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে মনিপুরী, ক্লাসিক্যাল, রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের উৎসব। ঢাকা লিট ফেস্টের এবারের আসরের উদ্বোধন করেন নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক আবদুল রাজাক গুরনাহ, ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক অমিতাভ ঘোষ, বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

এ সময় ঢাকা লিট ফেস্টের তিন পরিচালক ড. কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায ও আহসান আকবার উপস্থিত ছিলেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক আবদুল রাজাক গুরনাহ বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। আমি ধারণা করছি, এই আয়োজনের মাধ্যমে এমন কিছু দেখব, যা আমি জীবনেও দেখিনি। আমি মনে করি, এই আয়োজনের শুরুটা বেশ চমকপ্রদ ছিল।’

ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘এ রকম একটা আয়োজনে এসে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি কিন্তু একদিক দিয়ে বাংলাদেশি। আমার মায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং বাবার বাড়ি বিক্রমপুর। আমি বাংলাদেশে বড় হয়েছি। আমি সবসময় বাংলাদেশের কথা বলি। বাংলাদেশের ভাষা খুব চমৎকার। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা দিন দিন আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে আঞ্চলিক লিডার, জিডিপি বেশ ভালো। সুতরাং সেলিব্রেট করার অনেক কিছু আছে।’

বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘এই আয়োজনের সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যুক্ত ছিল। মহামারির কারণে এবার হয়তো একটু সম্পৃক্ততা কমেছে। আমি এই আয়োজনের সফলতা কামনা করছি।’

ঢাকা লিট ফেস্টের প্রযোজক ও পরিচালক সাদাফ সায বলেন, ‘এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই আয়োজন হয়ে আসছে। বিগত বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ এবং বন্ধুদের সহযোগিতায় আজ আমরা এখানে। মহামারি আমাদের একে অপরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে আমাদের একে অপরের কত প্রয়োজন। মহামারি আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নতুন করে বাঁচতে হবে।’ 

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক ড. কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ‘এখানে অনেক আলোচনা, বিতর্ক এবং সৃজনশীলতার স্ফুলিঙ্গ দেখা যাবে। কী হবে, কী ঘটবে আগে থেকে ধারণা করা খুব কঠিন। আমরা যখন জানি কিছু একটা হবে, তখন আলোচনা সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আশা করি, এই নব স্ফুলিঙ্গ এখানে জেগে উঠবে। কীভাবে জানি না, তবে হবে অবশ্যই।’

ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী দিনে আবুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেশন ‘টর্ন এপার্ট’। সেখানে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সংকট ও শরণার্থী সংকট নিয়ে আলোচনা করেন  সোমালিয়ান ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ, বুকারজয়ী শ্রীলঙ্কান ঔপন্যাসিক শিহান কারুণাতিলাকা এবং বুকারজয়ী ভারতীয় ঔপন্যাসিক গীতাঞ্জলি শ্রী। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেছেন বারবারা এপলার।

ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতা শব্দটি খুব ভয়ঙ্কর একটি শব্দ। নিজের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে নিজের অস্তিত্বের কাছ থেকে হারিয়া যাওয়া। রাজনৈতিকভাবে যারা নিজের দেশ, নিজের ভিটেমাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তারা ভয়ঙ্করতম নির্মমতার শিকার।’ 

শিহান করুণাতিলাকা বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষে আমরা মনে করেছিলাম আমরা এখন এক থাকতে পারব। তাদের সবাইকে নিয়ে তাদের গল্প বলতে পারব। কিন্তু নৈরাজ্যের কারণে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছিল, তা কখনও শেষ হয়ে ওঠেনি।’

শিহানের সাথে যুক্ত হয়ে গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, ‘আমাদের মানসিকতাই হয়ে গেছে বিচ্ছিন্নতার। আমরা ভয়াবহ সময়ে বাস করছি, যেখানে কোনো মানবিকতা নেই।’

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আসরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘দ্য হাঙরি টাইড’ সেশনে উদ্বাস্তু, শরণার্থী সংকট নিয়ে সাদাফ সাযের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক অমিতাভ ঘোষ।  

এদিন সকাল ১১টায় লন লাউঞ্জে ‘চাপের মুখে সাংবাদিকতা’ শিরোনামের সেশনে আলোচনায় অংশ নেবেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তাসমিমা হোসেন, মহসিন হাবীব ও তানিম আহমেদ।

ঢাকা লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকছে বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন। সেই সঙ্গে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে আছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। 

জেমকন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা লিট ফেস্ট জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের প্রদান করে বাংলাদেশের তিন কবি ও কথাসাহিত্যিককে।

এ বছর ‘স্তব্ধতা যারা শিখে গেছে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবি কামাল চৌধুরী। তিনি সম্মাননার সঙ্গে পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। তরুণ শ্রেণিতে ‘ঘুমিয়ে থাকা বাড়ি’ পাণ্ডুলিপির জন্য জেমকন তরুণ কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব মাহমুদ। আর এই শ্রেণিতে ‘সোনার নাও পবনের বৈঠা’ উপন্যাসের জন্য তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সাজিদুল ইসলাম। তরুণ এই দুই সাহিত্যিক পেয়েছেন এক লাখ টাকার করে চেক।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও জেমকন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, কবি জয় গোস্বামী, বাংলা ট্রিবিউনের প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ এবং সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা