ইসলামি স্থাপত্য
শেখ জহুরুল হক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:১৮ পিএম
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম। এ গ্রামেই মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন তেঁতুলিয়া শাহী মসজিদ। প্রকৃত নাম ‘খান বাহাদুর কাজী সালামত উল্লাহ জামে মসজিদ’ হলেও ঐতিহাসিকভাবে ‘মিয়ার মসজিদ’ নামে বেশি পরিচিত। তবে বর্তমান নাম ‘তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ’। এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভি কাজী সালামত উল্লাহ খান বাহাদুর তেঁতুলিয়ার জমিদার ছিলেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে জনশ্রুতি। ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি মুঘল স্থাপত্য অনুকরণ করে ১৮৫৮-৫৯ সালে নির্মিত হয়। দেখতে অনেকটা টিপু সুলতানের বংশধরদের আমলে তৈরি বিভিন্ন স্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন মসজিদটি খুলনা-পাইকগাছা কবি সিকান্দার আবু জাফর সড়কের পুবপাশে অবস্থিত। মসজিদের পাশে রয়েছে একটি সুগভীর পুকুর। পুকুরের তলদেশ থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে মসজিদ চত্বরে।
মসজিদটিতে রয়েছে ৯ ফুট উচ্চতা ও ৪ ফুট প্রস্থ সাতটি দরজা।
প্রতিটি দরজার ওপর বিভিন্ন রঙের কাচের ঘুলঘুলি। চুনসুরকি ও চিটাগুড়ের গাঁথুনিতে নির্মিত
মসজিদটিতে ১৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ছয়টি বড় গম্বুজ এবং ৮ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ১৪টি মিনার
রয়েছে। চার কোণে রয়েছে ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট চারটি মিনার। মসজিদের ভেতরে পাঁচ সারিতে
৩২৫ এবং বাইরের চত্বরে ১৭৫ জন নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদটি একসময় সমতল থেকে বেশ উঁচুতে ছিল। বর্তমান অবস্থান
সমতলভূমি বরাবর। মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে অনেক অজানা ব্যক্তির কবরের চিহ্ন থাকলেও
সেগুলো অরক্ষিত। ১৬৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এ মসজিদটি আগ্রার তাজমহলের অপরূপ নির্মাণশৈলী
সামনে রেখে নির্মিত হয়েছিল। প্রত্ননিদর্শন হিসেবে মসজিদটি ১৯৮৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
চিহ্নিত করে।
অযত্ন আর অবহেলায় ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির সৌন্দর্য অনেকটাই
নষ্ট হয়ে গেছে। মেঝে ও পশ্চিম পাশের দেয়ালের ওপরের অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। মসজিদের
আটটি ছোট মিনার ভেঙে পড়েছে, বাকিগুলোও ভেঙে পড়ার উপক্রম। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত মসজিদটির
সংস্কার। এর মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্য যেমন সংরক্ষণ হবে, তেমন গড়ে উঠবে পর্যটন।