× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাউলদের দিয়ে ফায়দা লুটছে রাজনীতিবিদরা : শফি মণ্ডল

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২ ২১:১৬ পিএম

বাউল সাধক ও শিল্পী শফি মণ্ডল।

বাউল সাধক ও শিল্পী শফি মণ্ডল।

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র বা দেশকালের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার বাউলরা যখন মানবিক মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনের কথা বলেন সুরে-সুরে, তখন রাজনীতিবিদরা তাদের আসরে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাউল সাধক শফি মণ্ডল।

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে শফি মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ব্যবহার করেন আপনারা, রাজনীতিকরা। একটা অনুষ্ঠানে আমরা গান করি যখন, আপনারা পেছনে পেছনে এসে সুযোগ খুঁজছেন যে কিছু লোক জড়ো হলে আমরা ওখানে ভিতরে ঢুকে বক্তৃতাটা দেওয়ার সুযোগ পাব। আমরা গানে গানে যে মানবতা ও সম্প্রীতির কথা বলি, আপনার খুঁজেন সেই সম্প্রীতির বাংলাদেশ কার পক্ষে যাবে, কার লাভ হবে।’

কুষ্টিয়ায় বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লাউবাড়িয়া গ্রামে একটি সাধুসঙ্গে হামলার করে দু্র্বৃত্তরা। 

লাউবাড়িয়া গ্রামের পলান মণ্ডল প্রতি বছর নিজ বাড়িতে ঘরোয়াভাবে সাধুসঙ্গের আয়োজন করেন। সাধুসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার বাউল, সাধু, লালন ভক্ত ও অনুসারীরা যোগ দেন। 

সেদিন রাত ৯টার দিকে একই এলাকার আজাদ, বাবুল, রফি, মাসুম, ছালামত, জিয়ার আলী, মোশারফ হোসেন, বশির, সাইফুল, সুমন, আরিফুল ইসলামসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাউলদের ওপর হামলা চালায় বলে পলান মণ্ডল অভিযোগ করেন। 

হামলায় পলান মণ্ডল, পলাশ মণ্ডল, ফজল ফকির, মাজেদা ফকিরানী ও আকলিমা খাতুনসহ অন্তত ৮ জন বাউল, সাধু ও লালন ভক্ত আহত হন। 

বাউলরা জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে সাধুদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। বাউলরা কোনো প্রতিবাদ করেননি। পরে পলান মণ্ডল বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

ওই হামলার ঘটনা তুলে ধরে শফি মণ্ডল বলেন, ‘বাউলরা কোনো প্রতিবাদ করেননি, তারা কড়জোড়ে মিনতি করেছে-বাবা তোমরা কারা? কোনো শব্দ নাই। তাদের কড়জোড়ের ওপরই মেরেছে। তারা কত বড় অমানুষ!’

দেশে আরও নানা স্থানে বাউলদের ওপর হামলার ঘটনায় যথোপযুক্ত বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ জানান বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সভাপতি শফি মণ্ডল।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলে কোনো লাভ নাই। বাউলদের ওপর অত্যাচার হোক, মানুষ অন্যমনস্ক ঘুরে দাঁড়াক। এই সুযোগে আমরা কিছু করে নিই... এরকম হতে পারে। তা না হলে আসামিগুলোকে যে ধরা হলো, তাদের কি হলো? তাদের কি বিচার আচার হলো?’

বাউলদের ওপর কেন বারবার হামলা তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় শফি মণ্ডল বলেন, ‘বাউলরা কী এমন বলে যে তারা হামলা করেন, তাদের এত আঁতে ঘা লাগে কেন? কারণ বাউলরা খুব সত্য কথা বলে। সবার দুর্বল জায়গায় আঘাত করে বাউলরা একটু কথা বলেন। এতে তারা ভেবে নেয়, বাউলদের মারলেই আমরা জয়ী হয়ে যাব। বাউলদের বারবার আঘাত করার সুযোগ পায়। ওরা ভয় পায়, বাউলরা না জানি কোন দুর্বল কথাটা জনসাধারণের মধ্যে বলে দেবে। তারা বারবার ভয় পায়।’ 

বাউলদের ওপর হামলার যথোপযুক্ত বিচার না হলে বাউলরা যে আর বসে থাকবে না বলেও হুশিয়ারিও দেন শফি মণ্ডল।

তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি একটা দেশের মেরুদণ্ড, ঐতিহ্য। এই জায়গায় যদি আঘাত করা হয়, তার তার বিচারে যদি সরকার সরকার সহযোগিতা না করে.. তাহলে একটা ভাব আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে। যেদিন ভাব আন্দোলন শুরু হবে সেদিন কিন্তু ভাবের মানুষ রাস্তায় শুয়ে পড়বে। কড়জোড়ে সরকারকে অনুরোধ করি, এর একটা সুরাহা করুন, ব্যবস্থা করুন। আমরা কারও প্রতি অপরাধ, অন্যায় আচরণ করি নাই। আমরা ভালোবেসে মানুষের ভালো থাকার বার্তাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেই। 

‘আমাদের কোনো চাহিদা নাই। ভালোবাসতে চাই, মানুষের কথা বলতে চাই। সকল ধর্ম বলে মানুষই নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ। সে শ্রেষ্ঠ মানুষের বার্তাগুলো আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে এই বিক্ষোভ সমাবেশে আরও সংহতি জানায় ফরিদপুরের ভাঙ্গার লালন আনন্দ ধাম, লালন চর্চা কেন্দ্র, ষোলোআনা বাঙালি, বাংলার সুর সংগীত, বাংলাদেশ জনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ, কেরানীগঞ্জ লালন সংঘ, পদ্মহেম ধাম, লালন রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন, গ্রিন ভয়েস সংগঠনগুলো। 

সমাবেশে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান বলেন, ‘বাউলদের ওপর হামলা হয়, কিন্তু আমরা বিচার চাইব কার কাছে? আজকে বাংলাদেশের প্রধান যে দু্ই রাজনৈতিক দল, তারা আজকে সভা সমাবেশে কত মানুষ জড়ো করবে তা নিয়ে ব্যস্ত! কেউ বলছে ১০ লাখ, কেউ বলছে ২৫ লাখ মানুষ জড়ো করে দেখাবে। তাদের মধ্যে কি আর মানবতা ও মনুষ্যত্বের কোনো বালাই আছে?’

বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘দিনাজপুরে কালিঘাট, রাজবাড়ী, নড়াইলে বার বার বাউলদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন সেভাবে ব্যবস্থা নেয়নি। এভাবে চলতে থাকলে তো বাউলরা আর বাঁচবে বলে মনে হয় না। বাউলরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক বাহক, তারা এমনিতেই নিঃস্ব। তাদের ওপর হামলা মানেই সেই চেতনার ওপর হামলা, বাঙালি সংস্কৃতির ওপর হামলা।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা