শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:০৬ পিএম
এক মুসলিম তার
অন্য মুসলিম ভাইয়ের অধিকার আদায় ও আদবসমূহ মেনে চলার আবশ্যকতার ব্যাপারে বিশ্বাস করে,
এটাই ইসলামের শিক্ষা। এগুলো ইবাদত এবং এর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। কেননা
এসব অধিকার ও আদব আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের ওপর বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন; যাতে সে তার
অন্য মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে এগুলো মেনে চলে। এসব আদব ও অধিকারের অন্যতম হলো সালাম আদানপ্রদান।
যখন এক মুসলমানের
সঙ্গে আরেক মুসলমানের দেখাসাক্ষাৎ হবে, তখন কথা বলার আগেই তাকে সালাম দেবে। সে বলবে,
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, (আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক);
তারপর সে তার সঙ্গে মুসাফাহা (করমর্দন) করবে এবং সালামের জবাবস্বরূপ বলবে, ওয়ালাইকুমুস
সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (আপনার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত
বর্ষিত হোক)। এ বিধান এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমাদের যখন অভিবাদন
করা হয়, তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম প্রত্যভিবাদন করবে অথবা সেটারই অনুরূপ করবে।’ সুরা
আন নিসা : ৮৬
এ প্রসঙ্গে হাদিসে
ইরশাদ হয়েছে, ‘বাহনে আরোহণকারী ব্যক্তি পদব্রজে আগমনকারী ব্যক্তিকে, পদব্রজে আগমনকারী
ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে এবং কমসংখ্যক লোক বেশিসংখ্যক লোককে সালাম প্রদান করবে।’ সহিহ
বোখারি : ৫৮৭৮
আমরা কারও সঙ্গে
দেখাসাক্ষাৎ হলে সালাম দিই। হাসিমুখে কুশলবিনিময় করি। মুসলিম হিসেবে এটি আমাদের সাধারণ
অভ্যাস। এটা ইসলামেরই শিক্ষা। ইসলামের বদৌলতেই এটি আমাদের জীবনের সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু
বাস্তবে এর মূল্য অনেক। মূল্যটা বুঝে আসে এর বিপরীত চিত্রটা সামনে এলে। অর্থাৎ পরস্পর
সাক্ষাতে সালাম ও হাসিমুখের পরিবর্তে যদি একজন অন্যজন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন বুঝে
আসে এ সাধারণ বিষয়টি কত মূল্যবান এবং এর বিপরীত বিষয়টি কত নিন্দনীয়। এ বিপরীত দিককে
ইসলামে কঠিনভাবে নিন্দা করা হয়েছে। একে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো মুসলিমের
জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইকে তিন দিনের বেশি সময় পর্যন্ত বর্জন করবে।’ সহিহ বোখারি
: ৬০৬৫
জীবন চলার পথে
পরস্পরে মনোমালিন্য হতে পারে, মান-অভিমান হতে পারে; কিন্তু এ কারণে তিন দিনের বেশি
নিজ ভাইকে বর্জন করা, এটা মুসলিমের জন্য সাজে না। আরেক বর্ণনায় এ বর্জনের চিত্র সামনে
আনা হয়েছে এবং এ অবস্থা থেকে প্রথমে যে বেরিয়ে আসে অর্থাৎ সালাম দিয়ে মিলে যায় তার
প্রশংসা করা হয়েছে। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)
বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইকে তিন রাতের বেশি সময় পর্যন্ত বর্জন
করবে; দেখা হলে এ-ওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, ও-এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এদের মধ্যে সে-ই
শ্রেষ্ঠ, যে প্রথমে সালাম দেয় (এবং মিলে যায়)।’ সহিহ বোখারি : ৬০৭৭
আরও কঠোর ভাষায়
নিন্দা করা হয়েছে এ মন্দ কাজের। এমন ব্যক্তি আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়।
এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘সোম ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহতায়ালা প্রতিটি মুসলিমকে ক্ষমা করে
দেন। তবে ওই দুই ব্যক্তি ছাড়া, যারা একে অন্যকে বর্জন করেছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ
বলেন, তারা পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।’ সুনানে ইবনে মাজাহ
: ১৭৪০
একে অন্যকে বর্জন করার দ্বারা বান্দা আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে সালাম দেওয়া, হাসিমুখে উত্তম কথা বলার দ্বারা ক্ষমা লাভ হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যেসব আমলের মাধ্যমে মাগফিরাত লাভ হয় এর অন্যতম হলো বেশি বেশি সালাম দেওয়া এবং ভালো কথা বলা।’ আল মুজামুল কাবির, তাবারানি : ৪৬৯