× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ৩

বদলে যাওয়া কক্সবাজারের কথা

নুপা আলম

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১১:২৮ এএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪ ১২:০৭ পিএম

নুপা আলম

নুপা আলম

দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সমুদ্রশহর কক্সবাজার। এ শহর সম্পর্কে ‘উইকিপিডিয়া’য় বলা হয়েছে, ‘এটি একটি শহর, মৎস্যবন্দর এবং পর্যটন কেন্দ্র। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার সদর দপ্তর। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্রসৈকত, যা ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্যবন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন।’

সমুদ্র, পাহাড়, নদী, ঝিরি-ঝরনা, বন্য প্রাণী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পর্যটনশহর কক্সবাজার ঘিরে সরকারের একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে; যাতে বদলে যাচ্ছে এ শহরের সবকিছুই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শহরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনাও।

রেল যোগাযোগ স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্টেশন। ছবি : আ. ই. আলীম

এখানে পর্যটকের জন্য ভিন্ন এক উপভোগের নাম সৈকতের ১২০ কিলোমিটার এলাকা ঘেঁষে মেরিন ড্রাইভ। আর সেই মেরিন ড্রাইভের শূন্য পয়েন্টে টেকনাফের সাবরাং ইকো ট্যুরিজম পার্ক তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে মহেশখালীর সোনাদিয়ায় তৈরি হচ্ছে আরও একটি ইকো ট্যুরিজম পার্ক। যেখানে বিদেশি পর্যটকের জন্য এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন গড়ে তোলা হবে। একসময়ের এ শহরে মানুষ স্বপ্ন দেখত রেললাইনের। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন সেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ আসছে-যাচ্ছে। রেল এখানে পর্যটকের আগমন বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এখানকার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়নকাজও শেষ পর্যায়ে। প্রতিদিন গড়ে ১০টি বিমান যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণ, মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ২৬৮ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, আনোয়ারা থেকে চকরিয়া হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পেরও কাজ চলছে। লিঙ্ক রোড থেকে শহরের হলিডে মোড় ও প্রধান সড়ক-উপসড়ক সম্প্রসারণের কাজও শেষ হয়েছে। এখানে দরিয়ানগর, হিমছড়ির জাতীয় উদ্যান, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, কুমির প্রজনন কেন্দ্র, রামুর বুদ্ধমূর্তি ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির পীঠস্থান রয়েছে।

শুধুই কি পর্যটন? না, কক্সবাজার জেলা হয়ে উঠছে একটি বাণিজ্যিক নগরী। এখানকার সম্ভাবনা সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, উন্নয়ন প্রকল্প এখন দৃশ্যমান। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কক্সবাজারের ধারাবাহিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর চ্যানেল, ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্ত প্রকল্পও। এ সমুদ্র জেলায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কক্সবাজার, সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম, ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প।

কক্সবাজার শহরের সঙ্গে মহেশখালী দ্বীপ উপজেলায় টানেল তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। লবণ শিল্প, চিংড়ি উৎপাদন, পান-সুপারি, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ, শুঁটকি বাণিজ্যের জন্যও আলোচিত কক্সবাজার।

সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন সত্যিই বদলে দিয়েছে উপকূলের এ জেলাকে। এখানে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ চালু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে রয়েছে বিকেএসপির নিজস্ব ক্যাম্প, কারিগারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), নৌঘাঁটি, বিমানঘাঁটি।

কিন্তু যে পর্যটনের ওপর ভিত্তি করে এ বদলে যাওয়া, সেই পর্যটনের জন্য কক্সবাজার এখন কতটুকু প্রস্তুতÑএমন প্রশ্ন এখন সব মহলে। এখানে প্রতি বছর ভ্রমণে আসা মানুষের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। নানা ছুটি বা উপলক্ষ কেন্দ্র করে এমনও দিন আছে যে শহরে ২ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। এসব মানুষের উপভোগের বিষয় সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি, জাহাজযোগে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ, হিমছড়ি ঝরনা বা দরিয়ানগরের বন এলাকা ঘুরে দেখা। সময়সুযোগে অনেকেই মহেশখালীর আদিনাথ বা সোনাদিয়া দ্বীপে ভ্রমণে যাচ্ছে। কিছুসংখ্যক রয়েছে যারা সাফারি পার্ক বা রামু বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখে।

এখানে বিদেশি পর্যটকের দেখা মেলা খুব কষ্টের। সৈকতের শহরের কলাতলী এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি আবাসিক হোটেল-মোটেল জোন। যে জোনটিকে ইতোমধ্যে ইট-বালি-সিমেন্টের বস্তি বলে মন্তব্য শুরু করেছেন কেউ কেউ। যেখানে হাতেগোনা কয়েকটি তারকা মানের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সবের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। বিশেষ করে ছুটিতে পর্যটক এলে মানহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া আদায় করে। খাবার থেকে যানবাহনগুলোয়ও একই অবস্থা। কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরি হয়নি এ পর্যন্ত। সৈকতের বালিয়াড়িজুড়ে কিটকট (ছাতা), ঘোড়া, বাইক, হকার, ফটোগ্রাফার আর ঝুপড়ি দোকানে ভরপুর; যা পর্যটকের বিরক্তি ও হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি নামে একটি কমিটি রয়েছে। যে কমিটি সৈকতের এসব বিষয়ে অনুমতি প্রদানের জন্য বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নিয়ে নেয়। এ কমিটি আরও একটি কাজ করে, সেটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে কোনো নিজস্ব অনুষ্ঠান করার অনুমতি প্রদান অনুমতিটি নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানও সহজেই নিজস্ব কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে ইচ্ছুক হয় না। ফলে এ শহরে মানুষ এসে দিনের একটি সময় সৈকত দেখা ছাড়া আর কোনো বিনোদন উপভোগ করতে পারে না। এখানে পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো সুবিধা নেই বললেই চলে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠেÑবদলে যাওয়া কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের বিকাশ কত দূরে রয়েছে? যেখানে তারকামানের একটি প্রতিষ্ঠানের শোভা বর্ধন করতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, সেখানে এ শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে? সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার নানা অজুহাত যেন রয়ে যায়। অথচ এ পরিবেশ রক্ষা করেও পর্যটনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব, এ নিয়ে আলোচনা হয় না, হয়নি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাইরে এ শহরের বিশ্বব্যাপী পরিচয় রোহিঙ্গা সংকটের কারণে। এখানে ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী; যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়শিবির। এর সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমার থেকে মাদক চোরাচালানও। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ধারাবাহিক খুন, সংঘাত স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। টেকনাফ-উখিয়ার পাহাড় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ফলে কক্সবাজারের সব সম্ভাবনার সঙ্গে তৈরি হয়েছে সমস্যা এবং নানা প্রতিবন্ধকতাও। এ সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমাদের রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা কী পরিকল্পনা নিচ্ছেন বা ভাবছেন? এটাই জানার অপেক্ষায় কক্সবাজারের সচেতন মহল।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, কক্সবাজার
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা