× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হতাশা সর্বদা বর্জনীয়

শাহীন হাসনাত

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৫ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সে নিজেকে অপর্যাপ্ত মনে করে। মনে হয়, যথেষ্ট ভালো নেই, যোগ্যতা নেই সুখী জীবনের, সুন্দর সম্পর্কের কিংবা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত উপভোগের। এই অনুভূতি আমাদের মনের গভীরে শিকড় গেড়ে বসে, আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয়। মূলত শৈশব, সমাজ ও শয়তানের প্রভাব আমাদের মনে এমন নেতিবাচক ধারণা গেঁথে দেয়; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মনে রাখতে হবে, আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন সর্বোত্তম আকৃতিতে। কুরআন মজিদে তিনি বলেছেন, ‘আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।’- সূরা তিন : ৪

আমাদের শরীর, মন, ব্যক্তিত্ব সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি এতে কোনো ত্রুটি রাখেননি। আমাদের চেহারা, প্রতিভা এমনকি আমাদের দুর্বলতাগুলোও আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। তাই নিজেকে অপর্যাপ্ত ভাবা মানে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অবিশ্বাস করা। এমতাবস্থায় প্রথম কাজ হলো নিজেকে ভালোবাসা, নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যদি আমরা নিজেকে গ্রহণ করতে পারি, তবে আমরা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি শোকরিয়া আদায় করতে পারি। মনে যখনই নেতিবাচক চিন্তা আসে, ধরে নেবেন এর পেছনে শয়তানের প্ররোচনা কাজ করছে। কুরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি, শয়তানের অনুসরণ করো না। কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’- সূরা ইয়াসিন : ৬০

শয়তান আমাদের মনে নিরাশা ও হতাশার বীজ বপন করে, যাতে আমরা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হই। যখন আমরা মনে করি, আমরা যথেষ্ট ভালো নেই, তখন শয়তান আমাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। এ পরিস্থিতিতে আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া অর্থাৎ তওবা-ইস্তেগফার করা, বেশি বেশি নেক আমল করা এবং শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে লড়াই করা। নিয়মিত নামাজ আদায়, দান-সদকা, কুরআন তেলাওয়াত এবং জিকির মনকে শান্ত করে এবং শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, চারপাশের মানুষ আমাদের অযোগ্য বোধ করায়। তাদের কথা, আচার-আচরণ মনে আঘাত করে। এমতাবস্থায় বুঝতে হবে, যারা আমাদের প্রতি নেতিবাচক আচরণ করে, তারা নিজেরাই দুর্বল। ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহতায়ালাকে সন্তুষ্ট করা। সেভাবেই জীবনকে গড়া ও সাজানো। এ কথা ভুলে আমরা প্রায়ই অন্যদের মতামতের ওপর ভর করে নিজেদের মূল্যায়ন করি। কিন্তু কুরআন মজিদ আমাদের শেখায়, জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কুরআন মজিদে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের সম্পদ বা সন্তান তোমাদের আমার নিকটবর্তী করে না। কিন্তু যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তারাই তাদের কাজের জন্য বহুগুণ পুরস্কার পাবে।’- সূরা সাবা : ৩৭

অন্যরা আমাদের সম্পর্কে কী ভাবে, তা নিয়ে চিন্তা করলে আমরা নিজেদের মানসিক শান্তি হারাব। তাই আমাদের মনোযোগ থাকা উচিত শুধু আল্লাহর দিকে। অন্যদের মতামত শুনতে হবে, তবে তা কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই গ্রহণ করা উচিত। এর বেশি কিছু নয়। কারণ কুরআনে কারিমে বলা হয়েছে, জীবনের প্রতিটি ঘটনা একটি পরীক্ষা। তাই জীবনে যখন আমরা দুঃখ-কষ্ট বা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হই, তখন মনে হয়, আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন না। কিন্তু কুরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, সম্পদের ক্ষতি, জীবনের ক্ষতি এবং ফসলের ক্ষতি দিয়ে। ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ দাও।’- সূরা বাকারা : ১৫৬

জীবনের প্রতিটি কষ্ট আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করার পরীক্ষা। যদি ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি, তবে আমরা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হব। আল্লাহ আমাদের কখনও এমন পরীক্ষায় ফেলেন না, যা আমরা সহ্য করতে পারি না। তাই প্রতিকূলতার মুখে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া উচিত। এটাই মুমিন মুসলমানের করণীয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা