তারিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:২১ পিএম
পাবনা জেলার ইতিহাসে
সব দিক থেকেই চাটমোহরের অবস্থান উজ্জ্বল। এখানে একসময় এসেছেন মোঘল-পাঠান-পর্তুগিজ-আফ্রিকানরা।
এসেছেন ইসলাম প্রচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে পীর-আউলিয়ারাও। এখানে প্রাচীন ঐতিহ্য
নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট শাহী মসজিদ। ৩০ হাত উচ্চতার এ মসজিদটির দৈর্ঘ্য
৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত। ছোটবড় মিলিয়ে গম্বুজ তিনটি। বড় গম্বুজগুলোর নিচের দিকে রয়েছে
দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য। মসজিদের মূল প্রবেশপথটি ছাড়া অন্য প্রবেশপথ দুটি একই ধরনের।
মসজিদের তিনটি প্রবেশপথের সঙ্গে মিল রেখে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মিহরাব। কেন্দ্রীয়
মিহরাব থেকে দুই পাশের মিহরাবে রয়েছে বড় সুড়ঙ্গের মতো অপূর্ব নিদর্শন। ভূমি-নকশালংকারে
স্থাপত্য। মসজিদটির বারান্দায় কষ্টিপাথরের কালো দুটি স্তম্ভ প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর
ঐতিহ্য বহন করে। চারপাশের দেয়ালেও রয়েছে সুন্দর নকশা; যা খুব সহজেই দর্শনার্থীর নজর
কাড়ে। মসজিদের রয়েছে তিনটি মূল দরজা ও একটি মিহরাব। ক্ষুদ্র পাতলা নকশাখচিত লাল জাফরি
ইটে মসজিদটি নির্মিত। মসজিদের দেয়ালটি সাড়ে ৪ হাত প্রশস্ত। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির
সামনে ইঁদারার গায়ে কলমা তৈয়বা লিখিত একখণ্ড কালো পাথর এখনও রয়েছে। দূর থেকে মসজিদটি
বেশ বড় মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে মাত্র দুই কাতার।
ইতিহাস থেকে জানা
যায়, পাবনার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চাটমোহরে ছিল মোঘল-পাঠানদের অবাধ যাতায়াত।
১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে মোঘল সম্রাট আকবরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারই একটি বাহিনীর সেনাপতি
মাসুম খাঁ কাবলি মসজিদটি নির্মাণ করেন। বইপত্রে এখনও মাসুম খাঁ কাবলি মসজিদ নামে উল্লেখ
থাকলেও লোকমুখে শাহী মসজিদ নামেই পরিচিত।
১৯৪২ সালে ব্রিটিশ
সরকার মসজিদটির মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে পুনর্নির্মাণ করলেও প্রাচীনত্ব অনেকাংশেই বিলুপ্ত
হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ১৯৮০ সালে মসজিদটি অধিগ্রহণ করে। মূল কাঠামো
অবিকল রেখে অধিদপ্তর কয়েক দফা সংস্কার করায় মসজিদটি বর্তমানে তার হারানো সৌন্দর্য অনেকটাই
ফিরে পেয়েছে। মসজিদটি এখন অনেক সমৃদ্ধ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দেখার জন্য আসে। ধর্মপ্রাণ
মানুষ নামাজ আদায় করে।