তারিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৪ পিএম
নোয়াখালী জেলার
উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনার অন্যতম বজরা শাহি মসজিদ। মসজিদটির অবস্থান নোয়াখালী
সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে বজরা গ্রামে। চারপাশ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, মসজিদের প্রবেশপথটি
পুবদিকে। মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায়, সম্রাট মোহাম্মদ শাহের রাজত্বকালে
১৭৪১ সালে আমানউল্লাহ নামক এক ব্যক্তি ৩০ একরের একটি জমিতে এক বিশাল দিঘির পাশে মসজিদটি
গড়ে তোলেন। দিল্লির শাহি জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে আদল দেওয়া হয়। পরে ১৯১১ থেকে ১৯২৮
সালের মাঝামাঝি বজরা জমিদার খানবাহাদুর আলী আহমদ ও খানবাহাদুর মুজির উদ্দিন আহমদ মসজিদটি
মেরামত এবং সিরামিকের মোজাইক দিয়ে সজ্জিত করেন।
মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে
লম্বা। বাইরের চার কোনায় অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। মসজিদের পুবে তিনটি, উত্তরে
ও দক্ষিণে একটি করে মোট পাঁচটি দরজা রয়েছে। দরজা বাইরের দিকে অবিক্ষিপ্ত এবং দজার
উভয় পাশে সরু মিনার রয়েছে। পুবদিকের তিনটি দরজা বরাবর কিবলা দেয়াল রয়েছে, যার অভ্যন্তরে
রয়েছে তিনটি মিহরাব। মাঝের মিহরাবটি অন্য দুটির থেকে অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের অভ্যন্তরীণ
দুটি কক্ষ আছে, যা বহু খাঁজবিশিষ্ট আড়াআড়ি খিলান দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। ছাদের ওপর
তিনটি কন্দাকৃতির গম্বুজ আছে, যা অষ্টকোনাকার। এগুলোর শীর্ষ পদ্ম ও কলস চূড়া দ্বারা
সজ্জিত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত মসজিদটির ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের
জন্য ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত হয়।