ইসলামি চিন্তা
শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১২:২৪ পিএম
হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে ওই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে রবরূপে, ইসলামকে দ্বীনরূপে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে রসুলরূপে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে।-সহিহ মুসলিম : ৩৪
ঈমান এক মহা নেয়ামত।
যারা পরিপূর্ণ ঈমানদার, তারা এর স্বাদ অনুভব করেন। একজন মুমিনের ঈমানে পূর্ণতার জন্য
তার মধ্যে কিছু গুণ থাকা প্রয়োজন। যে গুণগুলো না থাকলে একজন মুমিন ঈমানের স্বাদ পাবেন
না। মনে প্রশান্তি অনুভূত হবে না।
ইসলামি চিন্তাবিদরা
বলেন, সুস্বাদু খাদ্যের স্বাদ সে-ই বুঝতে পারে; যার জিবে স্বাদ আছে। রোগব্যাধির কারণে
নষ্ট হয়ে যায়নি। তদ্রুপ ঈমান ও যাবতীয় আমলের স্বাদও ওই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিই অনুভব করেন,
যে সম্পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে ও সর্বান্তঃকরণে আল্লাহকে রব ও পরওয়ারদিগার এবং মুহাম্মদ
(সা.)-কে রসুল ও আদর্শ এবং ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে।
যে ঈমানের স্বাদ
পাবে, সে ঈমানের মিষ্টতাও অনুভব করবে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.)
বলেছেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে। আল্লাহ ও তাঁর রসুল
তার কাছে সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া, কাউকে ভালোবাসলে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসা,
আর কুফুরিতে ফিরে যাওয়াকে এমন ঘৃণা করা, যেমন সে ঘৃণা করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে।
-সহিহ বোখারি : ১৬
এ হাদিসের বিষয়বস্তু আগের হাদিসের বিষয়বস্তুর প্রায় কাছাকাছি। উপস্থাপনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। হাদিসে বলা হচ্ছে, ঈমানের মিষ্টতা ওই ব্যক্তিই অনুভব করতে পারবে, যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ সমর্পিত থাকবেÑ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে জগতের সবকিছু থেকে বেশি ভালোবাসবে। অন্য কারও প্রতি যদি তার ভালোবাসা হয়, তা হবে সম্পূর্ণ এই ভালোবাসার অধীন।
ঈমানের স্বাদ
ও মিষ্টতা পেতে হলে ঈমানের শাখাপ্রশাখা সম্পর্কে জানতে হবে। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা
(রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরের অধিক (অন্য
বর্ণনায় আছে, ষাটের অধিক) শাখা রয়েছে, এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা,
আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা ঈমানের একটি
গুরুত্বপূর্ণ শাখা। -সহিহ মুসলিম : ৩৫
অগ্রগণ্য মত হিসেবে
এখানে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উদ্দেশ্য হিসেবে নেওয়া হয়নি। বরং আধিক্য বোঝানোই উদ্দেশ্য,
অর্থাৎ ঈমানের অনেক শাখাপ্রশাখা রয়েছে। ঈমানের শাখাপ্রশাখা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ওইসব
কর্ম ও আচরণ এবং বাহ্যিক ও আত্মিক অবস্থা ও গুণাবলি; যা ঈমানের সূত্র ধরে মুমিনের মাঝে
অর্জিত হওয়া কাম্য।
হাদিসে ঈমানের
শ্রেষ্ঠ শাখা বলা হয়েছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, অর্থাৎ তাওহিদের সাক্ষ্য দেওয়া, যা
মূলত ঈমানের প্রবেশপথ। এর পরে ভালো ও কল্যাণমূলক যত কাজ আছে, আল্লাহর হক ও বান্দার
অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবই ঈমানের বিভিন্ন পর্যায়ের শাখা। সবশেষে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক
জিনিস সরিয়ে দেওয়াও ঈমানের একটি শাখা।
হাদিসের শেষে বিশেষভাবে লজ্জার কথা বলা হয়েছে। লজ্জা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা। মানবীয় স্বভাবের মধ্যে লজ্জা এমন বৈশিষ্ট্য, যা মানুষকে স্বভাবের তাড়নায় মন্দ কর্ম ও আচরণ থেকে বিরত রাখে এবং অনেক সৎকর্ম ও সুন্দর আচরণে উদ্বুদ্ধ করে। এদিক থেকে ঈমান ও লজ্জার মধ্যে এক ধরনের যোগসূত্র রয়েছে।