প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫ ১৮:১৫ পিএম
শিল্পী ও ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান : ১৬ মার্চ ১৯৪৬-২০ জুলাই ২০২৫ । ছবি : সংগৃহীত
শিল্পী ও ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালে আজ (২০ জুলাই) সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। আসর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা হবে।
শিল্পী ও ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান শিল্পকলার প্রায় সমস্ত মাধ্যম নিয়ে কাজ করেছেন। অসামান্য কাজ করেছেন তিনি ভাস্কর্যে। জলরঙ, তেলরঙ, অ্যাক্রিলিক, স্কেচ সব মাধ্যমে কাজ করছেন সমানতালে। হামিদুজ্জামান খান ১৯৪৬ সালের ১৬ মার্চ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলায় সহশ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সায়েমউদ্দিন খান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, মাতা রাবেয়া খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। হামিদুজ্জামান ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটসে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় হামিদুজ্জামান পাকিস্তান সৈন্যদের প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও ছাড়া পান। ২৭ মার্চ ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় হামিদুজ্জামান অসংখ্য মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। যুদ্ধের নৃশংসতা এবং বাঙালিদের অভাবনীয় দুর্দশা হামিদকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। তার গড়া ভাস্কর্যের বেশির ভাগই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক।
১৯৭৬ সালে বারোদা মহারাজা সাহজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। সে বছরই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত প্রথম ‘জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’-তে শ্রেষ্ঠ ভাস্করের পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর শিল্পী ও ভাস্কর আইভি জামানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে বঙ্গভবনে ‘পাখি পরিবার’ শীর্ষক ভাস্কর্য এবং সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে ‘হামলা’ শিরোনামে ভাস্কর্য স্থাপন করেন। ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ গ্যালারিতে প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় । ১৯৮২-১৯৮৩ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্কাল্পচার সেন্টার স্কুল থেকে মেটাল কাস্টিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল অলিম্পিক পার্কে স্থায়ীভাবে ‘স্টেপস’ শিরোনামে ভাস্কর্য স্থাপন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে সার কারখানায় ‘জাগ্রতবাংলা’, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংশপ্তক’, ঢাকা সেনানিবাসে ‘বিজয় কেতন’, মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন প্রাঙ্গণে ‘ইউনিটি’, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ‘ফ্রিডম’, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বাধীনতা চিরন্তন’, আগারগাঁও সরকারি কর্মকমিশন প্রাঙ্গণে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’, মাদারীপুরে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ হামিদুজ্জামান খানের অন্যতম বহিরাঙ্গন ভাস্কর্য। ২০১৮ সালে গাজীপুরের কড্ডায় সামিট পাওয়ার প্লান্টে হামিদুজ্জামানের কর্মজীবন ও তার শিল্প সাধনার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘হামিদুজ্জামান ভাস্কর্য পার্ক’ নামে একটি ভাস্কর্য উদ্যান প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০০টি ভাস্কর্য নিয়ে গড়ে উঠেছে ভাস্কর্য পার্কটি। দিন দিন সেখানের ভাস্কর্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে তিনি একক প্রদর্শনী করেছেন ৪৭টি।
হামিদুজ্জামান খান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত প্রথম ‘জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’তে শ্রেষ্ঠ ভাস্করের পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭৬ সালে। তিনি ২০০৬ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন। ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি ফেলো নির্বাচিত হন।