তারিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৪ ১৫:০৯ পিএম
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের প্রাচীন মসজিদ কুসুম্বা জামে মসজিদ। আত্রাই নদীর পশ্চিম তীরে পাথরের তৈরি ধূসর বর্ণের মসজিদটির ছবি রয়েছে ৫ টাকার নোটে। আফগানি শাসনামলের শুর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে হিজরি ৯৬৬ সালে (১৫৫৮-১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দ) সুলায়মান নামে একজন মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৫৮ ও প্রস্থে ৪২ ফুট। দুই সারিতে ছয়টি গোলাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের গায়ে রয়েছে লতাপাতার নকশা। প্রাচীরঘেরা মসজিদটির প্রধান ফটকে প্রহরীচৌকি ছিল। মসজিদটিতে ইটের গাঁথুনি, সামান্য বাঁকানো কার্নিশ ও সংলগ্ন আটকোনা বুরুজ। এগুলো থেকে মসজিদের স্থাপত্যে বাংলা স্থাপত্যরীতির প্রভাব পাওয়া যায়। মসজিদের মূল গাঁথুনি ইটের হলেও এর সম্পূর্ণ দেয়াল এবং ভেতরের খিলানগুলো পাথরের আস্তরণে ঢাকা। মসজিদের স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও দেয়ালের জালি নকশা পর্যন্ত পাথরের। মসজিদটি আয়তাকার এবং এতে রয়েছে তিনটি বে ও দুটি আইল। এর পূর্ব প্রান্তে তিনটি এবং উত্তর-দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ। মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দিকের দেয়ালের থেকে আলাদা। পশ্চিম দেয়ালের দক্ষিণ-পুব দিকে এবং মাঝামাঝি প্রবেশপথ বরাবর দুটি মিহরাব রয়েছে যা মেঝের সমান্তরাল। উত্তর-পশ্চিম কোণের বে-তে মিহরাবটি একটি উঁচু বেদির ওপর বসানো। মোট মিহরাব তিনটি, সবকটি কালো পাথরে তৈরি। মসজিদটির সামনে ২৫.৮৩ একর আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় রয়েছে। মিহরাব আঙুরগুচ্ছ ও লতাপাতার নকশা খোদিত।
১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে
মসজিদের তিনটি গম্বুজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংস্কার করে।
২০১৭ সালে মসজিদের চারদিকে এবং পুব পাশে দিঘির পারে ফুলের বাগান নির্মাণ, আলোকসজ্জার
কাজ করা হয়।