শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৪ পিএম
হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। হাদিসের ভাষায়, শাহরুল্লাহ আলমুহাররম। আল্লাহতায়ালা বছরের যে কটি মাসকে বিশেষ মর্যাদায় মহিমান্বিত করেছেন, মহররম তার অন্যতম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যেদিন আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহর কাছে তার বিধানমতে বারোটি। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সহজ-সরল দীন (-এর দাবি), অতএব তোমরা এ দিনগুলোয় নিজের ওপর জুলুম কোরো না।’ Ñসুরা তওবা : ৩৬
এ চার মাস কী
কী? হাদিস শরিফে তা বলে দেওয়া হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, সময়ের হিসাব যথাস্থানে ফিরে
এসেছে, আসমান-জমিনের সৃষ্টির সময় যেমন ছিল। (কারণ, জাহেলি যুগে আরবরা নিজেদের স্বার্থ
ও মর্জিমতো মাস-বছরের হিসাব কমবেশি ও আগপিছ করত।) বারো মাসে এক বছর, এর মধ্য থেকে চারটি
মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিকÑজিলকদ, জিলহজ ও মহররম। আরেকটি হলো রজব, যা জমাদিউস
সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস। Ñসহিহ বোখারি : ৪৬৬২
হাদিসে মহররমকে
শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সবচে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।
আর ফরজ নামাজের পর সবচে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদের নামাজ)।’ Ñসহিহ মুসলিম
: ১১৬৩
সব মাসই তো আল্লাহর,
তার পরও মহররমকে বিশেষভাবে ‘আল্লাহর মাস’ বলে ব্যক্ত করার মাঝে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।
যেমন পৃথিবীর সব মসজিদ আল্লাহর ঘর। কিন্তু কাবা শরিফকে বিশেষভাবে বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর
ঘর বলার হেকমত কী? কারণ এর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। তেমন বছরের অন্যান্য মাস অপেক্ষা মহররমের
রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
মহররম ঘিরে রয়েছে
শরিয়তের সুন্দর সুন্দর বিধান ও আমল। ফলে দীনি দায়িত্ববোধ থেকে হিজরি মাস ও বর্ষের গণনা
এবং এর শুরু-শেষের হিসাবের প্রতি যত্নবান হওয়া মুমিনের জন্য সবিশেষ কাম্য। কুরআন মজিদে
ইরশাদ হয়েছে, ‘লোকেরা আপনার (হে নবী) কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি তাদের
বলে দিন, এটা মানুষের (বিভিন্ন কাজকর্মের) হিসাব এবং হজের সময় নির্ধারণ করার জন্য।’
Ñসুরা বাকারা : ১৮৯
এ মাসে বেশ কয়েকটি
আমলের কথা বলা হয়েছে। এর অন্যতম হলো নফল রোজা। যে হাদিস লেখার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখান থেকে মহররমের বিষয়ে দুটি কথা পাওয়া যায়Ñএক. মহররম আল্লাহর মাস। এটা সম্মানিত
ও মহিমান্বিত মাস। দুই. এ মাসের সম্মান রক্ষা এবং এ থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম
হচ্ছে, এ মাসে রোজা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া।
কাজেই মহররমে
রোজা রাখার প্রতি মনোযোগী হওয়া। বিশেষ করে ১০ মহররম আশুরার রোজার কথা তো হাদিসে গুরুত্বের
সঙ্গেই উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসে তওবার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। যদিও তওবা-ইসতিগফার
যেকোনো সময়ের আমল। তবে কিছু কিছু মুহূর্ত এমন রয়েছে, যখন তওবার পরিবেশ আরও অনুকূল হয়।
মহররমের এ মাসটি বিশেষ করে এর ১০ তারিখ এমনই একটি উপযুক্ত সময়।