× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ২

সমতামূলক অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন

শেখ ইউসুফ হারুন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৪ ১২:৩১ পিএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪ ০০:০৭ এএম

শেখ ইউসুফ হারুন

শেখ ইউসুফ হারুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ব্যাপক উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণ করে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পরিকল্পিত শিল্পায়নের পথে অগ্রযাত্রার শুরুটা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি স্বাধীনতা-পূর্ববতী ১৯৫৭ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের শ্রম, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এটি ছিল শিল্পায়নের পথে প্রথম সূচনা। আশির দশকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ শিল্পায়নের পথে যাত্রা করে। বেজা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে লাইসেন্স প্রদান, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণ, বিনিয়োগ বিকাশকৌশল চিহ্নিতকরণে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বেজা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বার্ষিক অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করার প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বেজার মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তর হতে পারে এর চিত্র তুলে ধরছি।


অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল : সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অষ্টম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সকলের সাথে সমৃদ্ধির পথে’। এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে ২০২৫-এর মধ্যে জিডিপির ৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীতকরণের পথ সুস্পষ্ট করা, সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি নির্ধারণ, চলমান অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ সম্পন্ন করা ছাড়াও বড় বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা, যাতে মহাসড়ক ও সেতু, বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সুযোগসুবিধা প্রদান করা সম্ভব হয়। সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে বিনিয়োগকে মোট জিডিপির ৩৭ শতাংশে উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতের বিনিয়োগ ৮ থেকে ৯ শতাংশে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে এর বাস্তবায়নে বেজাই হবে অন্যতম সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ও অর্থনৈতিক অঞ্চল : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ : উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ১১টি বিষয়ের মধ্যে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত যা হলোÑ কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো। অর্থনৈতিক অঞ্চল সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ ছাড়া দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটাতে বেজা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে বেজার অর্জন : অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিতকরণ এবং দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বেজার উদ্দেশ্য একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। এখন পর্যন্ত বেজা গভর্নিং বোর্ড থেকে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু হয়েছে। যেখানে ৪৩টি শিল্প উৎপাদনে আছে এবং আরও ৫০টি শিল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার লোকের।

অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে বেজার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা : বেজার পরিকল্পনা রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে বর্তমানে যে ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে, তার নির্মাণকাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করা এবং আরও ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ শুরু করা। আশা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ গোপালগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২০২৫ সালে নবাবগঞ্জ, হাইমচর, কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২০২৬ সালে পাবনা ও সাতক্ষীরা অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নয়নকাজ শুরু হবে। তবে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন হবে সরকারের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের। জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় বর্তমানে জাপানিজ, চাইনিজ ও ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে উন্নয়নকাজ চলমান আছে। এ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কোরিয়ান অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সৌদি আরব সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং বিএসএমএসএন-এ এজন্য প্রাথমিকভাবে ৩০০ একর জায়গা নির্ধারণ করা আছে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ বাস্তবায়িত হতে পারে। ভুটান সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলে (কুড়িগ্রাম) একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা ২০২৬ নাগাদ বাস্তবায়িত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে চীন সরকার কর্তৃক চাঁদপুরের বাহেরচরে অ্যাগ্রোভোল্টাইক জিটুজি জোন স্থাপনপ্রক্রিয়া শুরু হবে। চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া ১৩টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ৮টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। ২০২৪ সালের শেষদিকে পূর্বগাঁও অর্থনৈতিক অঞ্চল ও তিতাস অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২০২৫ সালে স্ট্যান্ডার্ড গ্লোবালসহ আরও ২টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ২০২৬ সালে এস আলম অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আরও ১টি, ২০২৭ সালে ২টি এবং ২০২৮ সালে আরও ২টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প নির্মাণ শুরু হবে।

বিনিয়োগ পরিকল্পনা : বেজার অন্যতম প্রধান কাজ হলো অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বেজা বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা এবং সুবিধা প্রদান করে আসছে, যেমন ট্যাক্স সুবিধা, ব্যবসা সহজীকরণে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা এবং ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করা ইত্যাদি। বেজা ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে, যেখানে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগকারীগণ এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। বেজার বর্তমান বিনিয়োগ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসমূহের বিবেচনায় প্রায় সাড়ে ৪ গুণ। যদি বেপজা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৬ বিলিয়ন বিনিয়োগের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন রপ্তানি করতে সক্ষম হয়, তাহলে বেজার বর্তমান প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা সম্ভব। তবে এর জন্য যেসব বিনিয়োগকারীদের জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে তাদের স্ব-উদ্যোগে শিল্প নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প নির্মাণ ও উৎপাদন কর্মপরিকল্পনা : বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চলে সর্বমোট ৪৩টি শিল্প উৎপাদনে রয়েছে, যা ২০২৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৯০টিতে উন্নীত হবে মর্মে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যায়। বর্তমানে নির্মাণাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০টি, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ১১০-এ উন্নীত হবে বিনিয়োগকারীগণ অবগত করেছেন।

কর্মসংস্থান কর্মপরিকল্পনা : বেজা প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য কমসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী পাঁচ বছরে শিল্প নির্মাণ পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস : বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের অংশ হিসেবে বেজা আমদানি রপ্তানির সঙ্গে সংযুক্ত সব সংস্থা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে আনয়নের ওএসএস সেন্টার চালু করেছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫৬টি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ১২৫টি সেবাকে অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উন্নয়ন পরিকল্পনা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের এক ‘রূপকল্প’। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত-সমৃদ্ধ-শিল্পোন্নত সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে বর্তমান সরকারের একটি সফল উদ্যোগ এই স্মার্ট শিল্পনগর। বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে এই শিল্পনগরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডু উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় ৩৩ হাজার একর জমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের কৌশলগত অবস্থান এবং সমুদ্র তীরবর্তী অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ায় বেজাকে একটি বড় ক্যানভাসে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করছে। যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেশের প্রথম ও স্মার্ট শিল্পনগর এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে এ নগরকে পরিপূর্ণতা প্রদানের জন্য আগামী বেজা নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করবে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান শিল্প নির্মাণকাজ শুরু করবে। এই শিল্পনগরে আগামী পাঁচ বছরের আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর জমি উন্নয়ন সম্পন্ন হবে।

একটি আন্তর্জাতিক মানের জোনসহ সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য পৃথক ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউশনাল হাব ও মিক্সড ডেভেলপমেন্ট এরিয়া হিসেবে উন্নয়ন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন অধিদপ্তর একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করেছে, যা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিল্প শহরের অভ্যন্তরে কর্মরত জনগণের জন্য বিশেষ পরিবহনব্যবস্থা চালুকরণে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে কর্মপরিকল্পনা : দেশের মধ্যাঞ্চলের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও ২০২৫ সালের মধ্যে উক্ত অঞ্চলে এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুইটি সিইটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনশিল্পের বিকাশসাধনে বেজার একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সাল নাগাদ নাফ ট্যুরিজম পার্কে কেবল কার নির্মাণ, পর্যটনসমৃদ্ধ শিল্প বিকাশ এবং সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে পিপিপি ডেভেলপার নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য সব পরিষেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমতামূলক অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুদূরপ্রসারি ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ফ্রি ট্রেড জোন, শিল্প পার্কসহ পরিকল্পিত শিল্প এলাকা গড়ে উঠছে এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগপুষ্ট হয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগবান্ধব সংস্থা হিসেবে ইতঃমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে, তবে বিনিয়োগকারীদের পরিষেবাগত ও নীতিনির্ধারণী সেবা প্রদান ও দ্রুত অবকাঠামো নিশ্চিত করা হলে এ প্রতিষ্ঠান সন্দেহাতীতভাবে ভবিষ্যতে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তির একটি হয়ে উঠবে।

  • নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা