ইসলামী স্থাপত্য
মো. হাবিব ওসমান
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে কয়েকশ বছরের পুরোনো
সুদৃশ্য ‘গোড়ার মসজিদ’টি আজও খান-ই-জাহানের স্মৃতি বহন করছে। ধারণা করা হয়, ‘গোড়ায়’
নামক এক দরবেশের নামানুসারে মসজিদটি গোড়ার মসজিদ নামে পরিচিত হয়। বারোবাজার বাসস্ট্যান্ড
থেকে পশ্চিম দিকে বাজার পেরিয়ে গোড়ার মসজিদটি জীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। প্রাচীন
আমলের দিঘি ও ইটের ধ্বংসস্তূপ দেখে সহজেই অনুমান করা যায় বারোবাজার এককালে হিন্দু ও
বৌদ্ধ নরপতিদের রাজধানী ছিল। নগরীর দক্ষিণে ভৈরব নদ কেন্দ্র করেই বারোবাজার হয়ে উঠেছিল
অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। মুসলিম আমলে বারোবাজারের আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। কথিত আছে, মুহাম্মদ
শাহের আমলে খান-ই-জাহান প্রথম বারোবাজারে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। বারোবাজার
এলাকার ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ঢিবিগুলো থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননে উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন
ইটের ভগ্নস্তূপ, নরকঙ্কাল, মসজিদসহ অসংখ্য কীর্তি। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে যার অনেকটাই
ধ্বংসপ্রাপ্ত।
বর্গাকারে নির্মিত গোড়ার মসজিদের প্রতিটি বাহু বাইরের
দিকে প্রায় ৩০ ফুট এবং ভেতরের দিকে ২০ ফুট লম্বা। দেয়াল ৫ ফুট প্রশস্ত এবং চার কোণে
চারটি সুন্দর আট কোনা বিশিষ্ট মিনার আছে। পুবের দেয়ালে তিনটি এবং উল্টো দিকের দেয়ালে
একটি প্রবেশ পথ আছে। পশ্চিম দেয়ালে আছে দরজাবরাবর তিনটি মেহরাব। কেন্দ্রীয় মেহরাবটি
অন্যগুলোর চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড়। মেহরাবগুলোয় পোড়ামাটির ফলকে নানা ফুল ও লতাপাতার অলংকার
ছিল; যার সৌন্দর্য আজও নষ্ট হয়নি।
মসজিদের ভেতরের চার দেয়ালের কেন্দ্রস্থলের দেয়াল ঘেঁষে
চারটি পাথরের স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর স্থাপিত মসজিদের একমাত্র গম্বুজ। মসজিদের
বাইরের দেয়ালসহ চার কোণে পোড়ামাটির সুন্দর চিত্রফলক ছিল।
মসজিদের চারপাশের বেষ্টনী প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। অতিজীর্ণ
হলেও মনোরম এ মসজিদে এখনও অসংখ্য মুসল্লি নামাজ আদায় করে। মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মাহবুবার
রহমান রঞ্জু মসজিদটি সংস্কার এবং এর ঐতিহ্য সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
করে বলেন, মসজিদসহ প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে এলাকাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে
গড়ে তোলায় যায়।