ইসলামী স্থাপত্য
মো. ইউসুফ আলী
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১২ পিএম
কালের সাক্ষী
হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মানিকগঞ্জের সুপ্রাচীন মাচাইন জামে মসজিদ। তিন গম্বুজবিশিষ্ট শিল্পমণ্ডিত
এ মসজিদটি দেশের প্রাচীন পুরাকীর্তির একটি। শিলালিপি অনুযায়ী মসজিদটি ১৫০১ সালে হোসেন
শাহ কর্তৃক নির্মিত।
জনশ্রুতি রয়েছে
হোসেন শাহী বংশের খ্যাতিমান সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে শাহ রুস্তম (রহ.)
মানিকগঞ্জ অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য এসে মাচাইন গ্রামে খানকা প্রতিষ্ঠা করেন।
মাচাইন গ্রামটি বর্তমানে ইছামতি নদীর তীরে অবস্থিত। কিন্তু হজরত শাহ রুস্তম যখন মাচাইন
গ্রামে আসেন, তখন এখানে কোশী ও তিস্তার স্রোতধারা অবলম্বন করে প্রাচীন ভুবনেশ্বর নদী
প্রবহমান ছিল। সুলতান আলাউদ্দিন হজরত রুস্তম শাহের ইসলাম প্রচারে খুবই খুশি হয়ে তার
প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ এলাকায় ইসলাম প্রচারের সুবিধার্থে ১৫০১ খ্রিষ্টাব্দে
এখানে একটি সুরম্য মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিন গম্বুজবিশিষ্ট নান্দনিক শিল্পমণ্ডিত মুসলিম
শাসক আলাউদ্দিন হোসেন শাহের প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি, ‘শাহ হজরত রুস্তম শাহ (রহ.) এর পুণ্যস্মৃতি
বহন করে চলছে।
মানিকগঞ্জ জেলা
সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মসজিদটির মূল অংশের ওপর রয়েছে তিনটি গম্বুজ। উত্তর ও দক্ষিণ
পাশের গম্বুজের চেয়ে মাঝের গম্বুজটি একটু বড়। মসজিদটির মূল অংশের ওপর রয়েছে নিখুঁত
খাঁজকাটা কারুকাজ। প্রতিটি দেয়ালে প্রচুর কারুকাজ রয়েছে, যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। মসজিদটি
নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে চুন, সুরকি ও সাদা সিমেন্ট। ঐতিহ্যের চোখজুড়ানো এই শৈল্পিক
স্থাপনাটি পৃষ্ঠপোষক, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দিন দিন মলিন হয়ে যাচ্ছে।
মাচাইন শাহী জামে
মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি মো. খলিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই দেশের
বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসেন এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি দেখার জন্য। বর্ষাকালে মানুষ
সবচেয়ে বেশি আসেন। প্রাচীন স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি এই মসজিদ এবং মাজার দেখে সবাই মুগ্ধ
হন।
মাচাইন শাহী জামে
মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. মিজানুর রহমান জানান, ৮০০ বছরের পুরোনো মসজিদটি একনজর দেখতে
অনেকেই আসেন। তবে মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। জরুরিভিত্তিতে
মসজিদটি সংস্কার প্রয়োজন।