শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালা একাকী তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন এবং তার কাছ থেকে দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব নেবেন। এ ব্যাপারে আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে আসবে একাকী।’ Ñসুরা মরিয়ম : ৯৫
বর্ণিত আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে উপস্থিত হয়ে সবাইকে তার জীবনের সব কাজের হিসাব দিতে হবে। বিশেষ করে আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে থেকে তার জীবন, যৌবন এবং সম্পদের হিসাব নেবেন। যারা দুনিয়ায় ভালো কাজ করে কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, তাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, কেবল তারাই খুব সহজে তাদের আমলনামা পেশ করতে পারবে।
আখেরাতে দুনিয়ার জীবনের আমলের হিসাব গ্রহণের জন্য অন্য কারও সাক্ষ্য প্রয়োজন হবে না, বরং সে নিজের মুখেই নিজের আমলনামা পাঠ করবে, এটাই তার হিসাবের জন্য যথেষ্ট হবে। আল্লাহ সব মানুষকেই তার আমলনামা পাঠ করার জন্য বলবেন এবং মানুষ নিজেই তার নিজের আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করবে। যদি কেউ নিজের আমলনামা পেশ করতে ইচ্ছুক না হয়, তখন (কেয়ামতের দিন) তার মুখে মোহর করে দেওয়া হবে, তখন তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তার দুনিয়ার জীবনের অন্যায় কাজের সাক্ষ্য দিতে থাকবে। দুনিয়ার জীবনের হিসাব আখেরাতে এমন সূক্ষ্ম হবে যে, মানুষ দুনিয়ায় কী করেছিল, কী বলেছিল এবং কী কল্পনা করেছিল যা তার জীবনে কাজে পরিণত করেনি, সেটাও আল্লাহ সেদিন মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেবেন। তখন মানুষ আফসোস করতে থাকবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা বলবে, হায় ধ্বংস আমাদের! কী হলো এ কিতাবের! তা ছোটবড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে এবং তারা যা করেছে, তা হাজির পাবে। আর তোমার রব কারও প্রতি জুলুম করেন না।’ Ñসুরা কাহাফ : ৪৯
দুনিয়ায় যারা অপরাধ করবে এবং অপরাধমূলক কাজের প্রেরণা দেবে, তাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা অপরাধ করবে এসব ব্যক্তির অপরাধের বোঝাও কেয়ামতে অন্যায় কাজের উদ্বুদ্ধকারীর ঘাড়ে আল্লাহ চাপিয়ে দেবেন। এসব হিসাব পরিচালনার জন্য আল্লাহর অন্য কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না, বরং তিনি নিজেই যথেষ্ট। কারণ, তিনি যখন কোনো কিছু করতে চান, শুধু হও বললেই সেটা হয়ে যায়।
এ ছাড়া মানুষের হিসাব সংরক্ষণের জন্য আল্লাহর সুনিপুণ সৃষ্টি ফেরেশতারা নিয়োজিত রয়েছে। যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়। যারা আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া অন্য কারও কথায় পরিচালিত হয় না। এসব ফেরেশতাকে দিয়ে প্রত্যেক মানুষের আমলনামা আল্লাহ সংরক্ষণ করছেন। প্রত্যেক বান্দার দুনিয়ার জীবনের সব কর্মকাণ্ড আল্লাহর কাছে লিপিবদ্ধ থাকছে এবং কেয়ামতের দিন বান্দার সামনে সেটা ফাঁস করা হবে। তখন অপরাধীদের চেহারা মলিন হবে, তারা লজ্জিত-অপমানিত হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন অনেক চেহারা হবে ভীতসন্ত্রস্ত, কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে। তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝরনা থেকে। তাদের জন্য কাঁটাবিশিষ্ট গুল্ম ছাড়া কোনো খাদ্য থাকবে না। তা মোটাতাজাও করবে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করবে না।’ Ñসুরা গাশিয়া : ২-৭
সুতরাং একজন মুমিনের করণীয় হলো, দুনিয়ায় থাকতেই আখেরাতের হিসাব দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা, আর সেভাবেই জীবনের সব কাজকর্ম পরিচালনা। মানুষ যদি দুনিয়ায় থাকতেই আখেরাতের হিসাব সহজ করার জন্য নিজের জীবনের সব আমল সংরক্ষণের চেষ্টা করে, নিজে আত্মসমালোচনা করে ভালোটা গ্রহণ করে, খারাপটা বর্জন করে তাহলে আখেরাতের হিসাবটা সহজ হবে। অতএব প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত পরকালের পাথেয় সংগ্রহে মনোনিবেশ করা। ভালো ও কল্যাণমূলক কাজ করে জীবন কাটানো। যেন পরকালের হিসাব দেওয়া সহজ হয়।