এম আর ইসলাম রতন
প্রকাশ : ১৫ ঘণ্টা আগে
বক্তৃতা করছেন প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান
মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর গৌরবময় শতবর্ষ স্মরণে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ও মননশীল একক বক্তৃতা অনুষ্ঠান। ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ এই কালজয়ী স্লোগানকে বুকে ধারণ করে ০১ জুন ২০২৬ তারিখ ( সোমবার) সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের হোটেল আয়োজনে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান এর একক বক্তৃতা অনুষ্ঠান।
জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ, নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি.এম আব্দুল বারী সভাপতিত্ব করেন। বাঙালি মুসলিম সমাজের প্রগতিশীল চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের ঐতিহাসিক বাতিঘর ছিল "মুসলিম সাহিত্য সমাজ"। শত বছরের এই প্রাচীন সংগঠনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিপুল কুমার, শেখ আব্দুল মতিন, আশীর্বাদ দেব ও সমৃদ্ধি প্রামাণিকের কণ্ঠে কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার হে’-র চমৎকার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। যেখানে তবলায় সহযোগিতা করেন রণজিৎ কুমার পাল। সঙ্গীতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল। এরপর একক বক্তা দেশের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, প্রখ্যাত গবেষক ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসানকে উত্তরীয় ও পুষ্প শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে সংবর্ধিত করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি. এম. আব্দুল বারী। সংবর্ধনা শেষে এই খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা উপস্থাপন করেন ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নীলিমা তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যাপক এস.এম মোজাফফর হোসেন,কবি ও লেখক আতাউল হক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনসহ শহরের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে একক বক্তা অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তথ্যসমৃদ্ধ ও মননশীল একক বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি বক্তব্যে অত্যন্ত চমৎকারভাবে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ঐতিহাসিক পটভূমি, বাঙালি মুসলমান সমাজের আধুনিকায়ন এবং সমসাময়িক মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
একক বক্তৃতার পর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রাণবন্ত উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় উপস্থিত সুধীজন মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কৌতুহলী প্রশ্ন করেন এবং প্রধান বক্তা অত্যন্ত নিখুঁত ও সাবলীলভাবে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন।
চমৎকার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ইতিহাস ও গুরুত্ব সবার সামনে সহজভাবে তুলে ধরা হয়, যা নওগাঁর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছে এবং তরুণ প্রজন্মকে যেমন স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে,তেমনি সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই ধরণের নিরেট বুদ্ধিবৃত্তিক ও একক বক্তৃতাধর্মী আয়োজন এবারই প্রথম, যা উপস্থিত সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত গোছানো, প্রাণবন্ত এবং স্বতঃস্ফূর্ত। স্থানীয় লেখক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং প্রগতিশীল সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জীবন সদস্য অধ্যাপক এস. এম. মোজাফফর হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা ও সুধীজন আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশ আরও বেগবান হবে। সবশেষে উপস্থিত সকলের সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফল ও দৃষ্টিনন্দন এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।