ইসলামি চিন্তা
শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৪ পিএম
সৃষ্টির শুরু
থেকেই আল্লাহতায়ালা মানুষ ও দুনিয়ার জন্য কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করে রেখেছেন। পৃথিবীতে
অনেক উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটবে, কিন্তু এসব নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন হবে না। যে কয়েকটি
বিষয় আল্লাহতায়ালা নিজের জন্যও নিষিদ্ধ করে রেখেছেন, সে সবের মধ্যে সর্বপ্রথম বিষয়
হচ্ছে, জুলুম বা অন্যায়। জুলুম কাকে বলে, ভাষাবিদদের ঐক্যমতে কোনো বস্তুকে তার আসল
স্থানে না রেখে অন্য স্থানে রাখার নামই হলো জুলুম।
মুসলিম শরিফে
বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি নিজেই আমার ক্ষেত্রে
জুলুম হারাম করে নিয়েছি এবং বিষয়টি তোমাদের পরস্পরের জন্যও নিষিদ্ধ করে দিলাম। তোমরা
একে অন্যের ওপর জুলুম কোরো না।’ অন্য হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা
জুলুম থেকে বিরত থাকো। কেননা কেয়ামতের দিন জুলুমের পরিণতি হবে খুবই অন্ধকার (ভয়াবহ)।’
বর্তমানে সমাজ
জীবনে লক্ষ করলে দেখা যায়, একেবারে সাধারণ বিষয়ে একে অন্যের ওপর জুলুম বিরাজমান। যা
আল্লাহতায়ালার কাছে এক অমার্জনীয় অপরাধ। আর এর কঠিন শাস্তি ও পরিণতির প্রতি সতর্ক করে
এমন অন্যায় থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি মজলুম ব্যক্তির প্রার্থনার শক্তি সম্পর্কে সজাগ
করেছেন নবী করিম (সা.)। ইরশাদ হয়েছে, ‘মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। যদিও সে কাফের
হয়। কারণ তার দোয়া সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।’
দুনিয়ার বুকে
প্রতিনিয়ত মানুষ নানাভাবে জালেমের অন্যায়-অত্যাচার আর অবৈধ শক্তির ভয়ে আতঙ্কিত ও ভীত।
অসহায় মানুষ দুই হাত তুলে জালেমের বিচার ও ধ্বংস প্রার্থনা করছে, অথচ এর প্রতিফলন তাৎক্ষণিক
ঘটছে না। কেন? উম্মতের এমন কৌতূহলের জবাব দিয়েই আল্লাহর রাসুল (সা.) বলে গেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা
জালেমকে ছাড় দিতে থাকেন, তারপর যখন ধরেন তখন আর তাকে কোনো সুযোগ দেন না।’ Ñসহিহ বোখারি
হজরত রাসুলুল্লাহ
(সা.)-এর এ হাদিসের সপক্ষে কুরআন মাজিদে বেশকিছু আয়াত রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘জালেমরা
যা করছে সে সম্পর্কে তোমরা আল্লাহকে উদাসীন ভেবো না, তিনি তাদের ছাড় দিয়ে যাচ্ছেন ওইদিন
পর্যন্ত যেদিন চোখগুলো সব আতঙ্কে বড় বড় হয়ে যাবে।’ Ñসুরা ইব্রাহিম : ৪৩
অন্য এক আয়াতে
তিনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, ‘এমনই ছিল তোমার রবের ধরপাকড়, যখন তিনি ধরেছিলেন ওই জালেম
বসতিগুলোকে নিশ্চয়ই তাঁর ধরা অনেক কঠিন যন্ত্রণাময়।’ Ñসুরা হুদ : ১০২
এভাবে কুরআন মাজিদে
অন্যায়কারীর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিশাপ ও কঠিন শাস্তির বর্ণনা সম্বলিত আরও অনেক
আয়াত রয়েছে। আল্লাহর কিছু অলঙ্ঘনীয় বিধানসমূহের অন্যতম হলো, তিনি জালেম মুসলমানের বিপক্ষে
মজলুম কাফেরকেও সাহায্য করেন। তবুও তিনি জালেমকে কোনো ছাড় দেন না। জুলুমের শাস্তি এত
ভয়াবহ ও দ্রুত যে দুনিয়া থেকেই এর সূচনা হয়। আখেরাতে এর পরিণতি কত মারাত্মক ও ভয়াবহ
তা স্বয়ং এক আল্লাহতায়ালাই জানেন। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সাহায্য সদাসর্বদা মজলুমের
সঙ্গে থাকে, তাঁর সাহায্যও অতি সন্নিকটে।