ইসলামী স্থাপত্য
সাইদুল ইসলাম মন্টু
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৫৬ পিএম
পঞ্চদশ শতাব্দীর কীর্তি মসজিদবাড়িয়া মসজিদ। বিঘাই নদীর
শাখা আইল নদীর তীরে অবস্থিত মসজিদবাড়িয়া গ্রামের এ মসজিদটিই ‘মসজিদবাড়িয়া মসজিদ’
নামে পরিচিত। মসজিদটির জন্যই গ্রামের নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ
উপজেলা সদর থেকে ১০ কিমি দক্ষিণে সবুজের সমারোহে ঘেরা প্রসিদ্ধ জনপদ মসজিদবাড়িয়া। মসজিদবাড়ি
গ্রামটি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে নিজেই হয়েছে ইতিহাস।
মসজিদের দেয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায়, বাংলার স্বাধীন
সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহের (১৪৫৯-১৪৭৪ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে খান-ই-মোয়াজ্জম
উজিয়াল খান ১৪৬৫ সালে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সুন্দরবন এলাকাবর্তী উপকূলীয় জনপদে মসজিদটি
যুগ যুগ ধরে জঙ্গলাবৃত হয়ে পরিত্যক্ত ছিল। দীর্ঘদিন পতিত থাকায় চারপাশে গজিয়ে ওঠা জঙ্গলে
মসজিদটি ঢাকা পড়ে। ১৮৬০ সালে সুন্দরবন জরিপ করার সময় মি. গোমেজ নামে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা
মসজিদটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৩ সালে মসজিদটিকে প্রাচীন কীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি দেখতে দ্বিতল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে
এটি এক তলা বিশিষ্ট। বারান্দায় ছাদ, অনেকটা চৌচালা ঘরের আকারে নির্মিত। পুব- পশ্চিমে
দীর্ঘ আয়তাকারে নির্মিত মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৯ ফুট ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। সাড়ে
২১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থ পুবদিকে বারান্দা। প্রধান কক্ষ ও বারান্দা এ দুই অংশে
মসজিদটি বিভক্ত। প্রধান কক্ষের উত্তর-দক্ষিণ ও পুব দেয়ালে তিনটি করে, বারান্দার উত্তর-দক্ষিণ
দেয়ালে একটি ও পুব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। ভেতরে প্রধান কক্ষের ওপর রয়েছে তিনটি
মেহরাব ও একটি গম্বুজ। আধা গোলাকার এ গম্বুজ দেখতে খুবই সুন্দর। মসজিদের দেয়ালগুলো
প্রায় সাড়ে ৬ ফুট চওড়া।
প্রাচীন মসজিদটি কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ সংরক্ষণের
অভাবে ধ্বংসের পথে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮২ সালের শেষ দিকে মসজিদের কিছু সংস্কার করলেও
পরে আর কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে অস্তিত্ব সংকটে স্থাপনাটি।