শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
মহান আল্লাহ পৃথিবীতে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করার এবং পাপ পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের নির্দেশ হলো ব্যক্তি নিজে পাপ করবে না, সক্ষমতা থাকলে অন্যকেও তা করতে দেবে না এবং পাপের প্রসার ঘটাবে না। কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজে পাপ কাজে লিপ্ত হয় এবং তার প্রসার ঘটায়, তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ Ñসুরা নুর : ১৯
বলা হয়, সমাজে অন্যায় ও অপরাধ বিস্তারে নেতৃস্থানীয় মানুষই বেশি দায়ী। কেননা মানুষ তাদের ভয় পায় এবং তারা কোনো অন্যায় করলে সেটা সমাজে বৈধতা লাভ করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই তখন তার সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিদের সৎ কাজ করার আদেশ দিই, কিন্তু তারা সেখানে অসৎ কাজ করে। এরপর তার জন্য শাস্তি ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায় এবং আমি তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করি।’ Ñসুরা বনি ইসরাইল : ১৬
পাপ প্রসারের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর ফলে পৃথিবীতে নানাবিধ বিপর্যয় দেখা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ Ñসুরা আর রুম : ৪১
কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যারা পাপ কাজ করে এবং পাপের প্রসার ঘটায় পরকালে তারা ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করবে। অন্যদিকে পাপের প্রসার সমাজ ও জাতির পতন ত্বরান্বিত করে। আর যখন কোনো সমাজের সর্বস্তরে পাপ বিস্তার করে তখন আল্লাহতায়ালা তাদের সমূলে ধ্বংস করেন। যেমনটি হজরত নুহ (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন আমার আদেশ এলো, তখন আমি জনপদকে উল্টিয়ে দিলাম এবং তাদের ওপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম প্রস্তর কঙ্কর, যা তোমার প্রতিপালকের কাছে চিহ্নিত ছিল। এটা জালেমদের থেকে দূরে নয়।’ Ñসুরা হুদ : ৮২-৮৩
কেউ গোপনে কোনো পাপ করলে বা পাপের প্রসার ঘটালেও আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলো, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা আর পাপ, অসঙ্গত বিরোধিতা এবং কোনো কিছুকে আল্লাহর শরিক করা; যার কোনো সনদ তিনি প্রেরণ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা তোমরা জানো না।’ Ñসুরা আরাফ : ৩৩
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাপের প্রসার রোধ করে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মতো, যারা লটারির মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল ওপরের তলায় আর কেউ নিচের তলায়। (পানির ব্যবস্থা ছিল ওপরের তলায়) কাজেই নিচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহের জন্য ওপরের তলার লোকদের ডিঙিয়ে যেত। তখন নিচতলার লোকেরা বলল, ওপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নিই (তবে ভালো হয়)। এ অবস্থায় তারা যদি এদের আপন মর্জির ওপর ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে) তবে তারা এবং সবাই রক্ষা পাবে।’
Ñসহি বোখারি : ২৪৯৩