মুনীরুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ১৪:১৯ পিএম
অলঙ্করন : সংগৃহীত
আরবি ১২ মাসের
সর্বশেষ মাস জিলহজ। এই মাসের প্রথম ১০টি নেক আমলের অনেক বরকত ও ফজিলত রয়েছে। জিলহজ
মাসের প্রথম ১০ রাতের ইবাদত-বন্দেগি লাইলাতুল কদরের ইবাদত-বন্দেগির সমান। কুরআন কারিমের
সুরা ফাজরে মহান আল্লাহ এই ১০ রাতের শপথ করে বলেছেন, ‘শপথ ফজরের, শপথ ১০ রাতের, শপথ
তার, যা জোড় ও বেজোড় এবং শপথ রাতের যখন তা গত হতে থাকে।’ এখানে ১০ রাত দ্বারা জিলহজ
মাসের প্রথম ১০ রাতকে বোঝানো হয়েছে। এতে কোরবানির দিনও শামিল।
প্রথম দশকে রোজার
অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর দিন ও রাতের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার
কাছে তাঁর ইবাদতের জন্য সবচেয়ে প্রিয় হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। ইবাদতের জন্য এগুলোর
চেয়ে প্রিয় আর কোনো দিন নেই। এই দিনগুলোর একেকটি রোজা এক বছর রোজা রাখার সমান, আর এই
রাতগুলোর একেকটির ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান [ফাজাইলুল আওকাত লিল বায়হাকি-৩৪৬]।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজা (জিলহজের ৯ তারিখ) আগত এবং বিগত
এক বছরের পাপ মোচন করে [সহিহ মুসলিম]।’
জিলহজ মাসের প্রথম
দশকে অন্যান্য নেক আমলেরও ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এই ১০ দিনের নেক
আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এই সময়ে তাহলিল
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আল হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি
করে পড়ো [মুসনাদে আহমাদ : ১৩২]।’
বছরে যতগুলো মর্যাদাপূর্ণ
দিন আছে এর মধ্যে এই ১০ দিনের প্রতিটি দিনই সর্বোত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোতে
নেক আমল করার জন্য তাঁর উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। উম্মতের পূর্বসূরি পুণ্যবান মুসলিমরা
এই সময়গুলোতে অধিক হারে ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন।
নফল আমল ছাড়াও
জিলহজ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফরজ বিধান রয়েছে। যেমনÑ ওমরাহ পালন, হজ পালন
ও কোরবানি করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর
হজ করা ফরজ। আর যে ব্যক্তি কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী
[সুরা : আলে ইমরান : আয়াত ৯৭]। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ থেকে অপর ওমরাহর
মাঝে সংঘটিত পাপগুলো মুছে দেওয়া হয়। আর মকবুল হজের বিনিময় নিশ্চিতভাবে জান্নাত [সহিহ
বুখারি ও মুসলিম]।’
আর ঈদের দিন বা
আইয়ামে তাশরিকে (জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ) কোরবানি করা সামর্থ্যবানদের জন্য ওয়াজিব।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন ও কোরবানি করুন [সুরা :
কাউসার : আয়াত ৩]।’ কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা সওয়াব লেখেন।
আরাফার দিন (৯
জিলহজ) ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ‘আইয়ামে তাশরিক’ তথা ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত
নামাজে একটি নির্দিষ্ট তাকবির অবশ্যই পড়তে হয়। ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর পুরুষরা
উঁচু আওয়াজে এবং নারীরা নিচু আওয়াজে এই তাকবির বলবেন। তাকবিরটি হলো ‘আল্লাহু আকবার,
আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল
হামদ।’
এ ছাড়া পুণ্যময়
এই দশকে প্রত্যেক নেক আমলের সওয়াব বিপুলভাবে বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা
অর্জনের উদ্দেশে যার যার সাধ্যমতো সৎ কাজ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
জিলহজের প্রথম
১০ দিন করণীয় আমলের পাশাপাশি কিছু বর্জনীয় কাজও রয়েছে। এই মাস শুরু হলে শরীরের অতিরিক্ত
পশম, যেমনÑ মাথার চুল, নাভির নিচের ও বগলের পশম কাটা থেকে বিরত থাকা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি জিলহজের চাঁদ দেখে এবং কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তাহলে
সে যেন কোরবানি পর্যন্ত নিজের চুল, নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকে [সহিহ মুসলিম]।’
আর যদি ৪০ দিনের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে এসব কেটে ফেলা আবশ্যক। নতুবা ১০ দিন পর কোরবানির
পর পরিষ্কার করবে।
এ ছাড়াও অন্যায়
ও পাপাচার, মাদকদ্রব্য তথা যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলো আগের নেক আমল
নষ্টের কারণ হতে পারে।