ইসলামি চিন্তা
শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:২৫ এএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪ ১৩:৪০ পিএম
কুরআনে কারিমে
নাজিলকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সুরা ফাতেহা। এটি কুরআন মাজিদের নির্যাস। সুরা ফাতেহায় পরকালীন
জীবনে মুক্তি ও সাফল্যের রাজপথের কথা বলা হয়েছে। এ পথের নাম ইমান ও আমলে সালেহ (নেক
কাজ)। এর অন্য নাম সিরাতে মুস্তাকিম (সরল সোজা পথ)।
সুরা ফাতেহার
সারমর্ম হলো, বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,
অর্থনৈতিক, জাতীয় কিংবা বৈশ্বিক সবখানেই বান্দার অবস্থান কোথায় তা জানা দরকার। বান্দার
ভেতর থেকেই এর জবাব পাওয়ার চেষ্টা যদি থাকে তবে সুরা ফাতেহায় এ জিজ্ঞাসার জবাব পাওয়া
যাবে। এ সুরাকে আমরা তিন অংশে ভাগ করতে পারি। প্রথম অংশে আল্লাহর গুণ ও প্রশংসা, তারপর
যে বা যারা চাচ্ছে তার পরিচয়, সব শেষে বান্দার চাওয়া। একজন মুমিন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজে ৩২ বার সুরা ফাতেহা তেলাওয়াত করেন। সহিহ হাদিসে এ সুরাকে উম্মুল কুরআন ও উম্মুল
কিতাব বা কুরআনের সার বলে অভিহিত করা হয়েছে। গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দিক দিয়ে এ সুরার
৩০টির বেশি নাম রয়েছে।
এ সুরার গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’। সুরা ফাতেহা একটি আবেদন। দোয়ার মধ্যে মানবমনের মূল আকুতি
ধরা পড়ে। মূলত নামাজের প্রতি রাকাতে এ সুরার তেলাওয়াত বাধ্যতামূলক করে জীবনের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে লাগাতার চিন্তাভাবনা ও আল্লাহতায়ালার কাছে তা চাওয়াকে চেতনায়
বদ্ধমূল করা হয়েছে।
এ সুরায় আল্লাহপ্রথমে দোয়ার আদব শিখিয়েছেন, তারপর চাওয়ার বিষয়টি। শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও রহমতের
গুণগান, এরপর বলা হয়েছে, ‘হে মহান আল্লাহ! আমরা শুধু আপনার ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনার
থেকেই সাহায্য কামনা করি।’ অর্থাৎ ইবাদতের লক্ষ্য যেমন একমাত্র আল্লাহ, তেমন তিনি সমস্ত
চাওয়াপাওয়া ও দোয়ার লক্ষ্য। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত যেমন হারাম, তেমন অন্য কারও
কাছে চাওয়াও হারাম।
সিরাতে মুস্তাকিম
পাওয়া এবং পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার আকুতিই হলো দোয়ার মূল বিষয়। সিরাতে মুস্তাকিম পাওয়ার
কামনা যেমন এখানে প্রবল, তেমন অতি প্রবল হলো যারা পথভ্রষ্ট এবং যাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত
তাদের থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা। এখানে গুরুত্ব পেয়েছে সিরাতে মুস্তাকিম, গুরুত্ব পেয়েছে
পথভ্রষ্টতা ও পথহারা মানুষের থেকে বাঁচার বিষয়।
ইসলামি স্কলারদের
মতে, শুধু নামাজ বা ব্যক্তিগত মোনাজাতে নয়, সিরাতে মুস্তাকিম অর্জনের জন্য নিজের চেষ্টা
অব্যাহত রাখতে হবে। চেতনার রাজ্যে সিরাতে মুস্তাকিমের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। সিরাতে
মুস্তাকিমে চলার অর্থ শুধু মসজিদে যাওয়া নয়। নিছক নামাজি, হাজি ও রোজাদার হওয়া নয়।
বরং জীবনের প্রতিটি কর্মে, প্রতি মুহূর্তে সত্য পথে চলা ও সত্য পথের ওপর টিকে থাকা।
সিরাতে মুস্তাকিমে চলার আমল শুরু হয় আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর ওপর ইমান আনার মধ্য দিয়ে। আর তা শেষ হয় আল্লাহর হুকুমে আজীবন আনুগত্যের মধ্যে প্রাণত্যাগে। মানুষকে কুরআন সে পথটিই দেখায়। মানবজীবনে সিরাতে মুস্তাকিম পাওয়ার শর্ত হলো কুরআনি নির্দেশ সব সময় মেনে চলা।