শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৫১ এএম
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হলেও তাদের স্বাধীনতা সীমাহীন নয়। মানুষ নিজের স্বাধীনতা কিংবা পছন্দ অনুযায়ী পৃথিবীতে আসেনি। মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। যখন তার অস্তিত্ব ছিল না, তখন সে ইচ্ছানুসারে অস্তিত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি। আবার মৃত্যুর সময়টাকেও মানুষ স্বাধীনভাবে পিছিয়ে দিতে পারবে না। তাই জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টুকুতে যে যা ইচ্ছা, তা করতে পারে না। মন-চায় জিন্দেগি পালন করা বা স্বেচ্ছাচারিতার নাম স্বাধীনতা নয়। এমন স্বাধীনতা ইসলাম সমর্থন করে না, এমনকি কোনো দেশের সরকারও তা মেনে নেবে না। আর আল্লাহতায়ালা তো কুরআনে কারিমে ঘোষণাই দিয়েছেন, ‘তোমরা আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ইচ্ছা ছাড়া কোনো ইচ্ছা করতে পারবে না।’ Ñসুরা আত তাকভির : ২৯
বস্তুত মহান আল্লাহ মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি, চিন্তাশক্তি, কর্মশক্তি, স্বাদ গ্রহণ ও পূরণের স্বাধীনতা দিয়েছেন, তবে সে স্বাধীনতা সীমাহীন নয়, সীমাবদ্ধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর নির্ধারিত সীমাগুলো রক্ষা করতে হবে।’ Ñসুরা তওবা : ১১২
‘আর তোমরা সীমা লঙ্ঘন কোরো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তা দেখেন।’ Ñসুরা হুদ : ১১২
‘যার ইচ্ছা সে ইমান আনুক, আর যার ইচ্ছা কাফের থাকুক, আমি জালেমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জাহান্নামের আগুন।’ Ñসুরা কাহাফ : ২৯
কুরআনে কারিমের বিভিন্ন স্থানে এভাবেই আল্লাহতায়ালা মানুষকে সতর্ক করেছেন। সুতরাং মানুষের স্বাধীন ক্ষমতার প্রতিটি ক্ষেত্রে সদ্ব্যবহার করা ভালোমানুষের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই ভালোমানুষ মন-চায় জিন্দেগি গঠন করে না, বরং রব-চায় জিন্দেগি গঠন করে এবং স্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করে না।
মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মানুষের ভেতরে দুটি সত্তা রয়েছে। একটি মন্দ, অন্যটি ভালো। ভালোমানুষ নিজের ভেতরের মন্দসত্তা মিটিয়ে ভালো প্রবৃত্তি ফুটিয়ে তোলার জন্য নিরন্তর সাধনা করে। আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ইমানি নুর পয়দা করে। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নেক আমলের সিঁড়ি বেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলে। তখনই মানুষের মধ্যে প্রকাশ পায় পবিত্র সিফাত তথা দয়ামায়া, মানবপ্রেম, মমত্ববোধ, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণ। মানুষের চারিত্রিক ও নৈতিক উন্নতি ঘটে। মন্দবৃত্তির দোষ তথা হিংসা-বিদ্বেষ, ঈর্ষা, কাম, ক্রোধ, লোভ-মোহ, ইত্যাদি দূরীভূত হয়। মানুষ হয় বড় মনের প্রকৃত ভালোমানুষ। দয়াময় আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। রোজ হাশরে আল্লাহতায়ালা তাদের বিজয়ী ঘোষণা করবেন। ‘যে আত্মশুদ্ধি লাভ করেছে নিশ্চয়ই সে সফলকাম বা বিজয়ী হয়েছে।’ Ñসুরা আলা : ১৪
‘(বিচার দিবসে) কারও প্রতি অবিচার করা হবে না এবং তোমাদের কেবল তারই প্রতিদান প্রদান করা হবে (ভালোমন্দ কর্ম) যা তোমরা করতে।’ Ñসুরা ইয়াসিন : ৫৪
মানুষকে সেদিন তার ভালোমন্দ কর্মের তিল তিল করে হিসাব দিতে হবে। সেদিন হবে মানুষের জন্য মহাপরাজয় দিবস বা মহান বিজয় দিবস। ‘স্মরণ করো সেদিন তিনি (আল্লাহ) তোমাদিগকে সমবেত করবেন সমাবেশ দিবসে, সেদিন হবে লাভ-লোকসানের দিন।’ Ñসুরা তাগাবুন : ৯
‘নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান কেয়ামত দিবসেই পাবে। অতএব যাকে দোজখ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, প্রকৃতপক্ষে সে-ই পূর্ণ সফলকাম বা মহাবিজয়ী।’ Ñসুরা আলে ইমরান : ১৮৫
এ বিজয় ক্ষণিকের সীমাবদ্ধ বিজয় বা রাষ্ট্রীয় বিজয় নয়, জীবনের চূড়ান্ত মহাবিজয়, অন্তকালের বিজয়। এমন ভালোমানুষগুলো প্রেমভরা দরদি কণ্ঠে ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমান, ইয়া রহিম বলে ডাক দিলে আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন। ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ Ñসুরা মুমিন : ৬০