ইসলামি স্থাপত্য
রেজাউল করিম
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১২:১৫ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১২:২১ পিএম
৬০০ বছরের পুরোনো গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সুলতানপুর শাহী মসজিদ।
জনশ্রুতি আছে, ইসলাম প্রচারের জন্য গাজীপুরে এসেছিলেন ৩৬০ জন আউলিয়া, যাদের মধ্যে ১৩১তম
ছিলেন শাহ সুলতান। তার নামেই এই গ্রামের নাম হয় সুলতানপুর। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, মোঘল
সম্রাট আকবরের শাসনামলে ঈশা খাঁ ও মানসিংহের যুদ্ধকালে নির্মাণ করা হয় এই শাহী মসজিদটি।
ছড়িয়ে থাকা অন্য জনশ্রুতি আছে যে, মসজিদটি কোনো মানুষের হাতে তৈরি নয়। অলৌকিকভাবে মাটি
ভেদ করে নিচ থেকে গড়ে উঠেছে। সুলতান আকবরের শাসনামলে ঈশা খাঁ ও মানসিংহের যুদ্ধ সংগঠিতকালে
মসজিদটি নির্মাণ করা হয় বলে অনেকেই ধারণা করেন। সুরকি ও ইটের সংমিশ্রণে মসজিদের মূল
স্ট্রাকচার নির্মিত হয়েছিল। যেখানে অস্পষ্টভাবে খোদাই করে লেখা আছে ১৩৪৬। পরবর্তীকালে
১৯৮৭ সালে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। সংস্কার প্রসঙ্গে মসজিদের সভাপতি মাহমুদুল আলম
বলেন, মসজিদে মূল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টার খুলে পড়ে যাচ্ছিল। সংস্কার না করলে
ভেঙে যেত। সংস্কারের ফলে মসজিদটিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সঙ্গে হারিয়ে গেছে এর প্রাচীন
সৌন্দর্য। আধুনিকায়নের ফলে ঢাকা পড়েছে প্রাচীন নিদর্শনের মূল গম্বুজটি। মোগল আমলের
তৈরি মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জানান, আধুনিক স্থাপনার কারণে এর
প্রাচীনত্ব আর বোঝা যায় না।
কাপাসিয়া উপজেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে টোক সুলতানপুর গ্রামে
অবস্থিত সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদটি দেখতে ও নামাজ পড়তে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত
থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। মানুষ এই মসজিদে নামাজ পড়ে বিভিন্ন ধরনের মানত করে।
মানতকে কেন্দ্র করে অনেকে টাকা পয়সা, মুরগি, ছাগল দান করে মসজিদে। এই মসজিদে নামাজ
পড়ে মানুষ খাস নিয়তে আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তার মনের মকসুদ পূর্ণ করেন বলে অনেকে
বিশ্বাস করেন। বর্তমানে মসজিদের পুরো অংশে একসঙ্গে ৫ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায়
করতে পারেন। মসজিদের সঙ্গেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সুলতানিয়া হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা।
প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী এখানে বিনামূল্যে লেখাপড়া করছে। মসজিদের পাশে হতদরিদ্র মানুষের
জন্য একটি কবরস্থানও রয়েছে।