× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন ১

গণমাধ্যমের সামনে চ্যালেঞ্জ

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৪ ১৬:১৩ পিএম

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪ ০০:১২ এএম

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

গণমাধ্যম কিংবা সংবাদমাধ্যমে এখন বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই। সংবাদমাধ্যমের বিষয়বস্তু এখন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিকসহ নানা বিষয়ের একধরনের সমন্বয়ে ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নের সময় সংবাদমাধ্যমের ইতিহাস ভালোভাবেই জেনেছি। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মী হওয়ার সুবাদে বাস্তবিক সাংবাদিকতার ধারার সঙ্গেও পরিচিত হতে পেরেছি। তবে আগামীর সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশার আলোচনায় সংবাদমাধ্যমের ওই ইতিহাস আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না। সংবাদমাধ্যম এখন আর ছাপানো পত্রিকায় সীমাবদ্ধ নেই। গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমের পরিসর এখন অনলাইন সংস্করণ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সে হিসেবে সংবাদমাধ্যমের এখন রমরমা অবস্থা। রমরমা বলছি এই অর্থে, দেশে অনলাইন সংবাদপত্রগুলো এখন তাৎক্ষণিক ঘটনার সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয়, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা, খেলাধুলা, মুক্তমত, শেয়ারবাজার, বিনোদন, লাইফস্টাইল, আইন, ধর্ম, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সাহিত্য, শিশুসাহিত্য, ফিচার, ধর্ম-দর্শন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, মতামতসহ বিশেষ প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে।

শিল্পকর্ম : কাইয়ুম চৌধুরী

গণমাধ্যমের যে সোর্স বা তথ্যের সূত্র সেখানে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে। মুদ্রিত পত্রিকাও এখন তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন ও বিস্তৃত পরিসরে পাঠকের কাছে পৌঁছতে অনলাইন সংস্করণের ওপর নির্ভর করে। তবে অনলাইননির্ভরতার কিছু সংকটও রয়েছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আমরা এখন অনেক তথ্য পাই যেহেতু, তথ্যসূত্র অনেকটা একই। সমস্যা হলো, প্রাপ্ত তথ্য বা সংবাদে কোনো বৈচিত্র্য থাকে না। ব্যতিক্রমী বা পাঠককে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য এমনকি সংবাদ পরিবেশনের কারিগরি দিকও অনেকাংশে অনুপস্থিত। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তথ্য পরিবেশনার ঢঙে ব্যঞ্জনার স্বাদ পত্রিকার কর্মী এবং দীর্ঘদিনের পাঠক হিসেবে কম পাই। তবে অনলাইন সংবাদপত্রের সঙ্গে মুদ্রিত সংবাদপত্রের মাঝে বড় একটি তফাতও চোখে পড়ে বেশ মোটা দাগেই।

প্রিন্ট বা ছাপা সংবাদপত্রের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সে তুলনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম একেবারেই নবীন। কিন্তু ছাপা সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণ পাঠকের যে বিশ্বাস রয়েছে, আস্থা রয়েছে তার অনেকটাই অনুপস্থিত দেখা যায় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতি। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, ছাপা সংবাদমাধ্যমের যেহেতু পরিবর্তনের সুযোগ নেই, চট করে তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তাই এখানে তথ্য বিকৃতির সুযোগ কম। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও সচেষ্ট থাকেন তথ্যের বিকৃতি রোধে। ভুল তথ্য পরিবেশন থেকেও তারা বিরত থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। অসতর্কতা বা অনবধানতায় কোথাও কোনো ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে, তা দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আর এই সুযোগইটি অনেক সময় অনেক অনলাইন বার্তামাধ্যম অন্যায়ভাবে নেবার চেষ্টা করে। অথচ এক্ষেত্রে অনেকেই যেন ভুলে যান, সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্ববোধের কথা। কারণ ভুল তথ্য থেকে ভয়াবহ বিপর্যয়ও নেমে আসতে পারে এবং নজির আছেও। আমরা যদি সবার আগে তথ্য পরিবেশনের চেয়ে, সঠিক-নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের দিকে নজর দেই, তাহলে এ ধরনের জটিলতা কমে আসবে, যা সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণের বিশ্বাসও বাড়বে নিঃসন্দেহে।

তবে সংবাদপত্রের বর্তমান নিয়ে একটি কথাই বলা যায়Ñ সংবাদমাধ্যমের এখন রমরমা অবস্থা। সংবাদমাধ্যমের রমরমা এই অবস্থায় অনেকেই পুঁজি লগ্নি করছেন। সংগত কারণেই প্রশ্ন দাঁড়ায়, যারা পুঁজি লগ্নি করছেন লাভের প্রত্যাশায়, তাদের পুঁজি কতটা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে পুঁজি বা বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোনো নিরীক্ষা, গবেষণা রয়েছে কি-না, এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যমকে সফল করার ও পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির কোনো কর্মপরিকল্পনার বিষয়টিও পূর্ববর্তী প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় চলে আসে। সংবাদমাধ্যম পরিচালনার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিকল্প নেই। পরিকল্পনার নিরিখে ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নির্বাহের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হয়। এসব কিছু ভেবে পত্রিকায় পুঁজি লগ্নি করলে সংবাদমাধ্যমের প্রচার-প্রসার ঘটানো অনেকটাই সহজ হয়। ভার্চুয়াল মিডিয়ার এই যুগে এখনও প্রিন্ট মিডিয়ার আলাদা আবেদন রয়েছে।

অনলাইন সংস্করণে সংবাদমাধ্যমের তথ্য উপস্থাপন ও পরিবেশনার মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। পাঠকমাত্রই ছাপা সংস্করণের দিকে আকর্ষিত হয়। কিন্তু ছাপা সংস্করণ পরিচালনায় অনেক খরচ বহন করতে হয়। বিশেষত দৈনিক পত্রিকার ব্যয়ভার বহন করাকে অনেকটা হাতি পোষা কিংবা বড় জাহাজ চলমান রাখার সঙ্গে তুলনা করা হয়, এমনটি আমি নিজের অভিজ্ঞতাতেও পেয়েছি। তবে আমার মনে হয়, হাতি পোষা কিংবা জাহাজ চলমান রাখার চেয়েও বেশি সংবাদমাধ্যমের ব্যয়ভার নির্বাহ করা। তাই যারা মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগ করছেন তারা কতটা ভেবে করছেন, সে প্রশ্ন করতেই হয়। কারণ প্রতিনিয়ত নতুন মুদ্রিত পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটছে। প্রতিনিয়তই চোখ বুলাই। চোখ বুলাতে গিয়ে এই প্রশ্নই আসে। কারণ যখন লগ্নিকৃত পুঁজির অর্থবহতা নিয়ে বিনিয়োগকারীর মনে সংশয় দেখা দেয়, তখন মুদ্রিত পত্রিকার চেহারাতেও আসে বড়সড় বদল। শুধু তাই নয়, অনেক সময় পত্রিকা বন্ধও হয়ে যায়।

গণতন্ত্রের জন্য সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলেই স্বীকৃত। গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাস সুপ্রাচীন। আর গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে তথ্য বাঞ্ছনীয়। প্রাচীনকালে সংবাদপত্র ছিল না। তখনও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, লেনদেন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ছিল। সংবাদপত্রের আবির্ভাবে কাজটি হয়েছে সহজতর। বিগত একশ বছরে উপমহাদেশে সংবাদমাধ্যমের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই নিরেট সত্য বোঝা কঠিন হবে না। এমনকি পশ্চিমা বিশ্বে নবজাগরণ বা রেঁনেসার ক্ষেত্রেও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কী যুক্ত নেই? সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি জাতির মেধা, মনন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক উপাদান। দেশ-জাতির জন্য সংবাদমাধ্যমকর্মীদের অবদান রয়েছে। আবার দেশ-জাতির জন্য যারা অবদান রাখছে বা রেখে চলেছে, তাদের কথা বলছে সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমকর্মীদের অবদানটি থাকছে আড়ালে। তাই আধুনিক সময়েও মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমের আবেদন টিকে রয়েছে। ছাপা সংবাদমাধ্যম নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে সত্য, কিন্তু এর প্রতি এক শ্রেণির পাঠকের রয়েছে বাড়তি মনোযোগ ও আকর্ষণ। তাই আগামীতেও ছাপা সংবাদমাধ্যম টিকে থাকবে।

আগামীতে সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা এখনই অনুমান করা যায়। অনলাইন সংস্করণে সংবাদ উপস্থাপনের বৈচিত্র্য ও সংবাদপত্রের বিভিন্ন পাতার ছক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সুপরিকল্পনার ছাপ তেমন পরিলক্ষিত হয় না। অনলাইনে তাই সংবাদের তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু তাকে সুখপাঠ্য বলা চলে না। ছাপা সংস্করণে শব্দের বাঁধাধরা হিসেব রয়েছে। আবার রয়েছে পাতার নকশার সঙ্গে মিল রেখে সংবাদ সাজানোর ভাবনা। পরিবেশনার বৈচিত্র্য একেকটি সংবাদমাধ্যমকে স্বতন্ত্র্য পরিচয় দেয়। পাঠকও এভাবেই একেকটি সংবাদমাধ্যমকে চিহ্নিত করতে পারে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম রাজনীতির নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা উপস্থাপনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সব পত্রিকায়ই ওই একই পরিবেশনা, একই খবর। অনেকটা ‘চর্বিত চর্বণের মতো। এমনটি হলে পাঠক সংবাদমাধ্যমের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অনলাইন সংস্করণে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তেমন ম্যাড়ম্যাড়ে তথ্যই যদি মুদ্রিত পত্রিকায় আসে, তাহলে তো আর পড়ে লাভ নেইÑ অনেকে এমনটিই ভাবেন। তাই মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমগুলোর দায়িত্বশীলদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পাঠকসংখ্যা কমছে। ছাপা সংস্করণের আবেদন কমছে, এমনটি নয়। বরং সংবাদমাধ্যমের তথ্য উপস্থাপনার ব্যঞ্জনার অভাব থাকায় পাঠক আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। পত্রিকার পাতা উল্টে পাঠক ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করে। এজন্যই পত্রিকার পাতায় হরেক আয়োজনের পাতার আয়োজন থাকে। আর এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাঁকফোকরে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। হতে পারে কোনো কিছু ফিচার আয়োজনে উপস্থাপন করা হলো, আবার কোনো তথ্য খবর হিসেবেদুটোর পাঠ প্রতিক্রিয়া হবে ভিন্ন। শৈশব থেকেই সংবাদপত্রের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ। আমাদের বাড়িতে কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাও আসত। তখন পত্রিকা পড়ে দেখেছি, একেকটি পত্রিকা সংবাদ উপস্থাপনে বৈচিত্র্য রেখেছিল। সংবাদপত্রে খবর উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একেকটি পত্রিকা একেক ধরনের বর্ণনাভঙ্গির ওপর নির্ভর করত। আগামীর সংবাদমাধ্যমকেও এই বৈচিত্র্যের ব্যঞ্জনা বুঝতে হবে।

বিশ্বায়নের এই যুগে ছাপা সংস্করণের চাহিদা কমবে। কিন্তু ছাপার আবেদন পুরোপুরি হারাবে না। পাঠকমাত্রই ছাপার হরফের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। পাঠক হিসেবে তথ্য উপস্থাপনের বৈচিত্র্যই আসলে মুগ্ধ করবে। তথ্য প্রকাশ-প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যনির্ভর হওয়া জরুরি। এখন সংবাদমাধ্যমের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। নতুন কর্মীরা যুক্ত হচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ সাংবাদিকতায় আগ্রহী হচ্ছেন। এসবই সংবাদমাধ্যমের জন্য ইতিবাচক খবর। সংবাদমাধ্যমের প্রতি এই আগ্রহ-উদ্দীপনা অবশ্যই আগামীর জন্য ইতিবাচক। তবে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের বৈচিত্র্য এমনকি সংবাদমাধ্যমের রূপের বদল নিয়েও আমাদের ভাবা উচিত। কারণ গণতন্ত্রচর্চায় নিরেট তথ্য কখনই মানুষের আগ্রহ জাগাতে পারে না। নিরেট তথ্য মানুষের মধ্যে আবেদনও জাগাতে পারে না। আবেদন জাগাতে না পারলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে মানুষকে সম্পৃক্ত করার পথও অনেকাংশে রুদ্ধ হয়ে পড়বে।

  • সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা