প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার বারিধারায় দেশ গ্যালারিতে শুরু হয় "রিফ্লেকশন অফ রুটস" শীর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। ছবি: সংগৃহীত
চলে এসেছে হিমের মাস পৌষ। শহরে এবার শীত জমেনি তেমন। তবু ঢাকাবাসীর কাছে সময়টা দারুণ উপভোগ্য। চলছে ছুটির আমেজ। এই সব কিছু নিয়ে অসামান্য একদিন ছিল ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস উদযাপনে তখন মেতেছিল গোটা দেশ। ঘড়ির কাঁটা বিকাল চারটা বাজতেই বারিধারার দেশ গ্যালারিতে শুরু হলো "রিফ্লেকশন অফ রুটস" শীর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। এই যৌথ চিত্রকর্ম প্রদর্শনী উপলক্ষে গ্যালারির দেয়ালে স্থান পেয়েছে তরুণ শিল্পী আন্দালিব গহর, এলিজা রহমান, কেয়া ফারজানা হক, নাবিলা রহমান, সামিনা নাফিস, শামসুর রহমান খান ও শিল্পী আলীর নান্দনিক সব শিল্পকর্ম।
প্রদর্শনী শুরুর আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "আজ বিজয় দিবসে এমন একটি আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে আমার ভালো লাগছে। শিল্পকলা মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। এই মানবিকতার সন্ধান পেতে এজন্য শেকড়ে ফেরা জরুরি। এখানে যেসব তরুণ শিল্পীর কাজ উপস্থাপিত হয়েছে তারা প্রত্যেকেই মেধাবী। ক্যানভাসে চিত্রকর্ম আঁকার সময় তারা নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে ছিলেন সজাগ। এজন্য আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে শিল্পীরা বিভিন্ন লোকজ মোটিফ নিয়ে কাজ করেছেন। বাদ পড়েনি বাঙালীর চিরন্তন হাতপাখাও। লোকসংস্কৃতির এই রূপ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি আশা করব, আমাদের দেশের শিল্পীরা নিজেদের শেকড় ভুলে যাবেন না। বরং তারা সমাজের অগ্রসর ব্যক্তিত্ব হিসেবে বারবারই নিজেদের আদি উৎস সন্ধানে নিয়োজিত থাকবেন। তবেই আমাদের শিল্পকর্ম মানুষবান্ধব হবে যথার্থ রূপে।"
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, "শিল্পীদের দায়িত্ব নিয়ে প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। এই প্রদর্শনীর শিল্পীরা ঠিক এই কাজটি করেছেন। দর্শনের মত শিল্পেরও পরম্পরা আছে। এই পরম্পরায় ফেরত গেলে আমরা অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে নতুনভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব। এভাবেই তৈরি হয় গণমুখী শিল্প। মানুষ এর আকর্ষণে রূপান্তরকামী হয়ে ওঠেন। আগামীর সমাজ নির্মাণে এমন শিল্পকর্মের বিকল্প নেই কোনো।"
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী রণজিৎ দাস। তিনি বলেন, "আজকে এখানের শিল্পীরা নবাগত হলেও কাজের দিক থেকে তারা বেশ অভিজ্ঞ। ক্যানভাসগুলো এ বক্তব্যই দিচ্ছে আমাকে। তরুণদের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে অভিভূত হয়েছি। দেশ গ্যালারিকে ধন্যবাদ এমন প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য। আমি এই গ্যালারির পাশে আগেও ছিলাম, এখনো আছি।"
চারিদিকে শেকড় ছাড়িয়ে ভিন্ন কিছু করার একটা অপচেষ্টা প্রায় সময়ই চোখে পড়ে। এসব শিল্পে থাকে না প্রাণের স্পন্দন। বড় বিচ্ছিন্ন এর উপস্থাপন। মানুষের কাছে তাই এমন শিল্প সাড়া জাগাতে পারে না।
এই প্রবণতায় দারুণ রকম ব্যতিক্রম দেশ গ্যালারির এই তরুণদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। মানুষ ধরো, মানুষ ভজ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গ্যালারির ছবিগুলো কথা বলছে নিরন্তর। শিল্প রসিকরা তাই দেশ গ্যালারির এই প্রদর্শনীর টান উপেক্ষা করতে পারবেন না। শেকড়েই আমাদের মুক্তি। শেকড়েই প্রাণ পূর্ণতা পায়। শেকড় ছোঁয়া এই প্রদর্শনী তাই সমসময়ের জননন্দিত শিল্পের উদাহরণ হয়েই থাকবে।