প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২০:২৪ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১০:১১ এএম
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ঢাকা পদাতিকের অনুষ্ঠান। ছবি: প্রবা
আশির দশক থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল মঞ্চনাটকে, একে একে অভিনয় করেছেন বহু টিভিনাটক ও চলচ্চিত্রে। তবুও অভিনেতা মাসুম আজিজ সর্বান্তকরণে ছিলেন মঞ্চের মানুষ। জীবনসায়াহ্নে এসে তিনি স্ত্রীকে একাধিকবার বলে গেছেন- ‘আমি অভিনয় করতে করতে একদিন এই মঞ্চেই মরতে চাই।’
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ঢাকা পদাতিকের আয়োজনে স্মরণানুষ্ঠানে এসে সে কথা জানালেন মাসুম আজিজের স্ত্রী, অভিনেত্রী সাবিহা জামান।
সাবিহা জামান বলেন, ‘জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি আমার সঙ্গে নাটক করে গেছেন৷ তিনি জানতেন, তার সময় শেষ হয়ে আসছে৷ তাকে যেদিন কেবিন থেকে লাইফ সাপোর্টের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি আমাকে বলেন- টা টা বাই বাই! তিনি কখনও বুঝতে দিতেন না তার শারীরিক কষ্টের কথা৷ তিনি মনেপ্রাণে নাটকের মানুষ ছিলেন। তিনি নাটক করতেন না, নাটক ধারণ করতেন।’
মাসুম আজিজের ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি শামসুজ্জামান হীরা, নাট্যকার- নির্দেশক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, ঢাকা পদাতিকের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুছ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, অভিনেতা-নির্দেশক আহম্মেদ গিয়াস স্মরণসভায় বক্তব্য দেন।
শামসুজ্জামান হীরা বলেন, ‘‘মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নাটক করতেন মাসুম আজিজ। তার ‘সনাতন’ ও ‘ঘানি’ সিনেমায় অভিনয় দেখে আমার সে বিশ্বাস প্রবল হয়েছে৷ মাসুম অভিনয় করতো সমাজের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য। সে এমন সমাজের স্বপ্ন দেখতো যেখানে মানুষে-মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না৷ প্রগতির পক্ষে লড়াকু সৈনিক ছিল সে৷ ’
নাট্যকার- নির্দেশক অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘মঞ্চে মাসুমের উপস্থিতি ছিল প্রবল শক্তিশালী৷ মঞ্চ নাটকের প্রতি তার ছিল প্রবল উৎসাহ, কাজ করার তীব্র বাসনা ছিল তার। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসেও তিনি নাটকের একটি ওয়ার্কশপে এসেছিলেন। বারবার পরে যাচ্ছিলেন। আমি আর তার স্ত্রী সাবিহা জামান বারবার তাকে বসিয়ে দিচ্ছিলাম৷ কিন্তু তিনি বারবার উঠে এসেছিলেন৷ এই হলো আমাদের মাসুম আজিজ৷’
সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘মাসুম আজিজ বাংলাদেশকে চিনতেন, গ্রামকে চিনতেন তিনি, চিনতেন দেশকে৷ নাটকে তিনি তাই তুলে আনতেন বাংলার নিপীড়িত মানুষের জীবনবোধ৷’
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে মাসুম আজিজ মঞ্চে অভিনয়ের সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন৷ আমরা নাটকের মানুষরা তাতে ধন্য হই, সমৃদ্ধ- অনুপ্রাণিত হই৷ তার জীবনকে আমরা উৎসবের আনন্দে উদযাপন করতে চাই।’
অভিনেতা-পরিচালক নাদের চৌধুরী বলেন, ‘‘সৈয়দ জামিল আহমেদের নির্দেশনায় মাসুম আজিজ যেদিন ‘ইনস্পেকটর জেনারেল’ নাটকে অভিনয় করলেন, নাটকে নতুন এক ধারা তৈরি হলো। মাসুম আজিজ ভাই আমাকে একটি নাটক দিয়ে গেছেন। আমি নাটকটি মঞ্চে আনব।’’